ঢাকা ০৯:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজের আহ্বান রাষ্ট্রপতির ঈদুল আজহায় তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানালেন নরেন্দ্র মোদি গোপালগঞ্জে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে ৫ নিহত, আহত অন্তত ১০ ঈদুল আজহা: ত্যাগের চেতনায় মানবতার পুনর্জাগরণ ঈদুল আজহায় দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন ‘নতুন কথা’র সম্পাদক মাজেদা রহমান শারমিন জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত আত্মত্যাগের বার্তা নিয়ে এলো পবিত্র ঈদুল আজহা নজরুল জন্মজয়ন্তীতে যোগ দিতে আজ ময়মনসিংহে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নিষ্পাপ মুখগুলোর নীরব আর্তনাদ ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবির পরিচালক হচ্ছেন ৪ জন

হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা একটি দায়বদ্ধ সংসদ পেয়েছি : সংসদে প্রধানমন্ত্রী

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:০৩:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
  • ৩১ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ দেড় দশকের দুঃশাসন ও ফ্যাসিবাদের অবসানের পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, অসংখ্য মানুষের ত্যাগ ও সংগ্রামের ফলেই আজ দেশে একটি দায়বদ্ধ ও কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন থেকে জাতীয় সংসদই হবে দেশের সব যুক্তি-তর্ক, মতবিনিময় এবং জাতীয় সমস্যা সমাধানের প্রধান কেন্দ্র।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অধিবেশন শুরুর আগে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী প্রবীণ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম সভাপতি হিসেবে প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী।

বক্তৃতার শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের নির্মমতার শিকার অসংখ্য মানুষের কান্না আর হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা একটি দায়বদ্ধ সংসদ পেয়েছি। যারা গুম, খুন এবং আয়নাঘরের মতো নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের কারণেই দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রদূত হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই সংসদকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছিল। তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে আপসহীন ছিলেন, তবে এই নতুন অধ্যায়ের সূচনা তিনি দেখে যেতে পারেননি। এজন্য তাকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।

এ সময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একটি উক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জনগণই যদি রাজনৈতিক দল হয়, তবে আমি সেই দলেই আছি।” ব্যক্তি বা দলের চেয়ে জনগণের স্বার্থই বড়—এটাই বিএনপির মূল দর্শন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দলীয়ভাবে নির্বাচিত হলেও এই সংসদে তিনি পুরো দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু একটি সার্বভৌম, নিরাপদ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রশ্নে কারও মধ্যে বিভাজন থাকার কথা নয়। তিনি দেশের প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে এ ক্ষেত্রে সব সংসদ সদস্যের সহযোগিতা কামনা করেন।

বর্তমান সংসদের বিশেষ পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিগত সরকারের জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট জনরোষের কারণে সাবেক স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারদের কাউকেই পাওয়া যায়নি। তারা কেউ কারাগারে আছেন, কেউবা পলাতক।

এই প্রেক্ষাপটে সংসদের অধিবেশন পরিচালনার বিষয়ে তিনি ১৯৭৩ সালের একটি উদাহরণ টেনে আনেন। তিনি বলেন, সে সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের নাম সভাপতিত্বের জন্য প্রস্তাব করেছিলেন। একইভাবে বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রবীণ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

নতুন কথা/এসআর

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা একটি দায়বদ্ধ সংসদ পেয়েছি : সংসদে প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০২:০৩:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

দীর্ঘ দেড় দশকের দুঃশাসন ও ফ্যাসিবাদের অবসানের পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, অসংখ্য মানুষের ত্যাগ ও সংগ্রামের ফলেই আজ দেশে একটি দায়বদ্ধ ও কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন থেকে জাতীয় সংসদই হবে দেশের সব যুক্তি-তর্ক, মতবিনিময় এবং জাতীয় সমস্যা সমাধানের প্রধান কেন্দ্র।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অধিবেশন শুরুর আগে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী প্রবীণ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম সভাপতি হিসেবে প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী।

বক্তৃতার শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের নির্মমতার শিকার অসংখ্য মানুষের কান্না আর হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা একটি দায়বদ্ধ সংসদ পেয়েছি। যারা গুম, খুন এবং আয়নাঘরের মতো নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের কারণেই দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রদূত হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই সংসদকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছিল। তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে আপসহীন ছিলেন, তবে এই নতুন অধ্যায়ের সূচনা তিনি দেখে যেতে পারেননি। এজন্য তাকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।

এ সময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একটি উক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জনগণই যদি রাজনৈতিক দল হয়, তবে আমি সেই দলেই আছি।” ব্যক্তি বা দলের চেয়ে জনগণের স্বার্থই বড়—এটাই বিএনপির মূল দর্শন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দলীয়ভাবে নির্বাচিত হলেও এই সংসদে তিনি পুরো দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু একটি সার্বভৌম, নিরাপদ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রশ্নে কারও মধ্যে বিভাজন থাকার কথা নয়। তিনি দেশের প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে এ ক্ষেত্রে সব সংসদ সদস্যের সহযোগিতা কামনা করেন।

বর্তমান সংসদের বিশেষ পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিগত সরকারের জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট জনরোষের কারণে সাবেক স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারদের কাউকেই পাওয়া যায়নি। তারা কেউ কারাগারে আছেন, কেউবা পলাতক।

এই প্রেক্ষাপটে সংসদের অধিবেশন পরিচালনার বিষয়ে তিনি ১৯৭৩ সালের একটি উদাহরণ টেনে আনেন। তিনি বলেন, সে সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের নাম সভাপতিত্বের জন্য প্রস্তাব করেছিলেন। একইভাবে বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রবীণ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

নতুন কথা/এসআর