ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশে প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। প্রচারণা চলাকালে সভা-সমাবেশ, গণসংযোগ ও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার কর্মসূচিতে ব্যস্ত হয়ে উঠবে নির্বাচনী মাঠ। এই ব্যস্ততার সঙ্গে বাড়বে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চ্যালেঞ্জও।
সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা, হামলা-পাল্টা হামলা কিংবা সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি অপতথ্য ও গুজব ছড়ানোর ঝুঁকিও রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার ঠেকানো, সহিংসতা প্রতিরোধ এবং দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ, র্যাব ও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচনী মাঠের পরিবেশ স্থিতিশীল রাখতে তারা প্রস্তুত রয়েছেন এবং মাঠে থাকবে জোরালো নজরদারি।
বুধবার রাতে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেন, মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ বাড়ানোই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হলে পুলিশের দায়িত্ব ও ব্যস্ততা স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে। সংঘাত ও সহিংসতা যেন না ঘটে, সে বিষয়ে এখন থেকেই আরও সতর্ক থাকতে হবে। এজন্য নজরদারি বাড়ানো হবে এবং পুলিশের উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান করা হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময় আলাদা কোনো পুলিশিং ব্যবস্থা নয়, বরং আমরা যেসব কার্যক্রম নিয়মিত করে আসছি, সেগুলো আরও জোরালোভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। পুলিশি টহল বাড়ানো হবে। যখন যেখানে প্রয়োজন হবে, সেখানে পুলিশ তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে।
র্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকব। টহল কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে। অপতথ্য ও গুজব মোকাবিলায় র্যাবের সাইবার টিম সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের বিষয়ে র্যাব সদস্যদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সীতাকুন্ডে র্যাবের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করা হবে। এ ঘটনায় সব বাহিনীকে নিয়ে সমন্বিত অভিযান চালানো হবে।
এদিকে আরও দুজন পুলিশ কর্মকর্তা ও একজন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্বাচন সামনে রেখে প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ড্রোন ও বডি-ওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং মাঠে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।
অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার রোধে বিশেষ অভিযান চালানো হবে। পাশাপাশি কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া শীর্ষ ও দাগি অপরাধী, জামিনে বের হওয়া সন্ত্রাসী এবং নির্বাচন প্রভাবিত করতে পারে- এমন ব্যক্তিদের ওপর থাকবে কড়া নজরদারি। এ বিষয়ে সব জেলার পুলিশ সুপার ও মহানগর পুলিশ কমিশনারদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচন ঘিরে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মাঠ প্রশাসনকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আগাম প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। ভোটকেন্দ্র ও ভোটের সরঞ্জামের নিরাপত্তায় থাকবে আলাদা নজরদারি। থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র, কারাগার ভেঙে পালিয়ে যাওয়া অপরাধী কিংবা সক্রিয় সন্ত্রাসীরা যেন নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব ফেলতে না পারে- সে লক্ষ্যেই সার্বক্ষণিক সতর্ক রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নতুন কথা/এসআর
নিজস্ব প্রতিবেদক: 










