ঢাকা ১২:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঈদযাত্রায় কমলাপুরে ঘরমুখো মানুষের ঢল, টিকিট কেটেও সিট না পাওয়ার অভিযোগ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ঝড় তুলেছে গেজেট ব্র্যান্ড ‘চার্জ’-এর বিজ্ঞাপন ট্রাম্প-শির আলোচিত বৈঠক ইরান যুদ্ধের জেরে পেছাচ্ছে ঈদযাত্রায় আব্দুল্লাহপুরে ঘরমুখো মানুষের ঢল, বাস সংকট ও বাড়তি ভাড়ায় চরম দুর্ভোগ ইসলামনগর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের ঈদের শুভেচ্ছা হংকংয়ে ছুটিতে রণবীর-আলিয়া, সবার নজর কেড়েছে ছোট্ট রাহা মির্জা আব্বাসকে রোববার সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ড ফয়সালকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে ফিলিপ ভারতে গ্রেফতার ধ্বংসের মুখে স্বাস্থ্যসেবা খাত: লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ১২ চিকিৎসাকর্মী নিহত জীবন সব সময় সহজ পথে চলে না : প্রিয়াঙ্কা

ঈদযাত্রায় কমলাপুরে ঘরমুখো মানুষের ঢল, টিকিট কেটেও সিট না পাওয়ার অভিযোগ

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। শেষ কর্মদিবস হওয়ায় সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলের পর থেকেই স্টেশনজুড়ে যাত্রীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো বেড়ে যায়। চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে ট্রেনে করে গ্রামের বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন।

ঈদ উপলক্ষ্যে ট্রেনের অগ্রিম টিকিটধারীদের যাত্রা শুরু হয় গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) থেকে। সে হিসেবে সোমবার ছিল ঈদযাত্রার চতুর্থ দিন। প্রথম তিন দিনে তেমন ভিড় না থাকায় অনেকেই স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশে বাড়ি ফিরতে পেরেছেন। তবে সোমবার থেকে পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন দেখা যায়। বিভিন্ন গন্তব্যের ট্রেন ছাড়ার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের ভিড়ে কমলাপুর স্টেশনের প্রায় সব প্ল্যাটফর্মই সরগরম হয়ে ওঠে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাত ৮টায় কমলাপুর থেকে উত্তরাঞ্চলের লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও বুড়িমারীর উদ্দেশে ছেড়ে যায় কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস। ট্রেনটিতে ঘরমুখো মানুষের চাপ এতটাই বেশি ছিল যে অনেক যাত্রীকে ঠাসাঠাসি করে যাত্রা করতে হয়েছে। অতিরিক্ত বগি সংযোজন করা হলেও অনেকেই নিজেদের নির্ধারিত বগিতে উঠতে পারেননি। এমনকি কিছু যাত্রীকে গেট ধরে ঝুলে ঝুলে যাত্রা করতে দেখা গেছে। তবে ট্রেনের ছাদে ওঠার কোনো সুযোগ দেয়নি স্টেশন কর্তৃপক্ষ।

রংপুরে দাদার বাড়িতে ঈদ করতে যাচ্ছিল ছোট্ট মুন্নি। বাবা-মা ও দুই বোনকে নিয়ে সে কমলাপুর স্টেশনে অপেক্ষা করছিল। মুন্নি জানায়, বাবার অফিস শেষ করে বাসায় ফিরতে দেরি হওয়ায় তারা একটু দেরিতে স্টেশনে পৌঁছান। তাদের অগ্রিম টিকিট কাটা থাকলেও নির্ধারিত বগি খুঁজে পেতে বেশ বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। বাবা-মা বগি খুঁজতে গেলে মুন্নি ও তার বোনেরা প্ল্যাটফর্মেই অপেক্ষা করছিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্রেন ছেড়ে দেওয়ায় তাড়াহুড়ো করে তারা একটি বগিতে উঠে পড়েন।

যদিও মুন্নির পরিবার শেষ পর্যন্ত ট্রেনে উঠতে পেরেছে, তবে অনেক যাত্রী নির্ধারিত সময়ে স্টেশনে পৌঁছাতে না পারায় টিকিট থাকা সত্ত্বেও ট্রেন মিস করেছেন। যাত্রাবাড়ীতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত জসিম, ছাইদুল ও রোকন- এই তিন বন্ধু কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের অগ্রিম টিকিট কেটেছিলেন। অফিস শেষে স্টেশনে পৌঁছাতে তাদের কিছুটা দেরি হয়ে যায়। তারা জানান, রাত ৮টা ১০ মিনিটে স্টেশনে পৌঁছালে ততক্ষণে ট্রেন ছেড়ে গেছে।

তাদের অভিযোগ, সাধারণত নির্ধারিত সময়ের ১০-১৫ মিনিট পরে ট্রেন ছেড়ে যেতে দেখা যায়। কিন্তু সোমবার ঠিক সময়েই ট্রেন ছেড়ে দেওয়ায় তারা ট্রেনে উঠতে পারেননি। এখন তাদের বাসে করে বাড়ি যেতে হবে, এতে খরচ যেমন দ্বিগুণ হবে, তেমনি ভোগান্তিও বাড়বে।

তবে শুধু কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস নয়, এদিন কমলাপুর স্টেশন থেকে প্রায় সব ট্রেনই নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। এতে সময়মতো স্টেশনে পৌঁছানো যাত্রীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। কিন্তু অনেকের অভিযোগ, টিকিট থাকলেও ভিড়ের কারণে নির্ধারিত বগি খুঁজে পাওয়া বা আসনে পৌঁছানো বেশ কঠিন হয়ে পড়ছে।

রেলওয়ের টিটিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত তিন দিনের তুলনায় সোমবার সন্ধ্যা থেকে ঘরমুখো যাত্রীদের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাদের ধারণা, আগামী কয়েক দিনে এই চাপ আরও বাড়বে। বিশেষ করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অনেক কর্মীর বুধবার পর্যন্ত অফিস থাকায় ওই দিন ঈদযাত্রায় সবচেয়ে বেশি ভিড় হতে পারে।

 

নতুন কথা/এসআর

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদযাত্রায় কমলাপুরে ঘরমুখো মানুষের ঢল, টিকিট কেটেও সিট না পাওয়ার অভিযোগ

ঈদযাত্রায় কমলাপুরে ঘরমুখো মানুষের ঢল, টিকিট কেটেও সিট না পাওয়ার অভিযোগ

আপডেট সময় ১২:১১:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। শেষ কর্মদিবস হওয়ায় সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলের পর থেকেই স্টেশনজুড়ে যাত্রীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো বেড়ে যায়। চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে ট্রেনে করে গ্রামের বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন।

ঈদ উপলক্ষ্যে ট্রেনের অগ্রিম টিকিটধারীদের যাত্রা শুরু হয় গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) থেকে। সে হিসেবে সোমবার ছিল ঈদযাত্রার চতুর্থ দিন। প্রথম তিন দিনে তেমন ভিড় না থাকায় অনেকেই স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশে বাড়ি ফিরতে পেরেছেন। তবে সোমবার থেকে পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন দেখা যায়। বিভিন্ন গন্তব্যের ট্রেন ছাড়ার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের ভিড়ে কমলাপুর স্টেশনের প্রায় সব প্ল্যাটফর্মই সরগরম হয়ে ওঠে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাত ৮টায় কমলাপুর থেকে উত্তরাঞ্চলের লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও বুড়িমারীর উদ্দেশে ছেড়ে যায় কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস। ট্রেনটিতে ঘরমুখো মানুষের চাপ এতটাই বেশি ছিল যে অনেক যাত্রীকে ঠাসাঠাসি করে যাত্রা করতে হয়েছে। অতিরিক্ত বগি সংযোজন করা হলেও অনেকেই নিজেদের নির্ধারিত বগিতে উঠতে পারেননি। এমনকি কিছু যাত্রীকে গেট ধরে ঝুলে ঝুলে যাত্রা করতে দেখা গেছে। তবে ট্রেনের ছাদে ওঠার কোনো সুযোগ দেয়নি স্টেশন কর্তৃপক্ষ।

রংপুরে দাদার বাড়িতে ঈদ করতে যাচ্ছিল ছোট্ট মুন্নি। বাবা-মা ও দুই বোনকে নিয়ে সে কমলাপুর স্টেশনে অপেক্ষা করছিল। মুন্নি জানায়, বাবার অফিস শেষ করে বাসায় ফিরতে দেরি হওয়ায় তারা একটু দেরিতে স্টেশনে পৌঁছান। তাদের অগ্রিম টিকিট কাটা থাকলেও নির্ধারিত বগি খুঁজে পেতে বেশ বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। বাবা-মা বগি খুঁজতে গেলে মুন্নি ও তার বোনেরা প্ল্যাটফর্মেই অপেক্ষা করছিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্রেন ছেড়ে দেওয়ায় তাড়াহুড়ো করে তারা একটি বগিতে উঠে পড়েন।

যদিও মুন্নির পরিবার শেষ পর্যন্ত ট্রেনে উঠতে পেরেছে, তবে অনেক যাত্রী নির্ধারিত সময়ে স্টেশনে পৌঁছাতে না পারায় টিকিট থাকা সত্ত্বেও ট্রেন মিস করেছেন। যাত্রাবাড়ীতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত জসিম, ছাইদুল ও রোকন- এই তিন বন্ধু কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের অগ্রিম টিকিট কেটেছিলেন। অফিস শেষে স্টেশনে পৌঁছাতে তাদের কিছুটা দেরি হয়ে যায়। তারা জানান, রাত ৮টা ১০ মিনিটে স্টেশনে পৌঁছালে ততক্ষণে ট্রেন ছেড়ে গেছে।

তাদের অভিযোগ, সাধারণত নির্ধারিত সময়ের ১০-১৫ মিনিট পরে ট্রেন ছেড়ে যেতে দেখা যায়। কিন্তু সোমবার ঠিক সময়েই ট্রেন ছেড়ে দেওয়ায় তারা ট্রেনে উঠতে পারেননি। এখন তাদের বাসে করে বাড়ি যেতে হবে, এতে খরচ যেমন দ্বিগুণ হবে, তেমনি ভোগান্তিও বাড়বে।

তবে শুধু কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস নয়, এদিন কমলাপুর স্টেশন থেকে প্রায় সব ট্রেনই নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। এতে সময়মতো স্টেশনে পৌঁছানো যাত্রীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। কিন্তু অনেকের অভিযোগ, টিকিট থাকলেও ভিড়ের কারণে নির্ধারিত বগি খুঁজে পাওয়া বা আসনে পৌঁছানো বেশ কঠিন হয়ে পড়ছে।

রেলওয়ের টিটিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত তিন দিনের তুলনায় সোমবার সন্ধ্যা থেকে ঘরমুখো যাত্রীদের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাদের ধারণা, আগামী কয়েক দিনে এই চাপ আরও বাড়বে। বিশেষ করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অনেক কর্মীর বুধবার পর্যন্ত অফিস থাকায় ওই দিন ঈদযাত্রায় সবচেয়ে বেশি ভিড় হতে পারে।

 

নতুন কথা/এসআর