ঢাকা ০১:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজের আহ্বান রাষ্ট্রপতির ঈদুল আজহায় তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানালেন নরেন্দ্র মোদি গোপালগঞ্জে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে ৫ নিহত, আহত অন্তত ১০ ঈদুল আজহা: ত্যাগের চেতনায় মানবতার পুনর্জাগরণ ঈদুল আজহায় দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন ‘নতুন কথা’র সম্পাদক মাজেদা রহমান শারমিন জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত আত্মত্যাগের বার্তা নিয়ে এলো পবিত্র ঈদুল আজহা নজরুল জন্মজয়ন্তীতে যোগ দিতে আজ ময়মনসিংহে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নিষ্পাপ মুখগুলোর নীরব আর্তনাদ ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবির পরিচালক হচ্ছেন ৪ জন

ফেব্রুয়ারির ১৮ দিনেই ২১৩ কোটি ডলার, মাস শেষে ৩ বিলিয়ন ছাড়ানোর সম্ভাবনা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১০:৪৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩৩ বার পড়া হয়েছে

চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৮ দিনেই প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ২১৩ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দৈনিক গড়ে প্রায় ১২ কোটি ডলার। এই ধারা অব্যাহত থাকলে দিনসংখ্যা কম হলেও মাস শেষে মোট রেমিট্যান্স ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর আগে টানা দুই মাস, ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে, রেমিট্যান্স প্রবাহ ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ফেব্রুয়ারির একই সময়ে ব্যাংকিং চ্যানেলে এসেছিল ১৬৭ কোটি ডলার। সে হিসাবে এবার রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ৪৬ কোটি ডলার বা ২৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১৫৬ কোটি ডলার, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৭৬৩ কোটি ডলার। অর্থাৎ বছরের হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৯৩ কোটি ডলার বা ২২ দশমিক ২৯ শতাংশ।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসার রেকর্ড গড়া হয়েছিল গত বছরের মার্চে, ৩৩০ কোটি ডলার। রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে সে সময় প্রবাসীদের বড় অঙ্কের অর্থপ্রেরণ এর প্রধান কারণ ছিল। এরপর গত ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি এবং জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসে। অর্থনীতিবিদদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচন পরবর্তী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও রোজাকে সামনে রেখে পরিবারে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধিও রেমিট্যান্স বাড়ার পেছনে ভূমিকা রাখছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অর্থ পাচার ও হুন্ডি কার্যক্রম ঠেকাতে কঠোর নজরদারির ফলে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে। গত বৃহস্পতিবার দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলারে, যা গত ৩৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বিশ্লেষকদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী থাকলে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা, আমদানি ব্যয় মেটানো এবং মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা বলছেন, বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে প্রণোদনা ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা আরও বাড়ানো গেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে।

নতুন কথা/এসআর

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ফেব্রুয়ারির ১৮ দিনেই ২১৩ কোটি ডলার, মাস শেষে ৩ বিলিয়ন ছাড়ানোর সম্ভাবনা

আপডেট সময় ১০:৪৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৮ দিনেই প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ২১৩ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দৈনিক গড়ে প্রায় ১২ কোটি ডলার। এই ধারা অব্যাহত থাকলে দিনসংখ্যা কম হলেও মাস শেষে মোট রেমিট্যান্স ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর আগে টানা দুই মাস, ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে, রেমিট্যান্স প্রবাহ ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ফেব্রুয়ারির একই সময়ে ব্যাংকিং চ্যানেলে এসেছিল ১৬৭ কোটি ডলার। সে হিসাবে এবার রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ৪৬ কোটি ডলার বা ২৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১৫৬ কোটি ডলার, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৭৬৩ কোটি ডলার। অর্থাৎ বছরের হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৯৩ কোটি ডলার বা ২২ দশমিক ২৯ শতাংশ।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসার রেকর্ড গড়া হয়েছিল গত বছরের মার্চে, ৩৩০ কোটি ডলার। রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে সে সময় প্রবাসীদের বড় অঙ্কের অর্থপ্রেরণ এর প্রধান কারণ ছিল। এরপর গত ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি এবং জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসে। অর্থনীতিবিদদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচন পরবর্তী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও রোজাকে সামনে রেখে পরিবারে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধিও রেমিট্যান্স বাড়ার পেছনে ভূমিকা রাখছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অর্থ পাচার ও হুন্ডি কার্যক্রম ঠেকাতে কঠোর নজরদারির ফলে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে। গত বৃহস্পতিবার দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলারে, যা গত ৩৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বিশ্লেষকদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী থাকলে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা, আমদানি ব্যয় মেটানো এবং মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা বলছেন, বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে প্রণোদনা ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা আরও বাড়ানো গেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে।

নতুন কথা/এসআর