ঢাকা ১০:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রীর মৃত্যুর খবর, পরিবারে শোকের ছায়া মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে: ইরানে হামলা, পাল্টা আঘাতে কাঁপল চার দেশ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী জামায়াতের ইফতার মাহফিলে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী বাঁচা-মরার ম্যাচে পাকিস্তানের একাদশ নিয়ে বিতর্ক, পরামর্শ দিচ্ছেন তারকারা মধ্যরাত থেকে পদ্মা-মেঘনায় দুই মাস মাছ ধরা নিষিদ্ধ পিলখানার হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ এখন স্পষ্ট বললেন প্রধানমন্ত্রী পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর: শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ ফ্যামিলি কার্ডের মতো ‘কৃষক কার্ড’ পাইলট প্রকল্প চালু করছে সরকার : তথ্যমন্ত্রী দুই ম্যাচ জিতেও হতে পারে সেমিফাইনাল হার

চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মুছাব্বির হত্যাকাণ্ড: ডিবি

রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করেই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বিরকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা একাধিক চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর মিন্টু রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান। ডিবি প্রধান বলেন, কারওয়ান বাজার এলাকায় প্রকাশ্যে ও গোপনে চাঁদা আদায়ের সঙ্গে জড়িত অন্তত আট থেকে নয়টি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। চাঁদার অর্থ ভাগাভাগি ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে দিলীপ ওরফে বিনাসের নির্দেশে মুছাব্বিরকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। এসব চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে ডিবি কাজ করছে এবং খুব শিগগিরই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও জানান তিনি।

ডিবি প্রধান জানান, স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা উত্তর সিটি ইউনিটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুছাব্বিরকে গত ৭ জানুয়ারি কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ের পাশের একটি গলিতে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন তার স্ত্রী তেজগাঁও থানায় চার থেকে পাঁচজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে নেমে ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, সর্বশেষ শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভার মনোহরদী থানা এলাকার শাহজাহান খলিফার ভাড়া বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী অন্যতম শ্যুটার মো. রহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তার কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মাধবদী থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিবি প্রধান বলেন, কারওয়ান বাজার একটি বড় ব্যবসাকেন্দ্র ও কাঁচাবাজার এলাকা। এখানকার দখল বাণিজ্য ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। দলীয় লোকজনের সঙ্গে চাঁদাবাজি নিয়ে কোনো বিরোধ ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের কোনো দল নেই। তারা বিভিন্ন নামে ও ব্যানারে চাঁদা তোলে। এই সিন্ডিকেটগুলো ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যে ডিবি কাজ করছে এবং অচিরেই বড় ধরনের অপারেশন চালানো হবে।

ডিবি প্রধান আরও বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে দিলীপ ওরফে বিনাস নামের একজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে, যিনি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের প্রত্যেকের সঙ্গেই তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। একজন আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন, যেখানে ‘দাদা আছে, দাদা দেখবে’- এমন বক্তব্য এসেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, তার নির্দেশেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা ভাড়াটে হিসেবে কাজ করলেও তারাও কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিল। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রহিম ও জিন্নাত দৌড়ে পালাচ্ছে এবং তারাই গুলি চালিয়েছে। বিনাস সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিনাস আন্ডারওয়ার্ল্ডের একজন পরিচিত সন্ত্রাসী। তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তবে তার নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় প্রসঙ্গে ডিবি প্রধান বলেন, সন্ত্রাসীদের কোনো রাজনৈতিক দল বা আদর্শ নেই। তারা নিজেদের স্বার্থে বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে থাকে। সামনে জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চলছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি জানান, চলতি মাসেই ডিবি প্রায় ১৩টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে এবং অন্যান্য সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে, ১১ জানুয়ারি এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে জিন্নাত (২৪), আবদুল কাদির (২৮), মো. রিয়াজ (৩১) ও মো. বিলালকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। সর্বশেষ নরসিংদী থেকে রহিম গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এ ঘটনায় মোট পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের পরিচয় সম্পর্কে ডিবি প্রধান বলেন, তাদের চাঁদাবাজ হিসেবেই চিহ্নিত করা উচিত। চাঁদাবাজদের কোনো রাজনৈতিক আদর্শ নেই- চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যেই তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যানারের আশ্রয় নেয়।

 

নতুন কথা/এসআর

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রীর মৃত্যুর খবর, পরিবারে শোকের ছায়া

চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মুছাব্বির হত্যাকাণ্ড: ডিবি

আপডেট সময় ০২:৩৯:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করেই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বিরকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা একাধিক চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর মিন্টু রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান। ডিবি প্রধান বলেন, কারওয়ান বাজার এলাকায় প্রকাশ্যে ও গোপনে চাঁদা আদায়ের সঙ্গে জড়িত অন্তত আট থেকে নয়টি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। চাঁদার অর্থ ভাগাভাগি ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে দিলীপ ওরফে বিনাসের নির্দেশে মুছাব্বিরকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। এসব চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে ডিবি কাজ করছে এবং খুব শিগগিরই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও জানান তিনি।

ডিবি প্রধান জানান, স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা উত্তর সিটি ইউনিটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুছাব্বিরকে গত ৭ জানুয়ারি কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ের পাশের একটি গলিতে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন তার স্ত্রী তেজগাঁও থানায় চার থেকে পাঁচজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে নেমে ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, সর্বশেষ শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভার মনোহরদী থানা এলাকার শাহজাহান খলিফার ভাড়া বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী অন্যতম শ্যুটার মো. রহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তার কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মাধবদী থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিবি প্রধান বলেন, কারওয়ান বাজার একটি বড় ব্যবসাকেন্দ্র ও কাঁচাবাজার এলাকা। এখানকার দখল বাণিজ্য ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। দলীয় লোকজনের সঙ্গে চাঁদাবাজি নিয়ে কোনো বিরোধ ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের কোনো দল নেই। তারা বিভিন্ন নামে ও ব্যানারে চাঁদা তোলে। এই সিন্ডিকেটগুলো ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যে ডিবি কাজ করছে এবং অচিরেই বড় ধরনের অপারেশন চালানো হবে।

ডিবি প্রধান আরও বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে দিলীপ ওরফে বিনাস নামের একজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে, যিনি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের প্রত্যেকের সঙ্গেই তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। একজন আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন, যেখানে ‘দাদা আছে, দাদা দেখবে’- এমন বক্তব্য এসেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, তার নির্দেশেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা ভাড়াটে হিসেবে কাজ করলেও তারাও কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিল। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রহিম ও জিন্নাত দৌড়ে পালাচ্ছে এবং তারাই গুলি চালিয়েছে। বিনাস সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিনাস আন্ডারওয়ার্ল্ডের একজন পরিচিত সন্ত্রাসী। তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তবে তার নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় প্রসঙ্গে ডিবি প্রধান বলেন, সন্ত্রাসীদের কোনো রাজনৈতিক দল বা আদর্শ নেই। তারা নিজেদের স্বার্থে বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে থাকে। সামনে জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চলছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি জানান, চলতি মাসেই ডিবি প্রায় ১৩টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে এবং অন্যান্য সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে, ১১ জানুয়ারি এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে জিন্নাত (২৪), আবদুল কাদির (২৮), মো. রিয়াজ (৩১) ও মো. বিলালকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। সর্বশেষ নরসিংদী থেকে রহিম গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এ ঘটনায় মোট পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের পরিচয় সম্পর্কে ডিবি প্রধান বলেন, তাদের চাঁদাবাজ হিসেবেই চিহ্নিত করা উচিত। চাঁদাবাজদের কোনো রাজনৈতিক আদর্শ নেই- চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যেই তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যানারের আশ্রয় নেয়।

 

নতুন কথা/এসআর