ঢাকা ১০:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চীনের কাছেও হার, বিদায়ের শঙ্কায় বাংলাদেশ নারী দল গণভোট বাতিলের সঙ্গে জুলাই সনদের কোনো সম্পর্ক নেই: আইনমন্ত্রী ইরান ইস্যুতে হোয়াইট হাউস-পেন্টাগন দ্বন্দ্ব, যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন সংকটের আভাস কুষ্টিয়ায় ১৮ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু, হামের উপসর্গে উদ্বেগ বাড়ছে একদিনে দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, হরমুজ অঞ্চলে উত্তেজনা জনবল সংকটে অচল আইসিইউ, রাজশাহী বিভাগে বাড়ছে সংকট, চাপের মুখে রামেক শ্রীলঙ্কার কাছে অপ্রত্যাশিত হার, কঠিন সমীকরণে বাংলাদেশ হকি দল কুষ্টিয়ায় হামে আক্রান্ত হয়ে আট মাস বয়সী শিশুর মৃত্যু ২০০ টাকার নিচে নেই মাছ, ঈদের পরও চাপে নিত্যপণ্যের বাজার হাজারীবাগে ভাড়া বাসা থেকে ঢাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

ফেব্রুয়ারির ১৮ দিনেই ২১৩ কোটি ডলার, মাস শেষে ৩ বিলিয়ন ছাড়ানোর সম্ভাবনা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১০:৪৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৮ দিনেই প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ২১৩ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দৈনিক গড়ে প্রায় ১২ কোটি ডলার। এই ধারা অব্যাহত থাকলে দিনসংখ্যা কম হলেও মাস শেষে মোট রেমিট্যান্স ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর আগে টানা দুই মাস, ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে, রেমিট্যান্স প্রবাহ ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ফেব্রুয়ারির একই সময়ে ব্যাংকিং চ্যানেলে এসেছিল ১৬৭ কোটি ডলার। সে হিসাবে এবার রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ৪৬ কোটি ডলার বা ২৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১৫৬ কোটি ডলার, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৭৬৩ কোটি ডলার। অর্থাৎ বছরের হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৯৩ কোটি ডলার বা ২২ দশমিক ২৯ শতাংশ।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসার রেকর্ড গড়া হয়েছিল গত বছরের মার্চে, ৩৩০ কোটি ডলার। রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে সে সময় প্রবাসীদের বড় অঙ্কের অর্থপ্রেরণ এর প্রধান কারণ ছিল। এরপর গত ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি এবং জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসে। অর্থনীতিবিদদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচন পরবর্তী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও রোজাকে সামনে রেখে পরিবারে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধিও রেমিট্যান্স বাড়ার পেছনে ভূমিকা রাখছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অর্থ পাচার ও হুন্ডি কার্যক্রম ঠেকাতে কঠোর নজরদারির ফলে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে। গত বৃহস্পতিবার দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলারে, যা গত ৩৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বিশ্লেষকদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী থাকলে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা, আমদানি ব্যয় মেটানো এবং মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা বলছেন, বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে প্রণোদনা ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা আরও বাড়ানো গেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে।

নতুন কথা/এসআর

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের কাছেও হার, বিদায়ের শঙ্কায় বাংলাদেশ নারী দল

ফেব্রুয়ারির ১৮ দিনেই ২১৩ কোটি ডলার, মাস শেষে ৩ বিলিয়ন ছাড়ানোর সম্ভাবনা

আপডেট সময় ১০:৪৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৮ দিনেই প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ২১৩ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দৈনিক গড়ে প্রায় ১২ কোটি ডলার। এই ধারা অব্যাহত থাকলে দিনসংখ্যা কম হলেও মাস শেষে মোট রেমিট্যান্স ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর আগে টানা দুই মাস, ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে, রেমিট্যান্স প্রবাহ ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ফেব্রুয়ারির একই সময়ে ব্যাংকিং চ্যানেলে এসেছিল ১৬৭ কোটি ডলার। সে হিসাবে এবার রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ৪৬ কোটি ডলার বা ২৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১৫৬ কোটি ডলার, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৭৬৩ কোটি ডলার। অর্থাৎ বছরের হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৯৩ কোটি ডলার বা ২২ দশমিক ২৯ শতাংশ।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসার রেকর্ড গড়া হয়েছিল গত বছরের মার্চে, ৩৩০ কোটি ডলার। রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে সে সময় প্রবাসীদের বড় অঙ্কের অর্থপ্রেরণ এর প্রধান কারণ ছিল। এরপর গত ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি এবং জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসে। অর্থনীতিবিদদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচন পরবর্তী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও রোজাকে সামনে রেখে পরিবারে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধিও রেমিট্যান্স বাড়ার পেছনে ভূমিকা রাখছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অর্থ পাচার ও হুন্ডি কার্যক্রম ঠেকাতে কঠোর নজরদারির ফলে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে। গত বৃহস্পতিবার দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলারে, যা গত ৩৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বিশ্লেষকদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী থাকলে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা, আমদানি ব্যয় মেটানো এবং মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা বলছেন, বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে প্রণোদনা ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা আরও বাড়ানো গেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে।

নতুন কথা/এসআর