ঢাকা ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চাঁদ দেখার অপেক্ষায় দেশ, ঘরমুখো মানুষের ঢল আর বাজারে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা যেভাবে বিশ্বসেরা পেসারে পরিণত হয়েছেন তাসকিন-মুস্তাফিজরা! মেহেদির রঙে রাঙা প্রেম, দেব-রুক্মিণীকে ঘিরে বিয়ের জল্পনা তুঙ্গে ঈদযাত্রায় স্বস্তির চিত্র, নির্ধারিত ভাড়াই নিচ্ছে পরিবহন: সড়ক পরিবহনমন্ত্রী যানবাহনের চাপ বাড়লেও স্বস্তির ঈদযাত্রা, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে নেই যানজট সৌদিতে মিসাইল হামলায় আহত প্রবাসী মামুনের মৃত্যু, শোক ময়মনসিংহে ঈদযাত্রায় কমলাপুরে ঘরমুখো মানুষের ঢল, টিকিট কেটেও সিট না পাওয়ার অভিযোগ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ঝড় তুলেছে গেজেট ব্র্যান্ড ‘চার্জ’-এর বিজ্ঞাপন ট্রাম্প-শির আলোচিত বৈঠক ইরান যুদ্ধের জেরে পেছাচ্ছে ঈদযাত্রায় আব্দুল্লাহপুরে ঘরমুখো মানুষের ঢল, বাস সংকট ও বাড়তি ভাড়ায় চরম দুর্ভোগ

চাঁদ দেখার অপেক্ষায় দেশ, ঘরমুখো মানুষের ঢল আর বাজারে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা

  • আহমেদ শাহেদ:
  • আপডেট সময় ১০:২৭:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

পবিত্র রমজান মাস শেষ হতে চলেছে। দেশের মুসলিম উম্মাহ্ ঈদুল ফিতর উদযাপনের জন্য শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি আজ সন্ধ্যায় বৈঠক করবে এবং চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ঈদের দিন ঘোষণা করা হবে। এদিকে সৌদি আরবে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। তাই দেশটিতে পবিত্র ঈদুল ফিতর আগামী শুক্রবার (২০ মার্চ) উদ্‌যাপন করা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কর্তৃপক্ষ চাঁদ দেখার চেষ্টা করে। কিন্তু তা দেখা যায়নি। ফলে সৌদি আরবে পবিত্র রমজান মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হবে। এ হিসেবে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) হবে রমজানের শেষ দিন। পরদিন শুক্রবার ঈদ পালিত হবে।

অন্যদিকে ২০ মার্চ বাংলাদেশে পবিত্র রমজান মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হবে। সে অনুযায়ী ২১ মার্চ বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর পালিত হবে।

রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা ইতিমধ্যেই তীব্র আকার নিয়েছে। ঢাকা থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী এবং অন্যান্য বড় শহর থেকে গ্রামের পথে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এখন অতিপ্রচণ্ড ব্যস্ততায় ছুটছে। যাত্রীরা পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে লঞ্চে ওঠার জন্য অপেক্ষা করছেন। নিরাপত্তা বাহিনী ও টার্মিনাল কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে যাত্রীরা নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।

রাজধানীর সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড এবং কমলাপুর রেলস্টেশনেও শেষ মুহূর্তের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাসস্ট্যান্ডে বিশেষ করে যাত্রীদের জন্য অস্থায়ী কাউন্টার খুলে দেওয়া হয়েছে, যাত্রীদের সঠিক তথ্য ও টিকেট নিশ্চিত করার জন্য। কমলাপুর রেলস্টেশনে ট্রেনের ভিড় বেড়েছে কয়েক গুণ। পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে অনেকেই রাত্রে রাত জেগে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করছেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত ট্রেন চালানোর পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করছে, যাতে যাত্রীরা গন্তব্যে সময়মতো পৌঁছাতে পারেন।

ঈদ বাজারও শেষ মুহূর্তে জাঁকজমকপূর্ণ। রাজধানীর নয়াপল্টন, মৌলভীবাজার রোড, বসুন্ধরা সিটি, বনানী ও মিরপুর এলাকার বিপনীবিতানগুলোতে নতুন পোশাক, জুতা, মিষ্টি, মাংস, ডেজার্ট এবং অন্যান্য ঈদ সামগ্রীর চাহিদা প্রচণ্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যবসায়ীরা প্রতিদিনের চাহিদার চেয়ে দ্বিগুণ করে মালামাল প্রস্তুত রেখেছেন। রাতের অন্ধকারে দোকানিরা সামগ্রীর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা বলছেন, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে একদিনে সব বিক্রি হয়ে যেতে পারে, তাই শেষ মুহূর্তে সবাই ক্রেতাদের জন্য প্রস্তুত।

শহর ও গ্রামের মানুষ এবারও বছরের সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসবটি উদযাপন করতে ব্যস্ত। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষ পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য রওয়ানা হয়েছেন। গ্রামে যাত্রীদের জন্য অস্থায়ী শেড ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ছোট এবং বড় নদী, সেতু ও সড়কে ট্রাফিক পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী তদারকি করছে, যাতে যাত্রীরা নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।

সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগও পরিবহন ও নিরাপত্তার জন্য বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে। সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় ছুটি অনুযায়ী পরিবহন ব্যবস্থা চালু রেখেছে। গুরুত্বপূর্ণ রুটে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করতে জরুরি হেল্পলাইন নম্বরও চালু রাখা হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঈদ বাজারের ব্যস্ততা চোখে পড়ছে। রাজধানীর গুলশান, বনানী, যাত্রাবাড়ী ও ধানমণ্ডির বড় বিপনীবিতানগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা চোখে পড়ার মতো। দোকানিরা বলছেন, “শহরের মানুষ শেষ মুহূর্তে কেনাকাটা করতে আসে, তাই আমাদের প্রস্তুতি সর্বোচ্চ রাখা হয়েছে।” বাজারে শিশুদের জন্য খেলনা, পোশাক এবং পরিবারের জন্য উপহার সামগ্রীও বিশেষভাবে সাজানো হয়েছে।

চাঁদ দেখা নিয়ে শেষ মুহূর্তের উত্তেজনা ও মানুষের যাত্রা মিলিয়ে সারাদেশে ঈদ উদযাপনের আবহ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। দেশের মানুষ দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর এবার আনন্দ উদযাপনের জন্য প্রস্তুত। গ্রামের মানুষ নতুন পোশাক, নতুন জুতা এবং মিষ্টি সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। শহরের মানুষও পরিবারের সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য বিভিন্ন যাতায়াত মাধ্যম ব্যবহার করছেন।

সড়ক, রেল ও নদী পথে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, র‌্যাব ও নৌবাহিনী বিশেষ তদারকি চালাচ্ছে। জরুরি যানবাহন ও স্বাস্থ্যসেবা সহায়তার জন্য প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। এ ছাড়াও, যানজট ও দুর্ঘটনা রোধের জন্য নিয়ন্ত্রিত লেন ও অস্থায়ী ট্রাফিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বাজারে ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে ব্যবসায়ীরা বিশেষ প্রমোশন ও ডিসকাউন্টের ব্যবস্থা করেছেন। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে মিষ্টি ও অন্যান্য খাদ্য সামগ্রীর সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। দোকানিরা বলছেন, ঈদ মানেই খুশি ভাগাভাগি করা, তাই আমরা শেষ মুহূর্তে সকল সামগ্রী নিশ্চিত করেছি।

এছাড়া, সামাজিক অনুষ্ঠান, প্রবাসী ও শহরের যাত্রীরা শেষ মুহূর্তে পরিবার-বন্ধুদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য প্রস্তুত। সব মিলিয়ে, দেশের প্রতিটি কোণে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়বে। সরকারি নির্দেশনা, ট্রাফিক তদারকি এবং বাজারের ব্যস্ততা মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, এই ঈদ উদযাপন হবে সুশৃঙ্খল ও আনন্দময়।

চাঁদ দেখা গেলে আগামীকাল সারাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, মানুষের ঘরমুখী যাত্রা এবং বাজারের ব্যস্ততা মিলিয়ে দেশের প্রতিটি কোণে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়বে।

 

নতুন কথা/এএস

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদ দেখার অপেক্ষায় দেশ, ঘরমুখো মানুষের ঢল আর বাজারে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা

চাঁদ দেখার অপেক্ষায় দেশ, ঘরমুখো মানুষের ঢল আর বাজারে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা

আপডেট সময় ১০:২৭:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

পবিত্র রমজান মাস শেষ হতে চলেছে। দেশের মুসলিম উম্মাহ্ ঈদুল ফিতর উদযাপনের জন্য শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি আজ সন্ধ্যায় বৈঠক করবে এবং চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ঈদের দিন ঘোষণা করা হবে। এদিকে সৌদি আরবে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। তাই দেশটিতে পবিত্র ঈদুল ফিতর আগামী শুক্রবার (২০ মার্চ) উদ্‌যাপন করা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কর্তৃপক্ষ চাঁদ দেখার চেষ্টা করে। কিন্তু তা দেখা যায়নি। ফলে সৌদি আরবে পবিত্র রমজান মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হবে। এ হিসেবে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) হবে রমজানের শেষ দিন। পরদিন শুক্রবার ঈদ পালিত হবে।

অন্যদিকে ২০ মার্চ বাংলাদেশে পবিত্র রমজান মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হবে। সে অনুযায়ী ২১ মার্চ বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর পালিত হবে।

রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা ইতিমধ্যেই তীব্র আকার নিয়েছে। ঢাকা থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী এবং অন্যান্য বড় শহর থেকে গ্রামের পথে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এখন অতিপ্রচণ্ড ব্যস্ততায় ছুটছে। যাত্রীরা পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে লঞ্চে ওঠার জন্য অপেক্ষা করছেন। নিরাপত্তা বাহিনী ও টার্মিনাল কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে যাত্রীরা নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।

রাজধানীর সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড এবং কমলাপুর রেলস্টেশনেও শেষ মুহূর্তের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাসস্ট্যান্ডে বিশেষ করে যাত্রীদের জন্য অস্থায়ী কাউন্টার খুলে দেওয়া হয়েছে, যাত্রীদের সঠিক তথ্য ও টিকেট নিশ্চিত করার জন্য। কমলাপুর রেলস্টেশনে ট্রেনের ভিড় বেড়েছে কয়েক গুণ। পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে অনেকেই রাত্রে রাত জেগে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করছেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত ট্রেন চালানোর পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করছে, যাতে যাত্রীরা গন্তব্যে সময়মতো পৌঁছাতে পারেন।

ঈদ বাজারও শেষ মুহূর্তে জাঁকজমকপূর্ণ। রাজধানীর নয়াপল্টন, মৌলভীবাজার রোড, বসুন্ধরা সিটি, বনানী ও মিরপুর এলাকার বিপনীবিতানগুলোতে নতুন পোশাক, জুতা, মিষ্টি, মাংস, ডেজার্ট এবং অন্যান্য ঈদ সামগ্রীর চাহিদা প্রচণ্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যবসায়ীরা প্রতিদিনের চাহিদার চেয়ে দ্বিগুণ করে মালামাল প্রস্তুত রেখেছেন। রাতের অন্ধকারে দোকানিরা সামগ্রীর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা বলছেন, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে একদিনে সব বিক্রি হয়ে যেতে পারে, তাই শেষ মুহূর্তে সবাই ক্রেতাদের জন্য প্রস্তুত।

শহর ও গ্রামের মানুষ এবারও বছরের সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসবটি উদযাপন করতে ব্যস্ত। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষ পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য রওয়ানা হয়েছেন। গ্রামে যাত্রীদের জন্য অস্থায়ী শেড ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ছোট এবং বড় নদী, সেতু ও সড়কে ট্রাফিক পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী তদারকি করছে, যাতে যাত্রীরা নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।

সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগও পরিবহন ও নিরাপত্তার জন্য বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে। সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় ছুটি অনুযায়ী পরিবহন ব্যবস্থা চালু রেখেছে। গুরুত্বপূর্ণ রুটে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করতে জরুরি হেল্পলাইন নম্বরও চালু রাখা হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঈদ বাজারের ব্যস্ততা চোখে পড়ছে। রাজধানীর গুলশান, বনানী, যাত্রাবাড়ী ও ধানমণ্ডির বড় বিপনীবিতানগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা চোখে পড়ার মতো। দোকানিরা বলছেন, “শহরের মানুষ শেষ মুহূর্তে কেনাকাটা করতে আসে, তাই আমাদের প্রস্তুতি সর্বোচ্চ রাখা হয়েছে।” বাজারে শিশুদের জন্য খেলনা, পোশাক এবং পরিবারের জন্য উপহার সামগ্রীও বিশেষভাবে সাজানো হয়েছে।

চাঁদ দেখা নিয়ে শেষ মুহূর্তের উত্তেজনা ও মানুষের যাত্রা মিলিয়ে সারাদেশে ঈদ উদযাপনের আবহ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। দেশের মানুষ দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর এবার আনন্দ উদযাপনের জন্য প্রস্তুত। গ্রামের মানুষ নতুন পোশাক, নতুন জুতা এবং মিষ্টি সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। শহরের মানুষও পরিবারের সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য বিভিন্ন যাতায়াত মাধ্যম ব্যবহার করছেন।

সড়ক, রেল ও নদী পথে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, র‌্যাব ও নৌবাহিনী বিশেষ তদারকি চালাচ্ছে। জরুরি যানবাহন ও স্বাস্থ্যসেবা সহায়তার জন্য প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। এ ছাড়াও, যানজট ও দুর্ঘটনা রোধের জন্য নিয়ন্ত্রিত লেন ও অস্থায়ী ট্রাফিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বাজারে ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে ব্যবসায়ীরা বিশেষ প্রমোশন ও ডিসকাউন্টের ব্যবস্থা করেছেন। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে মিষ্টি ও অন্যান্য খাদ্য সামগ্রীর সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। দোকানিরা বলছেন, ঈদ মানেই খুশি ভাগাভাগি করা, তাই আমরা শেষ মুহূর্তে সকল সামগ্রী নিশ্চিত করেছি।

এছাড়া, সামাজিক অনুষ্ঠান, প্রবাসী ও শহরের যাত্রীরা শেষ মুহূর্তে পরিবার-বন্ধুদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য প্রস্তুত। সব মিলিয়ে, দেশের প্রতিটি কোণে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়বে। সরকারি নির্দেশনা, ট্রাফিক তদারকি এবং বাজারের ব্যস্ততা মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, এই ঈদ উদযাপন হবে সুশৃঙ্খল ও আনন্দময়।

চাঁদ দেখা গেলে আগামীকাল সারাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, মানুষের ঘরমুখী যাত্রা এবং বাজারের ব্যস্ততা মিলিয়ে দেশের প্রতিটি কোণে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়বে।

 

নতুন কথা/এএস