ঢাকা ০২:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজের আহ্বান রাষ্ট্রপতির ঈদুল আজহায় তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানালেন নরেন্দ্র মোদি গোপালগঞ্জে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে ৫ নিহত, আহত অন্তত ১০ ঈদুল আজহা: ত্যাগের চেতনায় মানবতার পুনর্জাগরণ ঈদুল আজহায় দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন ‘নতুন কথা’র সম্পাদক মাজেদা রহমান শারমিন জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত আত্মত্যাগের বার্তা নিয়ে এলো পবিত্র ঈদুল আজহা নজরুল জন্মজয়ন্তীতে যোগ দিতে আজ ময়মনসিংহে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নিষ্পাপ মুখগুলোর নীরব আর্তনাদ ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবির পরিচালক হচ্ছেন ৪ জন

মুরাদনগরে নারীকে ধর্ষণ, বিবস্ত্র ভিডিও ভাইরাল: গ্রেপ্তার ৫

কুমিল্লার মুরাদনগরে এক নারীকে ধর্ষণ এবং তার বিবস্ত্র ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার ভোরে রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে ধর্ষণ মামলার একমাত্র আসামি ফজর আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি উপজেলার বাহেরচর গ্রামের সহিদ মিয়ার ছেলে।

এর আগে, শনিবার রাতে এবং রোববার সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ভিডিও ধারণ ও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে আরও চারজনকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- একই এলাকার আবদুল হান্নানের ছেলে সুমন, জাফর আলীর ছেলে রমজান, মো. আলমের ছেলে মো. আরিফ এবং তালেম হোসেনের ছেলে মো. অনিক।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন রোববার সকালে এক ক্ষুদেবার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) রাতে বাহেরচর পাঁচকিত্তা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই নারীর অভিযোগ, ঘটনার রাতে বাবা-মা বাড়িতে না থাকায় ফজর আলী তার ঘরের দরজা ভেঙে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ঘটনার সময় আশপাশের কয়েকজন যুবক সেখানে উপস্থিত হয়ে ভুক্তভোগী নারীকে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখতে পেয়ে জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ করে। পরদিন শনিবার রাতে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ৫১ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, ১০-১২ জন যুবক ওই নারীকে বিবস্ত্র করে মারধর করছে। এ সময় প্রাণভিক্ষা চাইলেও কেউ তাকে রক্ষা করেনি।

মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান জানান, ধর্ষণের ঘটনায় ফজর আলীর বিরুদ্ধে মামলা হলেও, নির্যাতনের ভিডিও ধারণ ও ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি প্রথমে পুলিশের কাছে গোপন ছিল। তবে ভিডিও ভাইরালের পর তদন্তে নেমে পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন বলেন, “ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি ফজর আলীকে আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ভিডিও ছড়ানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ভুক্তভোগী ওই নারীর স্বামী পাঁচ বছর ধরে প্রবাসে রয়েছেন। তাদের দুটি সন্তান আছে।

 

নতুনকথা/এএস

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

মুরাদনগরে নারীকে ধর্ষণ, বিবস্ত্র ভিডিও ভাইরাল: গ্রেপ্তার ৫

আপডেট সময় ১১:০০:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ জুন ২০২৫

কুমিল্লার মুরাদনগরে এক নারীকে ধর্ষণ এবং তার বিবস্ত্র ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার ভোরে রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে ধর্ষণ মামলার একমাত্র আসামি ফজর আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি উপজেলার বাহেরচর গ্রামের সহিদ মিয়ার ছেলে।

এর আগে, শনিবার রাতে এবং রোববার সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ভিডিও ধারণ ও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে আরও চারজনকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- একই এলাকার আবদুল হান্নানের ছেলে সুমন, জাফর আলীর ছেলে রমজান, মো. আলমের ছেলে মো. আরিফ এবং তালেম হোসেনের ছেলে মো. অনিক।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন রোববার সকালে এক ক্ষুদেবার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) রাতে বাহেরচর পাঁচকিত্তা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই নারীর অভিযোগ, ঘটনার রাতে বাবা-মা বাড়িতে না থাকায় ফজর আলী তার ঘরের দরজা ভেঙে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ঘটনার সময় আশপাশের কয়েকজন যুবক সেখানে উপস্থিত হয়ে ভুক্তভোগী নারীকে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখতে পেয়ে জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ করে। পরদিন শনিবার রাতে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ৫১ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, ১০-১২ জন যুবক ওই নারীকে বিবস্ত্র করে মারধর করছে। এ সময় প্রাণভিক্ষা চাইলেও কেউ তাকে রক্ষা করেনি।

মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান জানান, ধর্ষণের ঘটনায় ফজর আলীর বিরুদ্ধে মামলা হলেও, নির্যাতনের ভিডিও ধারণ ও ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি প্রথমে পুলিশের কাছে গোপন ছিল। তবে ভিডিও ভাইরালের পর তদন্তে নেমে পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন বলেন, “ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি ফজর আলীকে আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ভিডিও ছড়ানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ভুক্তভোগী ওই নারীর স্বামী পাঁচ বছর ধরে প্রবাসে রয়েছেন। তাদের দুটি সন্তান আছে।

 

নতুনকথা/এএস