ঢাকা ০২:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজের আহ্বান রাষ্ট্রপতির ঈদুল আজহায় তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানালেন নরেন্দ্র মোদি গোপালগঞ্জে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে ৫ নিহত, আহত অন্তত ১০ ঈদুল আজহা: ত্যাগের চেতনায় মানবতার পুনর্জাগরণ ঈদুল আজহায় দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন ‘নতুন কথা’র সম্পাদক মাজেদা রহমান শারমিন জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত আত্মত্যাগের বার্তা নিয়ে এলো পবিত্র ঈদুল আজহা নজরুল জন্মজয়ন্তীতে যোগ দিতে আজ ময়মনসিংহে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নিষ্পাপ মুখগুলোর নীরব আর্তনাদ ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবির পরিচালক হচ্ছেন ৪ জন

চানখারপুলে ছয় হত্যাকাণ্ড: সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুরসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখারপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় আরও পাঁচ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই আসামি হলেন ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম।

এ ছাড়া রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুলকে ছয় বছরের কারাদণ্ড, শাহবাগ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেনকে চার বছরের কারাদণ্ড এবং কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলামকে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল।

মামলার আট আসামির মধ্যে বর্তমানে চারজন গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন- আরশাদ হোসেন, সুজন মিয়া, ইমাজ হোসেন ইমন ও নাসিরুল ইসলাম। রায় ঘোষণার সময় আজ সকালে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। অন্যদিকে সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, আখতারুল ইসলাম, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ও মোহাম্মদ ইমরুল এখনো পলাতক রয়েছেন।

রায়ে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেন, চানখারপুলে ছয়জনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। পাশাপাশি ওয়্যারলেস বার্তার মাধ্যমে অধস্তন পুলিশ সদস্যদের মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান- এমন অভিযোগও সাক্ষ্য-প্রমাণে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এটি প্রথম বিচারাধীন মামলা হলেও রায়ের দিক থেকে দ্বিতীয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের দিন চানখারপুল এলাকায় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান ছয়জন। নিহতরা হলেন- শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, ইয়াকুব, রাকিব হাওলাদার, ইশমামুল হক ও মানিক মিয়া।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা ছাড়াও মোট ২৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে প্রমাণ হিসেবে ১৯টি ভিডিও, পত্রিকার ১১টি প্রতিবেদন, দুটি অডিও, বিভিন্ন বই ও প্রতিবেদনসহ ছয়টি মৃত্যুসনদ জমা দেয়।

রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে গত ২৪ ডিসেম্বর রায়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। যদিও ২০ জানুয়ারি রায় ঘোষণার কথা থাকলেও প্রস্তুত না থাকায় তা পিছিয়ে আজকের দিন ধার্য করা হয়। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে সোমবার এই বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল।

 

নতুন কথা/এসআর

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

চানখারপুলে ছয় হত্যাকাণ্ড: সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুরসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় ০১:২৪:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখারপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় আরও পাঁচ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই আসামি হলেন ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম।

এ ছাড়া রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুলকে ছয় বছরের কারাদণ্ড, শাহবাগ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেনকে চার বছরের কারাদণ্ড এবং কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলামকে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল।

মামলার আট আসামির মধ্যে বর্তমানে চারজন গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন- আরশাদ হোসেন, সুজন মিয়া, ইমাজ হোসেন ইমন ও নাসিরুল ইসলাম। রায় ঘোষণার সময় আজ সকালে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। অন্যদিকে সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, আখতারুল ইসলাম, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ও মোহাম্মদ ইমরুল এখনো পলাতক রয়েছেন।

রায়ে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেন, চানখারপুলে ছয়জনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। পাশাপাশি ওয়্যারলেস বার্তার মাধ্যমে অধস্তন পুলিশ সদস্যদের মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান- এমন অভিযোগও সাক্ষ্য-প্রমাণে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এটি প্রথম বিচারাধীন মামলা হলেও রায়ের দিক থেকে দ্বিতীয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের দিন চানখারপুল এলাকায় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান ছয়জন। নিহতরা হলেন- শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, ইয়াকুব, রাকিব হাওলাদার, ইশমামুল হক ও মানিক মিয়া।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা ছাড়াও মোট ২৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে প্রমাণ হিসেবে ১৯টি ভিডিও, পত্রিকার ১১টি প্রতিবেদন, দুটি অডিও, বিভিন্ন বই ও প্রতিবেদনসহ ছয়টি মৃত্যুসনদ জমা দেয়।

রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে গত ২৪ ডিসেম্বর রায়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। যদিও ২০ জানুয়ারি রায় ঘোষণার কথা থাকলেও প্রস্তুত না থাকায় তা পিছিয়ে আজকের দিন ধার্য করা হয়। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে সোমবার এই বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল।

 

নতুন কথা/এসআর