ঢাকা ১২:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজের আহ্বান রাষ্ট্রপতির ঈদুল আজহায় তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানালেন নরেন্দ্র মোদি গোপালগঞ্জে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে ৫ নিহত, আহত অন্তত ১০ ঈদুল আজহা: ত্যাগের চেতনায় মানবতার পুনর্জাগরণ ঈদুল আজহায় দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন ‘নতুন কথা’র সম্পাদক মাজেদা রহমান শারমিন জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত আত্মত্যাগের বার্তা নিয়ে এলো পবিত্র ঈদুল আজহা নজরুল জন্মজয়ন্তীতে যোগ দিতে আজ ময়মনসিংহে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নিষ্পাপ মুখগুলোর নীরব আর্তনাদ ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবির পরিচালক হচ্ছেন ৪ জন

দেশ গঠনে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানালেন তারেক রহমান

দেশ গঠনে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এখন সময় এসেছে সবাই মিলে দেশ গড়ার। তিনি বলেন, পাহাড় ও সমতল, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান- সব সম্প্রদায়ের মানুষের সমন্বয়ে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় বিএনপি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর পূর্বাচলে আয়োজিত গণসংবর্ধনায় দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। *“প্রিয় বাংলাদেশ”* বলে বক্তব্য শুরু করে তিনি বলেন, প্রথমেই মহান রাব্বুল আলামিনের প্রতি শুকরিয়া আদায় করছি। তাঁর দোয়াতেই আমি আবার মাতৃভূমিতে ফিরে এসেছি।

তিনি বলেন, যে বাংলাদেশে নারী, পুরুষ কিংবা শিশু- যেই হোক না কেন- নিরাপদে ঘর থেকে বের হয়ে আবার নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারবে, এমন একটি রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য নিয়েই এগোতে হবে।

স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে যেমন এ দেশের মানুষ স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, ঠিক তেমনি ২০২৪ সালে সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছে। তিনি বলেন, আজ দেশের মানুষ কথা বলার অধিকার এবং গণতন্ত্রের অধিকার ফিরে পেতে চায়।

সম্প্রতি শহীদ ওসমান হাদির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ওসমান হাদি চেয়েছিলেন এ দেশের মানুষ তাদের অর্থনৈতিক অধিকার ফিরে পাক। তিনি বলেন, ৭১-এর শহীদদের পাশাপাশি ২৪-এর শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতেই হবে। তরুণ প্রজন্মই আগামী দিনে দেশ গঠনের নেতৃত্ব দেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিংয়ের ঐতিহাসিক উক্তি ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’ উল্লেখ করে বলেন, “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রত্যেক মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।” শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার জানিয়ে তিনি তিনবার বলেন, “আমরা দেশের শান্তি চাই।”

বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে গণসংবর্ধনার মঞ্চে উপস্থিত হন তারেক রহমান এবং বিকেল ৩টা ৫৭ মিনিটে বক্তব্য শুরু করেন। তাকে মঞ্চে স্বাগত জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দীর্ঘ ১৭ বছর পর বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছান তারেক রহমান। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তিনি। ঢাকায় অবতরণের আগে তাঁর বহনকারী বিমানটি সিলেটে স্বল্প সময়ের জন্য অবতরণ করে। দেশে ফেরার সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান।

বিমানবন্দর থেকে তিনি জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে- ৩০০ ফিট সড়ক হয়ে- পূর্বাচলের সংবর্ধনাস্থলে যান। সেখানে অপেক্ষমাণ নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য দেন। গণসংবর্ধনা শেষে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। পরে গুলশান-২ নম্বরের বাসভবনে যাওয়ার সূচি রয়েছে।

এদিকে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঘিরে পূর্বাচলের সংবর্ধনাস্থলে বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই নেতাকর্মীদের ঢল নামে। হেঁটে ও খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে তারা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, মঞ্চে ১৯টি চেয়ার প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং চারপাশে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা। কুড়িল সড়ক থেকে ৩০০ ফিট সড়কজুড়ে তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে টাঙানো হয়েছে অসংখ্য ব্যানার ও ফেস্টুন। স্লোগান আর উচ্ছ্বাসে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

 

নতুন কথা/এসআর

জনপ্রিয় সংবাদ

ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

দেশ গঠনে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানালেন তারেক রহমান

আপডেট সময় ০৬:১১:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

দেশ গঠনে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এখন সময় এসেছে সবাই মিলে দেশ গড়ার। তিনি বলেন, পাহাড় ও সমতল, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান- সব সম্প্রদায়ের মানুষের সমন্বয়ে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় বিএনপি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর পূর্বাচলে আয়োজিত গণসংবর্ধনায় দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। *“প্রিয় বাংলাদেশ”* বলে বক্তব্য শুরু করে তিনি বলেন, প্রথমেই মহান রাব্বুল আলামিনের প্রতি শুকরিয়া আদায় করছি। তাঁর দোয়াতেই আমি আবার মাতৃভূমিতে ফিরে এসেছি।

তিনি বলেন, যে বাংলাদেশে নারী, পুরুষ কিংবা শিশু- যেই হোক না কেন- নিরাপদে ঘর থেকে বের হয়ে আবার নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারবে, এমন একটি রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য নিয়েই এগোতে হবে।

স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে যেমন এ দেশের মানুষ স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, ঠিক তেমনি ২০২৪ সালে সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছে। তিনি বলেন, আজ দেশের মানুষ কথা বলার অধিকার এবং গণতন্ত্রের অধিকার ফিরে পেতে চায়।

সম্প্রতি শহীদ ওসমান হাদির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ওসমান হাদি চেয়েছিলেন এ দেশের মানুষ তাদের অর্থনৈতিক অধিকার ফিরে পাক। তিনি বলেন, ৭১-এর শহীদদের পাশাপাশি ২৪-এর শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতেই হবে। তরুণ প্রজন্মই আগামী দিনে দেশ গঠনের নেতৃত্ব দেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিংয়ের ঐতিহাসিক উক্তি ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’ উল্লেখ করে বলেন, “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রত্যেক মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।” শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার জানিয়ে তিনি তিনবার বলেন, “আমরা দেশের শান্তি চাই।”

বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে গণসংবর্ধনার মঞ্চে উপস্থিত হন তারেক রহমান এবং বিকেল ৩টা ৫৭ মিনিটে বক্তব্য শুরু করেন। তাকে মঞ্চে স্বাগত জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দীর্ঘ ১৭ বছর পর বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছান তারেক রহমান। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তিনি। ঢাকায় অবতরণের আগে তাঁর বহনকারী বিমানটি সিলেটে স্বল্প সময়ের জন্য অবতরণ করে। দেশে ফেরার সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান।

বিমানবন্দর থেকে তিনি জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে- ৩০০ ফিট সড়ক হয়ে- পূর্বাচলের সংবর্ধনাস্থলে যান। সেখানে অপেক্ষমাণ নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য দেন। গণসংবর্ধনা শেষে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। পরে গুলশান-২ নম্বরের বাসভবনে যাওয়ার সূচি রয়েছে।

এদিকে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঘিরে পূর্বাচলের সংবর্ধনাস্থলে বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই নেতাকর্মীদের ঢল নামে। হেঁটে ও খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে তারা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, মঞ্চে ১৯টি চেয়ার প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং চারপাশে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা। কুড়িল সড়ক থেকে ৩০০ ফিট সড়কজুড়ে তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে টাঙানো হয়েছে অসংখ্য ব্যানার ও ফেস্টুন। স্লোগান আর উচ্ছ্বাসে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

 

নতুন কথা/এসআর