তীব্র তুষারঝড় ও হিমশীতল আবহাওয়ার কবলে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি-এর তথ্যের বরাতে এ খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান।
মৃত্যুর খবর এসেছে টেক্সাস, লুইজিয়ানা, মিসিসিপি, নর্থ ক্যারোলাইনা, আরকানসাস, কানসাস, ম্যাসাচুসেটস ও টেনেসিসহ একাধিক অঙ্গরাজ্য থেকে। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি জানিয়েছেন, শুধু তার শহরেই গত দুই দিনে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে কয়েকজন সড়ক দুর্ঘটনা ও অন্যান্য দুর্ঘটনার শিকার হলেও অধিকাংশের মৃত্যু হয়েছে হাইপোথার্মিয়ায়। দীর্ঘ সময় প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যে থাকলে শরীরের তাপমাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যায়, ফলে তীব্র কাঁপুনি, পানিশূন্যতা ও শারীরিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়- এই উপসর্গগুলোর সমষ্টিকেই হাইপোথার্মিয়া বলা হয়।
আবহাওয়াবিদদের মতে, উত্তর মেরু থেকে বয়ে আসা হিমেল বাতাস চলতি সপ্তাহের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ সৃষ্টি করেছে। এর প্রভাবে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম এই দেশের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা পুরু তুষারস্তরে ঢেকে গেছে।
মার্কিন আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, দেশের ২০ কোটিরও বেশি মানুষের জন্য ‘কোল্ড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৩৪ কোটি ৮৬ লাখ।
চরম ঠান্ডার কারণে হঠাৎ বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা। একাধিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র অচল হয়ে পড়ায় লাখ লাখ বাড়িঘর বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ পরিষেবা পর্যবেক্ষণ সংস্থা পাওয়ার আউটেজ ডট কম জানিয়েছে, সোমবার পর্যন্ত বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ৬ লাখ ৭০ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ছিলেন।
প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে স্কুল, কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত সেগুলো খোলা হবে না বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষকে বাড়ির বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ভয়াবহ আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে বিমান চলাচলেও। যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, রোববার একদিনেই ১৭ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। সোমবারও বাতিল হয়েছে ১০ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট।
করোনা মহামারির পর এই প্রথম মাত্র দুই দিনে এত বিপুলসংখ্যক ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা ঘটল যুক্তরাষ্ট্রে।
নতুন কথা/এসআর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 











