ঢাকা ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকায় নিজ বাসা থেকে জামায়াত নেতার মরদেহ উদ্ধার ত্বকের বলিরেখা কমাতে যেসব প্রাকৃতিক তেল হতে পারে ভরসা ভারতের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ আইসিসির, অবস্থানে অটল বিসিবি ইরানে নজিরবিহীন বিক্ষোভে নিহত প্রায় ২ হাজার মানুষ: সরকারি কর্মকর্তা বিএনপি নেতা ডাবলুর মৃত্যু: অভিযানে অংশ নেওয়া সব সেনাসদস্য প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি গঠন জ্বালানি সরবরাহ বড় চ্যালেঞ্জ, তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় সরকার: সালেহউদ্দিন আহমেদ আগামী নির্বাচনই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা : সালাহউদ্দিন আহমদ সবোজলাইয়ের নায়ক-খলনায়ক রাতেও বার্নসলিকে উড়িয়ে চতুর্থ রাউন্ডে লিভারপুল জীবনদর্শনের দূরত্বেই ফাটল: যে কারণে টেকেনি তাহসান-রোজার সংসার শিক্ষা শুধু চাকরির কারখানা নয়, সৃজনশীল মানুষ গড়ার পথ: প্রধান উপদেষ্টা

ইরান থেকে ১০০ বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু

ইরানে চলমান উত্তেজনা ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে সেখানকার বাংলাদেশিদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে তেহরানে অবস্থানরত ১০০ বাংলাদেশির একটি তালিকা প্রস্তুত করে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব) ড. নজরুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) ঢাকায় সাংবাদিকদের তিনি জানান, ইরানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে।

সচিব জানান, “তেহরানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সব কর্মকর্তা ও তাদের পরিবার ইতোমধ্যে নিরাপদ স্থানে সরে গেছেন। এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি কর্মকর্তা হতাহত হননি। দূতাবাস তাদের পাশে রয়েছে এবং সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করছে।”

ফেরানোর ক্ষেত্রে সরাসরি নয়, বরং তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে সরকার। নজরুল ইসলাম বলেন, “ফেরানোর জন্য তুরস্ক বা পাকিস্তানের মতো তৃতীয় দেশ ব্যবহারের চিন্তা করা হচ্ছে। যেখান থেকে সবদিক দিয়ে সুবিধা পাওয়া যাবে, সেই পথেই আমরা ব্যবস্থা নেব।”

পররাষ্ট্র সচিব জানান, “তেহরানে বর্তমানে আনুমানিক ৪০০ বাংলাদেশি রয়েছেন। এর মধ্যে ১০০ জন ইতোমধ্যে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। হটলাইন চালু থাকায় এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।”

তিনি বলেন, “তেহরানে ইন্টারনেট বন্ধ থাকলেও টেলিফোনে যোগাযোগ সম্ভব। যারা এখনো যোগাযোগ করেননি, তারা চাইলে হটলাইনের মাধ্যমে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।”

তেহরান ছাড়াও ইরানের বন্দর শহর বন্দর আব্বাসে অবস্থানরত প্রায় ২ হাজার বাংলাদেশির নিরাপত্তার বিষয়েও সরকার সচেতন। সেখানে এখনো যুদ্ধ পরিস্থিতি না থাকলেও ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে। “যদি তারা কখনো সহায়তা চান, তখনও আমরা সহযোগিতা করব,” বলেন পররাষ্ট্র সচিব।

ইরানে অর্থ পাঠানো নিয়ে জটিলতার বিষয়ে সচিব বলেন, “ইরানে ব্যাংকিং নিষেধাজ্ঞার কারণে টাকা পাঠাতে সমস্যা হচ্ছে। তবে দূতাবাসে কিছু অর্থ মজুত আছে এবং আমাদের একজন কর্মকর্তা ইরানে যাচ্ছেন, যার মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হবে। এছাড়া, বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর কাছ থেকেও সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।”

পরিস্থিতি বিবেচনায় তেহরান থেকে ১০০ বাংলাদেশিকে একটি নিরাপদ তৃতীয় দেশে নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখান থেকে বিমানযোগে দেশে ফেরানো হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই প্রক্রিয়ার সমন্বয়ে কাজ করছে।

সচিব নজরুল ইসলাম বলেন, “আমরা তালিকাটি হালনাগাদ করছি। কীভাবে তাদের ফিরিয়ে আনা যায়, সেই বিষয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা চলছে।”

 

নতুনকথা/এএস

ঢাকায় নিজ বাসা থেকে জামায়াত নেতার মরদেহ উদ্ধার

ইরান থেকে ১০০ বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু

আপডেট সময় ১০:১৭:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫

ইরানে চলমান উত্তেজনা ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে সেখানকার বাংলাদেশিদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে তেহরানে অবস্থানরত ১০০ বাংলাদেশির একটি তালিকা প্রস্তুত করে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব) ড. নজরুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) ঢাকায় সাংবাদিকদের তিনি জানান, ইরানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে।

সচিব জানান, “তেহরানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সব কর্মকর্তা ও তাদের পরিবার ইতোমধ্যে নিরাপদ স্থানে সরে গেছেন। এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি কর্মকর্তা হতাহত হননি। দূতাবাস তাদের পাশে রয়েছে এবং সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করছে।”

ফেরানোর ক্ষেত্রে সরাসরি নয়, বরং তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে সরকার। নজরুল ইসলাম বলেন, “ফেরানোর জন্য তুরস্ক বা পাকিস্তানের মতো তৃতীয় দেশ ব্যবহারের চিন্তা করা হচ্ছে। যেখান থেকে সবদিক দিয়ে সুবিধা পাওয়া যাবে, সেই পথেই আমরা ব্যবস্থা নেব।”

পররাষ্ট্র সচিব জানান, “তেহরানে বর্তমানে আনুমানিক ৪০০ বাংলাদেশি রয়েছেন। এর মধ্যে ১০০ জন ইতোমধ্যে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। হটলাইন চালু থাকায় এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।”

তিনি বলেন, “তেহরানে ইন্টারনেট বন্ধ থাকলেও টেলিফোনে যোগাযোগ সম্ভব। যারা এখনো যোগাযোগ করেননি, তারা চাইলে হটলাইনের মাধ্যমে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।”

তেহরান ছাড়াও ইরানের বন্দর শহর বন্দর আব্বাসে অবস্থানরত প্রায় ২ হাজার বাংলাদেশির নিরাপত্তার বিষয়েও সরকার সচেতন। সেখানে এখনো যুদ্ধ পরিস্থিতি না থাকলেও ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে। “যদি তারা কখনো সহায়তা চান, তখনও আমরা সহযোগিতা করব,” বলেন পররাষ্ট্র সচিব।

ইরানে অর্থ পাঠানো নিয়ে জটিলতার বিষয়ে সচিব বলেন, “ইরানে ব্যাংকিং নিষেধাজ্ঞার কারণে টাকা পাঠাতে সমস্যা হচ্ছে। তবে দূতাবাসে কিছু অর্থ মজুত আছে এবং আমাদের একজন কর্মকর্তা ইরানে যাচ্ছেন, যার মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হবে। এছাড়া, বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর কাছ থেকেও সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।”

পরিস্থিতি বিবেচনায় তেহরান থেকে ১০০ বাংলাদেশিকে একটি নিরাপদ তৃতীয় দেশে নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখান থেকে বিমানযোগে দেশে ফেরানো হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই প্রক্রিয়ার সমন্বয়ে কাজ করছে।

সচিব নজরুল ইসলাম বলেন, “আমরা তালিকাটি হালনাগাদ করছি। কীভাবে তাদের ফিরিয়ে আনা যায়, সেই বিষয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা চলছে।”

 

নতুনকথা/এএস