আজ পবিত্র ঈদুল আজহা। আত্মত্যাগ, আনুগত্য ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেতনায় উদযাপিত হচ্ছে মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘কোরবানির ঈদ’। হিজরি বর্ষপঞ্জির জিলহজ মাসের ১০ তারিখে পালিত এ উৎসবকে ঘিরে রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।
সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন ঈদগাহ ময়দান ও মসজিদে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ঈদের আনুষ্ঠানিকতা। নামাজ শেষে খুতবায় কোরবানির তাৎপর্য, ত্যাগের মহিমা এবং মানবিক মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরেন খতিবরা। পরে সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু কোরবানিতে অংশ নেন।
ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা নিহিত রয়েছে হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.)-এর অনন্য আত্মত্যাগের ঘটনায়। মহান আল্লাহর নির্দেশে পুত্রকে কোরবানি করতে উদ্যত হয়ে হযরত ইব্রাহিম (আ.) যে আনুগত্য ও ত্যাগের বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, তার স্মরণেই মুসলমানরা প্রতি বছর এই ঈদ উদযাপন করে।
রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের প্রধান জামাত। এতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, কূটনীতিক, রাজনৈতিক নেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। জামাতকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও দেশবাসীর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেছেন।
ঈদকে কেন্দ্র করে সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রচার করছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। এছাড়া হাসপাতাল, কারাগার, শিশু সদন ও এতিমখানায় উন্নত খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে দীর্ঘ ছুটির আমেজে মেতে উঠেছে দেশবাসী। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, ২৫ মে থেকে শুরু হওয়া ছুটি আগামী ৩১ মে পর্যন্ত চলবে।
নতুন কথা/এসআর
নিজস্ব প্রতিবেদক 










