ঢাকা ০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজের আহ্বান রাষ্ট্রপতির ঈদুল আজহায় তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানালেন নরেন্দ্র মোদি গোপালগঞ্জে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে ৫ নিহত, আহত অন্তত ১০ ঈদুল আজহা: ত্যাগের চেতনায় মানবতার পুনর্জাগরণ ঈদুল আজহায় দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন ‘নতুন কথা’র সম্পাদক মাজেদা রহমান শারমিন জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত আত্মত্যাগের বার্তা নিয়ে এলো পবিত্র ঈদুল আজহা নজরুল জন্মজয়ন্তীতে যোগ দিতে আজ ময়মনসিংহে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নিষ্পাপ মুখগুলোর নীরব আর্তনাদ ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবির পরিচালক হচ্ছেন ৪ জন

৭২ ঘণ্টা মোটরসাইকেল বন্ধ: ভোটের আগে-পরে তিন দিন যানবাহন চলাচলে কড়াকড়ি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সারাদেশে যানবাহন চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটগ্রহণের আগে ও পরে মোট তিন দিন- অর্থাৎ ৭২ ঘণ্টা- মোটরসাইকেল চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি ভোটের দিন ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। একইদিন সব ধরনের নৌযান চলাচলও বন্ধ থাকবে।

মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি চিঠি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। এর একটি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবের কাছে এবং অন্যটি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে।

ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত ১২ ফেব্রুয়ারির আগের দিন অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা থেকে ভোটের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে।

এ ছাড়া ১০ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত- মোট ৭২ ঘণ্টা- সারাদেশে মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

তবে জরুরি ও বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে। এর আওতামুক্ত থাকবে-
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী ও প্রশাসনের যানবাহন, অনুমতিপ্রাপ্ত নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী পরিবহন এবং সংবাদপত্র বহনকারী যানবাহন।

এছাড়া বৈধ টিকিট প্রদর্শন সাপেক্ষে বিমানবন্দরে যাতায়াতকারী যাত্রী ও তাদের স্বজনদের ব্যবহৃত যানবাহন এবং দূরপাল্লার যাত্রী পরিবহনও চলাচল করতে পারবে।

রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদন ও স্টিকার প্রদর্শন সাপেক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রত্যেক প্রার্থীর জন্য একটি এবং তার নির্বাচনী এজেন্টের জন্য একটি করে গাড়ি, সাংবাদিক, নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও জরুরি কাজে নিয়োজিত যানবাহন নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। এমনকি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রয়োজনীয় ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে মোটরসাইকেল চলাচলের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।

টেলিযোগাযোগ সেবাকে জরুরি সেবা হিসেবে বিবেচনা করে বিটিআরসি ও এর লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর যানবাহন চলাচলেও কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকবে না। প্রয়োজনে জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর, আন্তঃজেলা ও মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ক্ষমতা থাকবে স্থানীয় প্রশাসনের হাতে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে ইসি জানিয়েছে, ভোটের আগের দিন অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা থেকে ভোটের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত-২৪ ঘণ্টা- লঞ্চ ও ইঞ্জিন বোটসহ (নির্দিষ্ট রুটে চলাচলকারী ব্যতীত) সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে।

তবে রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি সাপেক্ষে প্রার্থী ও তাদের নির্বাচনী এজেন্ট, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক, সাংবাদিক (পরিচয়পত্র থাকতে হবে), নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা যাবে।

এ ছাড়া অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডাক ও টেলিযোগাযোগসহ জরুরি সেবায় ব্যবহৃত নৌযান নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে। প্রধান নৌপথে বন্দর কার্যক্রম, জরুরি পণ্য পরিবহন এবং ভোটার ও জনসাধারণের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত নৌযান ও দূরপাল্লার নৌযান চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, স্থানীয় বাস্তবতা ও প্রয়োজন বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা ক্ষেত্রমতে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার প্রয়োজনে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

 

নতুন কথা/এসআর

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

৭২ ঘণ্টা মোটরসাইকেল বন্ধ: ভোটের আগে-পরে তিন দিন যানবাহন চলাচলে কড়াকড়ি

আপডেট সময় ০২:০৭:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সারাদেশে যানবাহন চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটগ্রহণের আগে ও পরে মোট তিন দিন- অর্থাৎ ৭২ ঘণ্টা- মোটরসাইকেল চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি ভোটের দিন ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। একইদিন সব ধরনের নৌযান চলাচলও বন্ধ থাকবে।

মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি চিঠি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। এর একটি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবের কাছে এবং অন্যটি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে।

ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত ১২ ফেব্রুয়ারির আগের দিন অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা থেকে ভোটের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে।

এ ছাড়া ১০ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত- মোট ৭২ ঘণ্টা- সারাদেশে মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

তবে জরুরি ও বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে। এর আওতামুক্ত থাকবে-
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী ও প্রশাসনের যানবাহন, অনুমতিপ্রাপ্ত নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী পরিবহন এবং সংবাদপত্র বহনকারী যানবাহন।

এছাড়া বৈধ টিকিট প্রদর্শন সাপেক্ষে বিমানবন্দরে যাতায়াতকারী যাত্রী ও তাদের স্বজনদের ব্যবহৃত যানবাহন এবং দূরপাল্লার যাত্রী পরিবহনও চলাচল করতে পারবে।

রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদন ও স্টিকার প্রদর্শন সাপেক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রত্যেক প্রার্থীর জন্য একটি এবং তার নির্বাচনী এজেন্টের জন্য একটি করে গাড়ি, সাংবাদিক, নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও জরুরি কাজে নিয়োজিত যানবাহন নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। এমনকি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রয়োজনীয় ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে মোটরসাইকেল চলাচলের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।

টেলিযোগাযোগ সেবাকে জরুরি সেবা হিসেবে বিবেচনা করে বিটিআরসি ও এর লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর যানবাহন চলাচলেও কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকবে না। প্রয়োজনে জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর, আন্তঃজেলা ও মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ক্ষমতা থাকবে স্থানীয় প্রশাসনের হাতে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে ইসি জানিয়েছে, ভোটের আগের দিন অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা থেকে ভোটের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত-২৪ ঘণ্টা- লঞ্চ ও ইঞ্জিন বোটসহ (নির্দিষ্ট রুটে চলাচলকারী ব্যতীত) সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে।

তবে রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি সাপেক্ষে প্রার্থী ও তাদের নির্বাচনী এজেন্ট, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক, সাংবাদিক (পরিচয়পত্র থাকতে হবে), নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা যাবে।

এ ছাড়া অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডাক ও টেলিযোগাযোগসহ জরুরি সেবায় ব্যবহৃত নৌযান নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে। প্রধান নৌপথে বন্দর কার্যক্রম, জরুরি পণ্য পরিবহন এবং ভোটার ও জনসাধারণের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত নৌযান ও দূরপাল্লার নৌযান চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, স্থানীয় বাস্তবতা ও প্রয়োজন বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা ক্ষেত্রমতে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার প্রয়োজনে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

 

নতুন কথা/এসআর