দেশজুড়ে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া মব জাস্টিসের ঘটনাগুলো নিয়ন্ত্রণে সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় উন্নত হলেও এটিকে আরও স্থিতিশীল করতে সরকার কাজ করছে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে নতুন সরকারের প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, নতুন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দেশকে গড়ে তোলা। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভা জনগণের সমস্যা সমাধান এবং দেশের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে কাজ করবে। তিনি জানান, গণতন্ত্রই সরকারের মূল ভিত্তি এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক চর্চা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েই তারা এগোচ্ছেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সম্পর্কে তিনি বলেন, এ মন্ত্রণালয় সরাসরি তৃণমূল মানুষের সঙ্গে যুক্ত। নিজে আগে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মন্ত্রণালয়কে আরও গতিশীল ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা, অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি ভঙ্গুর, এমন মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাস্তব পরিস্থিতি এতটা খারাপ নয়। তার দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতাও ফিরছে। ব্যাংকিং খাতও অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গত দেড় বছরে মব জাস্টিসের ঘটনা বেড়েছে, এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, অবশ্যই এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা হবে। বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সব কিছু সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিক হয়ে যাবে, এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। তবে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়াই বড় অর্জন।
‘আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচন কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়েছে’ এ প্রশ্নে তিনি বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে নির্বাচনটি গ্রহণযোগ্য হয়েছে বলেই এটি সবার কাছে স্বীকৃতি পেয়েছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর এই নেতা জানান, নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক ছিল বলেই সরকার বৈধতা অর্জন করেছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকার রাজনৈতিক আলোচনার পর সিদ্ধান্ত জানাবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের প্রয়োজন আছে কি না, এ প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, বিশেষ পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়ে তারা গণতন্ত্রে উত্তরণের পথ তৈরি করেছে; তাই তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। তিনি মন্তব্য করেন, তারা গুরুত্বপূর্ণ সময় দায়িত্ব নিয়ে বড় কাজ করেছে, এ কৃতিত্ব তাদের দিতেই হবে।
নতুন কথা/এসআর
নিজস্ব সংবাদ : 



















