ঢাকা ১২:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চীনের কাছেও হার, বিদায়ের শঙ্কায় বাংলাদেশ নারী দল গণভোট বাতিলের সঙ্গে জুলাই সনদের কোনো সম্পর্ক নেই: আইনমন্ত্রী ইরান ইস্যুতে হোয়াইট হাউস-পেন্টাগন দ্বন্দ্ব, যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন সংকটের আভাস কুষ্টিয়ায় ১৮ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু, হামের উপসর্গে উদ্বেগ বাড়ছে একদিনে দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, হরমুজ অঞ্চলে উত্তেজনা জনবল সংকটে অচল আইসিইউ, রাজশাহী বিভাগে বাড়ছে সংকট, চাপের মুখে রামেক শ্রীলঙ্কার কাছে অপ্রত্যাশিত হার, কঠিন সমীকরণে বাংলাদেশ হকি দল কুষ্টিয়ায় হামে আক্রান্ত হয়ে আট মাস বয়সী শিশুর মৃত্যু ২০০ টাকার নিচে নেই মাছ, ঈদের পরও চাপে নিত্যপণ্যের বাজার হাজারীবাগে ভাড়া বাসা থেকে ঢাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর: শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ

আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গভীর বেদনা ও শোকের দিন। পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০০৯ সালের এই দিনে এবং পরদিন ঢাকার পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে বিদ্রোহের নামে সংঘটিত হয় নৃশংস হত্যাযজ্ঞ, যেখানে মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন। জাতির স্মৃতিতে এই দিনটি আজও এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডির প্রতীক হয়ে আছে।

গত বছর গণঅভ্যুত্থানের পর সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ২৫ ফেব্রুয়ারিকে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয় এবং সেই ধারাবাহিকতায় এবার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দিনটি পালন করা হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে দোয়া, স্মরণসভা ও শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে শহীদদের স্মরণ করা হচ্ছে। ২০০৯ সালের সেই বিভীষিকাময় ঘটনার সময় সেনা কর্মকর্তাদের নির্মমভাবে হত্যা, লাশ গুম এবং পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টার অভিযোগ দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও শোকের জন্ম দিয়েছিল। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতনের ঘটনাও আলোচনায় আসে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও সামরিক কাঠামোর ওপর বড় ধরনের আঘাত ছিল এবং এই ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী হারায় বহু মেধাবী ও দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা, যার প্রভাব পড়ে বাহিনীর মনোবলেও।

দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ২৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় শহীদ সেনা দিবস। ২০০৯ সালের এই দিনে পিলখানায় সেনা হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছিল, যেখানে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন শহীদ হন।” তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় দিনটি যথাযথ গুরুত্বে পালিত হয়নি; তবে ২০২৪ সালে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হওয়ার পর থেকে এটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হচ্ছে। বাণীতে তিনি শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া চলমান থাকায় বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়, তবে ঘটনার পেছনে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী তৎপরতার বিষয়টি নাগরিকদের উপলব্ধিতে থাকা জরুরি। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, সশস্ত্র বাহিনী একটি স্বাধীন দেশের সম্মান, বীরত্ব ও গৌরবের প্রতীক এবং ভবিষ্যতে যেন কেউ বাহিনীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে না পারে সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

পিলখানা ট্র্যাজেডি শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি নয়, এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ইতিহাসে এক গভীর শিক্ষা ও সতর্কতার প্রতীক। প্রতি বছর এই দিনটি জাতিকে স্মরণ করিয়ে দেয়- দেশের নিরাপত্তা, ঐক্য এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সচেতনতা ও দায়বদ্ধতার কোনো বিকল্প নেই।

 

নতুন কথা/এসআর

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের কাছেও হার, বিদায়ের শঙ্কায় বাংলাদেশ নারী দল

পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর: শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ

আপডেট সময় ১০:৪৭:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গভীর বেদনা ও শোকের দিন। পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০০৯ সালের এই দিনে এবং পরদিন ঢাকার পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে বিদ্রোহের নামে সংঘটিত হয় নৃশংস হত্যাযজ্ঞ, যেখানে মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন। জাতির স্মৃতিতে এই দিনটি আজও এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডির প্রতীক হয়ে আছে।

গত বছর গণঅভ্যুত্থানের পর সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ২৫ ফেব্রুয়ারিকে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয় এবং সেই ধারাবাহিকতায় এবার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দিনটি পালন করা হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে দোয়া, স্মরণসভা ও শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে শহীদদের স্মরণ করা হচ্ছে। ২০০৯ সালের সেই বিভীষিকাময় ঘটনার সময় সেনা কর্মকর্তাদের নির্মমভাবে হত্যা, লাশ গুম এবং পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টার অভিযোগ দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও শোকের জন্ম দিয়েছিল। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতনের ঘটনাও আলোচনায় আসে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও সামরিক কাঠামোর ওপর বড় ধরনের আঘাত ছিল এবং এই ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী হারায় বহু মেধাবী ও দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা, যার প্রভাব পড়ে বাহিনীর মনোবলেও।

দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ২৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় শহীদ সেনা দিবস। ২০০৯ সালের এই দিনে পিলখানায় সেনা হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছিল, যেখানে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন শহীদ হন।” তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় দিনটি যথাযথ গুরুত্বে পালিত হয়নি; তবে ২০২৪ সালে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হওয়ার পর থেকে এটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হচ্ছে। বাণীতে তিনি শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া চলমান থাকায় বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়, তবে ঘটনার পেছনে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী তৎপরতার বিষয়টি নাগরিকদের উপলব্ধিতে থাকা জরুরি। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, সশস্ত্র বাহিনী একটি স্বাধীন দেশের সম্মান, বীরত্ব ও গৌরবের প্রতীক এবং ভবিষ্যতে যেন কেউ বাহিনীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে না পারে সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

পিলখানা ট্র্যাজেডি শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি নয়, এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ইতিহাসে এক গভীর শিক্ষা ও সতর্কতার প্রতীক। প্রতি বছর এই দিনটি জাতিকে স্মরণ করিয়ে দেয়- দেশের নিরাপত্তা, ঐক্য এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সচেতনতা ও দায়বদ্ধতার কোনো বিকল্প নেই।

 

নতুন কথা/এসআর