ঢাকা ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজের আহ্বান রাষ্ট্রপতির ঈদুল আজহায় তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানালেন নরেন্দ্র মোদি গোপালগঞ্জে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে ৫ নিহত, আহত অন্তত ১০ ঈদুল আজহা: ত্যাগের চেতনায় মানবতার পুনর্জাগরণ ঈদুল আজহায় দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন ‘নতুন কথা’র সম্পাদক মাজেদা রহমান শারমিন জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত আত্মত্যাগের বার্তা নিয়ে এলো পবিত্র ঈদুল আজহা নজরুল জন্মজয়ন্তীতে যোগ দিতে আজ ময়মনসিংহে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নিষ্পাপ মুখগুলোর নীরব আর্তনাদ ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবির পরিচালক হচ্ছেন ৪ জন

আপনারা যে সহমর্মিতা, সম্মান এবং দায়িত্ববোধ দেখিয়েছেন, তা আমাদের হৃদয় স্পর্শ করেছে: তারেক রহমান

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১২:১৭:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৫ বার পড়া হয়েছে

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করতে যাঁরা দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁদের প্রতি নিজের ও পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, গভীর শোকের এই সময়ে দায়িত্বশীল সবার সহমর্মিতা, সম্মানবোধ ও পেশাদারিত্ব তাঁদের হৃদয় স্পর্শ করেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তারেক রহমান এসব কথা বলেন। পোস্টে তিনি লেখেন, জীবনের এক গভীর শোকের মুহূর্তে তিনি তাঁর মায়ের শেষ বিদায় জানাতে পেরেছেন, যা দেশের মানুষের অংশগ্রহণে যথাযথ সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে।

তারেক রহমান উল্লেখ করেন, এই ঐতিহাসিক বিদায় সম্ভব হয়েছে দায়িত্ব পালনকারী সবার আন্তরিকতা, যত্ন ও পেশাদারিত্বের কারণে। তিনি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান জানাজা ও দাফন উপলক্ষে অবিরাম দায়িত্ব পালন করা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যদের। তাঁর ভাষায়, তাঁরা শুধু শৃঙ্খলা বজায় রাখেননি, শোকময় পরিবেশেও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সকল বাহিনীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। এর মধ্যে রয়েছে, মাননীয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, র‍্যাব এবং এপিবিএন। তিনি বলেন, তাঁদের ধৈর্য, সততা ও দায়িত্ববোধের কারণেই লক্ষাধিক মানুষ নিরাপদে একত্রিত হয়ে শোক প্রকাশ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পেরেছেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন।

পোস্টে চোখের আড়ালে থাকা দায়িত্বশীলদের কথাও স্মরণ করেন তারেক রহমান। ডিজিএফআই, এনএসআই ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের নিবেদিত সদস্যদের প্রতিও সমানভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তাঁদের সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার কারণেই পুরো দিনটি নিরাপদ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পিএসও, এসএসএফের ডিজি, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত, তথ্য ও সম্প্রচার, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক, সংস্কৃতি এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবদানও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। তাঁদের সমন্বয় ও উপস্থিতির ফলে পরিবার ও জাতি শান্তিপূর্ণভাবে শোক প্রকাশের সুযোগ পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁদের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণেই বিদেশি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা সরাসরি উপস্থিত হয়ে সমবেদনা জানাতে পেরেছেন। এতে প্রমাণ হয়, দেশের সীমানার বাইরেও তাঁর মায়ের প্রতি কতটা গভীর সম্মান ও ভালোবাসা ছিল।

সাংবাদিকদের ভূমিকাও বিশেষভাবে তুলে ধরেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, কয়েক বর্গকিলোমিটারজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিশাল জনসমুদ্রে এই আয়োজন কাভার করা ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তবুও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমকর্মীরা নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে জানাজা ও দাফনের খবর, ছবি ও ভিডিও বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। এজন্য তিনি সাংবাদিকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

পোস্টের শেষাংশে তারেক রহমান মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সকল সদস্যদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, জাতীয় শোকের এই কঠিন সময়ে তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থেকে প্রতিটি মুহূর্তে শান্তি ও যত্ন বজায় রাখতে সহায়তা করেছেন, যা তাঁদের পরিবারের জন্য অমূল্য সমর্থন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

সবশেষে তিনি লেখেন, প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবে, আমার পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। গভীর শোকের এই সময়ে আপনারা যে সহমর্মিতা, সম্মান এবং দায়িত্ববোধ দেখিয়েছেন, তা আমাদের হৃদয় স্পর্শ করেছে। আলহামদুলিল্লাহ, আপনাদের কারণেই আমরা মর্যাদার সঙ্গে আমার মায়ের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে পেরেছি।

নতুন কথা/এসআর

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

আপনারা যে সহমর্মিতা, সম্মান এবং দায়িত্ববোধ দেখিয়েছেন, তা আমাদের হৃদয় স্পর্শ করেছে: তারেক রহমান

আপডেট সময় ১২:১৭:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করতে যাঁরা দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁদের প্রতি নিজের ও পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, গভীর শোকের এই সময়ে দায়িত্বশীল সবার সহমর্মিতা, সম্মানবোধ ও পেশাদারিত্ব তাঁদের হৃদয় স্পর্শ করেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তারেক রহমান এসব কথা বলেন। পোস্টে তিনি লেখেন, জীবনের এক গভীর শোকের মুহূর্তে তিনি তাঁর মায়ের শেষ বিদায় জানাতে পেরেছেন, যা দেশের মানুষের অংশগ্রহণে যথাযথ সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে।

তারেক রহমান উল্লেখ করেন, এই ঐতিহাসিক বিদায় সম্ভব হয়েছে দায়িত্ব পালনকারী সবার আন্তরিকতা, যত্ন ও পেশাদারিত্বের কারণে। তিনি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান জানাজা ও দাফন উপলক্ষে অবিরাম দায়িত্ব পালন করা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যদের। তাঁর ভাষায়, তাঁরা শুধু শৃঙ্খলা বজায় রাখেননি, শোকময় পরিবেশেও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সকল বাহিনীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। এর মধ্যে রয়েছে, মাননীয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, র‍্যাব এবং এপিবিএন। তিনি বলেন, তাঁদের ধৈর্য, সততা ও দায়িত্ববোধের কারণেই লক্ষাধিক মানুষ নিরাপদে একত্রিত হয়ে শোক প্রকাশ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পেরেছেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন।

পোস্টে চোখের আড়ালে থাকা দায়িত্বশীলদের কথাও স্মরণ করেন তারেক রহমান। ডিজিএফআই, এনএসআই ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের নিবেদিত সদস্যদের প্রতিও সমানভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তাঁদের সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার কারণেই পুরো দিনটি নিরাপদ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পিএসও, এসএসএফের ডিজি, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত, তথ্য ও সম্প্রচার, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক, সংস্কৃতি এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবদানও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। তাঁদের সমন্বয় ও উপস্থিতির ফলে পরিবার ও জাতি শান্তিপূর্ণভাবে শোক প্রকাশের সুযোগ পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁদের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণেই বিদেশি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা সরাসরি উপস্থিত হয়ে সমবেদনা জানাতে পেরেছেন। এতে প্রমাণ হয়, দেশের সীমানার বাইরেও তাঁর মায়ের প্রতি কতটা গভীর সম্মান ও ভালোবাসা ছিল।

সাংবাদিকদের ভূমিকাও বিশেষভাবে তুলে ধরেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, কয়েক বর্গকিলোমিটারজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিশাল জনসমুদ্রে এই আয়োজন কাভার করা ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তবুও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমকর্মীরা নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে জানাজা ও দাফনের খবর, ছবি ও ভিডিও বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। এজন্য তিনি সাংবাদিকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

পোস্টের শেষাংশে তারেক রহমান মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সকল সদস্যদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, জাতীয় শোকের এই কঠিন সময়ে তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থেকে প্রতিটি মুহূর্তে শান্তি ও যত্ন বজায় রাখতে সহায়তা করেছেন, যা তাঁদের পরিবারের জন্য অমূল্য সমর্থন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

সবশেষে তিনি লেখেন, প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবে, আমার পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। গভীর শোকের এই সময়ে আপনারা যে সহমর্মিতা, সম্মান এবং দায়িত্ববোধ দেখিয়েছেন, তা আমাদের হৃদয় স্পর্শ করেছে। আলহামদুলিল্লাহ, আপনাদের কারণেই আমরা মর্যাদার সঙ্গে আমার মায়ের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে পেরেছি।

নতুন কথা/এসআর