ঢাকা ১১:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চীনের কাছেও হার, বিদায়ের শঙ্কায় বাংলাদেশ নারী দল গণভোট বাতিলের সঙ্গে জুলাই সনদের কোনো সম্পর্ক নেই: আইনমন্ত্রী ইরান ইস্যুতে হোয়াইট হাউস-পেন্টাগন দ্বন্দ্ব, যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন সংকটের আভাস কুষ্টিয়ায় ১৮ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু, হামের উপসর্গে উদ্বেগ বাড়ছে একদিনে দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, হরমুজ অঞ্চলে উত্তেজনা জনবল সংকটে অচল আইসিইউ, রাজশাহী বিভাগে বাড়ছে সংকট, চাপের মুখে রামেক শ্রীলঙ্কার কাছে অপ্রত্যাশিত হার, কঠিন সমীকরণে বাংলাদেশ হকি দল কুষ্টিয়ায় হামে আক্রান্ত হয়ে আট মাস বয়সী শিশুর মৃত্যু ২০০ টাকার নিচে নেই মাছ, ঈদের পরও চাপে নিত্যপণ্যের বাজার হাজারীবাগে ভাড়া বাসা থেকে ঢাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যু

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১১:৩৪:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৫০ বার পড়া হয়েছে

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক। বিএনপির মিডিয়া সেল এক শোকবার্তায় জানায়, “বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ সকাল ৬টায় ইন্তেকাল করেছেন।”

সোমবার সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাঁর শারীরিক অবস্থাকে ‘চরম সংকটাপন্ন’ বলে জানায়। রাতের দিকে অবস্থার আরও অবনতি হলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে ছুটে যান। রাত ২টার পর চিকিৎসকরা জানান, তিনি অত্যন্ত সঙ্কটময় সময় অতিক্রম করছেন। কয়েক ঘণ্টা পর ভোরে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, কিডনি, ফুসফুস, ডায়াবেটিসসহ একাধিক জটিল রোগে ভুগছিলেন। গত বছরের জুনে তাঁর হৃদপিণ্ডে পেসমেকার বসানো হয়। শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় গত ২৩ নভেম্বর তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

বাংলাদেশসহ যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাঁর চিকিৎসা তদারকি করছিল।

১৯৪৫ সালে জলপাইগুড়িতে জন্ম নেওয়া খালেদা জিয়া ১৯৮৪ সালে বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি পরিচিতি পান ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে। তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি এবং হন বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী।

২০১৮ সালে দুর্নীতির মামলায় কারাদণ্ডের পর দীর্ঘ সময় কারাগার ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্রপতির নির্বাহী আদেশে সব দণ্ড থেকে মুক্তি পান।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি দীর্ঘ ও প্রভাবশালী অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। তাঁর মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নতুন কথা/এসআর

 

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের কাছেও হার, বিদায়ের শঙ্কায় বাংলাদেশ নারী দল

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যু

আপডেট সময় ১১:৩৪:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক। বিএনপির মিডিয়া সেল এক শোকবার্তায় জানায়, “বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ সকাল ৬টায় ইন্তেকাল করেছেন।”

সোমবার সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাঁর শারীরিক অবস্থাকে ‘চরম সংকটাপন্ন’ বলে জানায়। রাতের দিকে অবস্থার আরও অবনতি হলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে ছুটে যান। রাত ২টার পর চিকিৎসকরা জানান, তিনি অত্যন্ত সঙ্কটময় সময় অতিক্রম করছেন। কয়েক ঘণ্টা পর ভোরে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, কিডনি, ফুসফুস, ডায়াবেটিসসহ একাধিক জটিল রোগে ভুগছিলেন। গত বছরের জুনে তাঁর হৃদপিণ্ডে পেসমেকার বসানো হয়। শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় গত ২৩ নভেম্বর তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

বাংলাদেশসহ যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাঁর চিকিৎসা তদারকি করছিল।

১৯৪৫ সালে জলপাইগুড়িতে জন্ম নেওয়া খালেদা জিয়া ১৯৮৪ সালে বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি পরিচিতি পান ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে। তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি এবং হন বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী।

২০১৮ সালে দুর্নীতির মামলায় কারাদণ্ডের পর দীর্ঘ সময় কারাগার ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্রপতির নির্বাহী আদেশে সব দণ্ড থেকে মুক্তি পান।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি দীর্ঘ ও প্রভাবশালী অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। তাঁর মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নতুন কথা/এসআর