ঢাকা ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৩ মার্চ থেকে ঈদযাত্রার ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু যুদ্ধের প্রভাব বাজারে, ভরিপ্রতি সোনা ২ লাখ ৭৪ হাজার ছাড়াল কোন কৌশলে এগোতে পারে ইরান: বিশ্লেষকের চোখে সম্ভাব্য পাল্টা পরিকল্পনা অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রীর মৃত্যুর খবর, পরিবারে শোকের ছায়া মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে: ইরানে হামলা, পাল্টা আঘাতে কাঁপল চার দেশ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী জামায়াতের ইফতার মাহফিলে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী বাঁচা-মরার ম্যাচে পাকিস্তানের একাদশ নিয়ে বিতর্ক, পরামর্শ দিচ্ছেন তারকারা মধ্যরাত থেকে পদ্মা-মেঘনায় দুই মাস মাছ ধরা নিষিদ্ধ পিলখানার হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ এখন স্পষ্ট বললেন প্রধানমন্ত্রী

নির্বাচনের সময় জানার পর দাতাদের অর্থ ছাড় শুরু: অর্থ উপদেষ্টা

বাজেট সহায়তায় তৎপর আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য সংস্থা

জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় জানার পর আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলো বাজেট সহায়তার অর্থ ছাড় শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় নিয়ে অনিশ্চয়তা কেটে যাওয়ায় দাতারা স্বস্তিতে রয়েছে এবং তারা অর্থ ছাড়ের ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

বুধবার (২৫ জুন) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য দেন।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “আইএমএফ ঋণের চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তি অনুমোদনের আগে নির্বাচন বিষয়ে নিশ্চিত হতে চেয়েছিল। আমরা তাদের জানিয়েছি, নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হবে। এর পরপরই তারা অর্থ ছাড়ের সিদ্ধান্ত নেয়।”

উল্লেখ্য, সোমবার (২৩ জুন) আইএমএফের নির্বাহী বোর্ড ১৩৩ কোটি ৭০ লাখ ডলারের ঋণ ছাড়ের অনুমোদন দেয়। এর আগে বিশ্বব্যাংক ৫০ কোটি ডলার, এডিবি ৯০ কোটি ডলার এবং এআইআইবি ৪০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা অনুমোদন করেছে, যা ৩০ জুনের মধ্যে ছাড় হওয়ার কথা রয়েছে।

আইএমএফ এক বিবৃতিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল- এ বিষয়ে জানতে চাইলে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, “রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্থনৈতিক সংস্কার ও বিনিয়োগ পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন যেহেতু নির্বাচনের সময় নির্ধারিত হয়েছে, দাতা সংস্থাগুলো অনেকটাই সন্তুষ্ট।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে অর্থনৈতিক সংস্কারের অগ্রগতি নিয়ে দাতা সংস্থাগুলোর মধ্যে একটি ইতিবাচক মনোভাব দেখা যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় একের পর এক সংস্থা বাজেট সহায়তা অনুমোদন দিয়েছে। এখন আর কোনো প্রতিষ্ঠান অর্থ ছাড় আটকে রাখেনি।”

অর্থ উপদেষ্টা মনে করেন, বর্তমানে ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটি মোটামুটি আস্থা ফিরে এসেছে। তিনি বলেন, “বিনিময় হার উন্মুক্ত করার সময় আমাদের মধ্যে একটা শঙ্কা ছিল। পাকিস্তানের মতো অর্থনৈতিক বিপর্যয় হবে কি না তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম। তবে তা হয়নি। এটা বড় স্বস্তির বিষয়।”

তিনি জানান, বিদেশি বিনিয়োগে এখনও কিছুটা ধীরগতি রয়েছে, তবে সামগ্রিক অর্থনীতির সূচকগুলো ইতিবাচক। “বাজেট সহায়তা আসায় রিজার্ভ বেড়েছে, রপ্তানিও ভালো করছে, রেমিট্যান্সও ইতিবাচক ধারায় রয়েছে,”- বলেন সালেহউদ্দিন।

সৌদি আরব সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “সাধারণ প্রবাসী বাংলাদেশিরা এখন রেমিট্যান্স পাঠাতে বেশি উৎসাহী হচ্ছেন। তারা মনে করছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আসার পর টাকার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এসেছে। আগে তারা জানতেন না, টাকা পাঠালে কোথায় যায়, কীভাবে ব্যবহৃত হয়।”

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালী নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও বাংলাদেশের ওপর এর তেমন কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি বলে জানান অর্থ উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, “যুদ্ধের মাঝেও আমরা দরপত্রের মাধ্যমে জ্বালানির দাম ৫ থেকে ১০ ডলার কমিয়ে আনতে পেরেছি। এতে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। এটি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একটি বড় অর্জন।”

তবে সারের দাম কিছুটা বেড়েছে বলে তিনি জানান। “মরক্কো ও তিউনিসিয়া থেকে আমদানি করা সারের দাম কিছুটা বাড়লেও, ওই সময় বিকল্প পথ ছিল না,”- বলেন তিনি।

 

নতুনকথা/এএস

ট্যাগস :

৩ মার্চ থেকে ঈদযাত্রার ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু

নির্বাচনের সময় জানার পর দাতাদের অর্থ ছাড় শুরু: অর্থ উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০৪:৩২:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫

বাজেট সহায়তায় তৎপর আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য সংস্থা

জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় জানার পর আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলো বাজেট সহায়তার অর্থ ছাড় শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় নিয়ে অনিশ্চয়তা কেটে যাওয়ায় দাতারা স্বস্তিতে রয়েছে এবং তারা অর্থ ছাড়ের ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

বুধবার (২৫ জুন) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য দেন।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “আইএমএফ ঋণের চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তি অনুমোদনের আগে নির্বাচন বিষয়ে নিশ্চিত হতে চেয়েছিল। আমরা তাদের জানিয়েছি, নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হবে। এর পরপরই তারা অর্থ ছাড়ের সিদ্ধান্ত নেয়।”

উল্লেখ্য, সোমবার (২৩ জুন) আইএমএফের নির্বাহী বোর্ড ১৩৩ কোটি ৭০ লাখ ডলারের ঋণ ছাড়ের অনুমোদন দেয়। এর আগে বিশ্বব্যাংক ৫০ কোটি ডলার, এডিবি ৯০ কোটি ডলার এবং এআইআইবি ৪০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা অনুমোদন করেছে, যা ৩০ জুনের মধ্যে ছাড় হওয়ার কথা রয়েছে।

আইএমএফ এক বিবৃতিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল- এ বিষয়ে জানতে চাইলে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, “রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্থনৈতিক সংস্কার ও বিনিয়োগ পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন যেহেতু নির্বাচনের সময় নির্ধারিত হয়েছে, দাতা সংস্থাগুলো অনেকটাই সন্তুষ্ট।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে অর্থনৈতিক সংস্কারের অগ্রগতি নিয়ে দাতা সংস্থাগুলোর মধ্যে একটি ইতিবাচক মনোভাব দেখা যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় একের পর এক সংস্থা বাজেট সহায়তা অনুমোদন দিয়েছে। এখন আর কোনো প্রতিষ্ঠান অর্থ ছাড় আটকে রাখেনি।”

অর্থ উপদেষ্টা মনে করেন, বর্তমানে ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটি মোটামুটি আস্থা ফিরে এসেছে। তিনি বলেন, “বিনিময় হার উন্মুক্ত করার সময় আমাদের মধ্যে একটা শঙ্কা ছিল। পাকিস্তানের মতো অর্থনৈতিক বিপর্যয় হবে কি না তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম। তবে তা হয়নি। এটা বড় স্বস্তির বিষয়।”

তিনি জানান, বিদেশি বিনিয়োগে এখনও কিছুটা ধীরগতি রয়েছে, তবে সামগ্রিক অর্থনীতির সূচকগুলো ইতিবাচক। “বাজেট সহায়তা আসায় রিজার্ভ বেড়েছে, রপ্তানিও ভালো করছে, রেমিট্যান্সও ইতিবাচক ধারায় রয়েছে,”- বলেন সালেহউদ্দিন।

সৌদি আরব সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “সাধারণ প্রবাসী বাংলাদেশিরা এখন রেমিট্যান্স পাঠাতে বেশি উৎসাহী হচ্ছেন। তারা মনে করছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আসার পর টাকার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এসেছে। আগে তারা জানতেন না, টাকা পাঠালে কোথায় যায়, কীভাবে ব্যবহৃত হয়।”

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালী নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও বাংলাদেশের ওপর এর তেমন কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি বলে জানান অর্থ উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, “যুদ্ধের মাঝেও আমরা দরপত্রের মাধ্যমে জ্বালানির দাম ৫ থেকে ১০ ডলার কমিয়ে আনতে পেরেছি। এতে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। এটি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একটি বড় অর্জন।”

তবে সারের দাম কিছুটা বেড়েছে বলে তিনি জানান। “মরক্কো ও তিউনিসিয়া থেকে আমদানি করা সারের দাম কিছুটা বাড়লেও, ওই সময় বিকল্প পথ ছিল না,”- বলেন তিনি।

 

নতুনকথা/এএস