নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মবিরতিতে স্থবির হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল থেকে বন্দরের বিভিন্ন টার্মিনালে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য ওঠানামার কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে।
বন্দর সূত্র জানায়, সকাল থেকেই চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রয়েছেন বন্দর কর্মচারী ও বেসরকারি শ্রমিকরা। তাদের কর্মবিরতি বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। এর ফলে জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি), চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) এবং নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি)- এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালে জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর কাজ প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
এ অবস্থায় বন্দর কর্তৃপক্ষ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন, সভা-সমাবেশ, মিছিল কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়া দ্রুত বিচার আইন ২০০২, সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা-১৯৭৯ এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা-১৯৯১ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য পেশাগত অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে। এসব কর্মকাণ্ডে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যা রাষ্ট্রীয় স্বার্থের পরিপন্থী।
বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে অফিস চলাকালীন সময়ে আন্দোলন, মিছিল বা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে এনসিটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার এই কর্মসূচির ডাক দেয় চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববারও ৮ ঘণ্টা প্রশাসনিক ও অপারেশনাল কার্যক্রম স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
তবে বন্দর সূত্র জানায়, এনসিটিতে বেসরকারি ডিপো থেকে আসা রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার জাহাজে তোলার কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চলছে।
চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খোকন বলেন, “আমাদের কর্মসূচিতে শ্রমিক ও কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছেন। আজ বিকেল চারটা পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে।”
কর্মবিরতির কারণে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রমে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, যা আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নতুন কথা/এসআর
নতুন কথা ডেস্ক: 











