ঢাকা ০৫:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজের আহ্বান রাষ্ট্রপতির ঈদুল আজহায় তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানালেন নরেন্দ্র মোদি গোপালগঞ্জে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে ৫ নিহত, আহত অন্তত ১০ ঈদুল আজহা: ত্যাগের চেতনায় মানবতার পুনর্জাগরণ ঈদুল আজহায় দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন ‘নতুন কথা’র সম্পাদক মাজেদা রহমান শারমিন জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত আত্মত্যাগের বার্তা নিয়ে এলো পবিত্র ঈদুল আজহা নজরুল জন্মজয়ন্তীতে যোগ দিতে আজ ময়মনসিংহে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নিষ্পাপ মুখগুলোর নীরব আর্তনাদ ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবির পরিচালক হচ্ছেন ৪ জন

মায়ের জন্য দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করলেন তারেক রহমান

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৪:২০:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৫৪ বার পড়া হয়েছে

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজার আগমুহূর্তে আবেগঘন বক্তব্যে মায়ের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে জীবদ্দশায় খালেদা জিয়ার কোনো কথা বা আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করেন তিনি।

বুধবার বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জানাজা শুরুর ঠিক আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, “আমি মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বড় সন্তান তারেক রহমান। এখানে উপস্থিত ভাই-বোনদের কাছে বিনীত অনুরোধ, আমার মা জীবিত থাকাকালে যদি কারও কাছ থেকে কোনো ঋণ নিয়ে থাকেন, তাহলে অনুগ্রহ করে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। ইনশা আল্লাহ, আমি সেই ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করবো।”

কণ্ঠে গভীর আবেগ নিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমার মায়ের কোনো ব্যবহার বা কথায় যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাহলে তার পক্ষ থেকে আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আপনারা সবাই তার জন্য দোয়া করবেন, আল্লাহ তায়ালা যেন তাকে বেহেস্ত নসিব করেন।”

এরপরই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে শুরু হয় বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আবদুল মালেক জানাজায় ইমামতি করেন। জানাজায় অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ তিন বাহিনীর প্রধানরা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা।

জানাজায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার লাখো মানুষ। কনকনে শীত উপেক্ষা করে নীরবতা আর অশ্রুসিক্ত চোখে তারা শেষ বিদায় জানান তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে।

এর আগে বুধবার বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটের দিকে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ বহনকারী ফ্রিজার ভ্যান জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় পৌঁছায়। সকাল ৮টা ৫৪ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে মরদেহটি গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসায় নেওয়া হয়, যেখানে পরিবারের সদস্য ও দলীয় নেতারা শেষ শ্রদ্ধা জানান।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার মৃত্যুতে সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে বিএনপি সাত দিনের শোক কর্মসূচি পালন করছে।

এক দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অবসানে, ক্ষমা, দোয়া আর নীরব অশ্রুতে বিদায় জানানো হলো বাংলাদেশের রাজনীতির এক প্রভাবশালী ও আলোচিত নেত্রীকে।

নতুন কথা/এসআর

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

মায়ের জন্য দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করলেন তারেক রহমান

আপডেট সময় ০৪:২০:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজার আগমুহূর্তে আবেগঘন বক্তব্যে মায়ের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে জীবদ্দশায় খালেদা জিয়ার কোনো কথা বা আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করেন তিনি।

বুধবার বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জানাজা শুরুর ঠিক আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, “আমি মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বড় সন্তান তারেক রহমান। এখানে উপস্থিত ভাই-বোনদের কাছে বিনীত অনুরোধ, আমার মা জীবিত থাকাকালে যদি কারও কাছ থেকে কোনো ঋণ নিয়ে থাকেন, তাহলে অনুগ্রহ করে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। ইনশা আল্লাহ, আমি সেই ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করবো।”

কণ্ঠে গভীর আবেগ নিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমার মায়ের কোনো ব্যবহার বা কথায় যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাহলে তার পক্ষ থেকে আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আপনারা সবাই তার জন্য দোয়া করবেন, আল্লাহ তায়ালা যেন তাকে বেহেস্ত নসিব করেন।”

এরপরই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে শুরু হয় বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আবদুল মালেক জানাজায় ইমামতি করেন। জানাজায় অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ তিন বাহিনীর প্রধানরা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা।

জানাজায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার লাখো মানুষ। কনকনে শীত উপেক্ষা করে নীরবতা আর অশ্রুসিক্ত চোখে তারা শেষ বিদায় জানান তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে।

এর আগে বুধবার বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটের দিকে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ বহনকারী ফ্রিজার ভ্যান জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় পৌঁছায়। সকাল ৮টা ৫৪ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে মরদেহটি গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসায় নেওয়া হয়, যেখানে পরিবারের সদস্য ও দলীয় নেতারা শেষ শ্রদ্ধা জানান।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার মৃত্যুতে সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে বিএনপি সাত দিনের শোক কর্মসূচি পালন করছে।

এক দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অবসানে, ক্ষমা, দোয়া আর নীরব অশ্রুতে বিদায় জানানো হলো বাংলাদেশের রাজনীতির এক প্রভাবশালী ও আলোচিত নেত্রীকে।

নতুন কথা/এসআর