ঢাকা ০৬:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চীনের কাছেও হার, বিদায়ের শঙ্কায় বাংলাদেশ নারী দল গণভোট বাতিলের সঙ্গে জুলাই সনদের কোনো সম্পর্ক নেই: আইনমন্ত্রী ইরান ইস্যুতে হোয়াইট হাউস-পেন্টাগন দ্বন্দ্ব, যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন সংকটের আভাস কুষ্টিয়ায় ১৮ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু, হামের উপসর্গে উদ্বেগ বাড়ছে একদিনে দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, হরমুজ অঞ্চলে উত্তেজনা জনবল সংকটে অচল আইসিইউ, রাজশাহী বিভাগে বাড়ছে সংকট, চাপের মুখে রামেক শ্রীলঙ্কার কাছে অপ্রত্যাশিত হার, কঠিন সমীকরণে বাংলাদেশ হকি দল কুষ্টিয়ায় হামে আক্রান্ত হয়ে আট মাস বয়সী শিশুর মৃত্যু ২০০ টাকার নিচে নেই মাছ, ঈদের পরও চাপে নিত্যপণ্যের বাজার হাজারীবাগে ভাড়া বাসা থেকে ঢাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

ক্ষমতায় গেলে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার গড়ার অঙ্গীকার তারেক রহমানের

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামী দিনে সরকার হবে জনগণের কাছে সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে এবং দেশে পুনরায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে- এটি বিএনপির অঙ্গীকার।

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি। ভাষণটি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

তারেক রহমান বলেন, জনগণের কাছে রাষ্ট্র ও সরকারকে দায়বদ্ধ রাখার কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, আপনারাই বিএনপির সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। তাই জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকাই আমাদের রাজনীতির মূল ভিত্তি।

ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে নির্বাচন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির তথাকথিত নির্বাচনের সময় জনগণকে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। এবারের নির্বাচন জনগণের রাজনৈতিক অধিকার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার নির্বাচন, বলেন তিনি।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আপনাদের কাছে আমার বিনীত আবেদন- ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদিন ধানের শীষে ভোট দিন। তারুণ্যের প্রথম ভোট ধানের শীষের জন্য হোক।

তিনি আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি আপনারা ধানের শীষের প্রার্থীদের দায়িত্ব দেবেন। আর ১৩ তারিখ থেকে নির্বাচিত এমপিরা আপনাদের দায়িত্ব নেবেন। তারা দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করছেন কি না, সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমি নেব ইনশাআল্লাহ।

রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপির নীতির কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ক্ষমতায় গেলে দলের মূল মন্ত্র হবে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)- এর ন্যায়বিচারের আদর্শ অনুসরণ করা। জনগণের অধিকার রক্ষা, সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই হবে সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে দীর্ঘদিন ধরে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলেও আমি সরকারে ছিলাম না। একজন কর্মী হিসেবে দেশজুড়ে ঘুরে জনগণের সমস্যা ও সম্ভাবনা বোঝার চেষ্টা করেছি। বিদেশে অবস্থানকালীন সময়েও দেশের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, আপনাদের ভালোবাসা, বিএনপির প্রতি আপনাদের আবেগ আমি গভীরভাবে উপলব্ধি করেছি। ১২ ফেব্রুয়ারি সেই ভালোবাসা প্রকাশের দিন।

অতীতের ভুল স্বীকার করে তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার সময় অনিচ্ছাকৃত কিছু ভুলত্রুটি হয়ে থাকতে পারে। সেজন্য আমি দেশবাসীর কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। তিনি বলেন, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে অর্জনগুলোকে ভিত্তি করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে চান তারা।

শেষে তিনি বলেন, দেশ, জনগণ ও পরিবারের কল্যাণে বিএনপির যে পরিকল্পনা রয়েছে, তা বাস্তবায়নের জন্য ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট ও সমর্থন চান তিনি।

 

নতুন কথা/এসআর

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের কাছেও হার, বিদায়ের শঙ্কায় বাংলাদেশ নারী দল

ক্ষমতায় গেলে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার গড়ার অঙ্গীকার তারেক রহমানের

আপডেট সময় ০৮:৪৬:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামী দিনে সরকার হবে জনগণের কাছে সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে এবং দেশে পুনরায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে- এটি বিএনপির অঙ্গীকার।

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি। ভাষণটি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

তারেক রহমান বলেন, জনগণের কাছে রাষ্ট্র ও সরকারকে দায়বদ্ধ রাখার কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, আপনারাই বিএনপির সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। তাই জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকাই আমাদের রাজনীতির মূল ভিত্তি।

ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে নির্বাচন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির তথাকথিত নির্বাচনের সময় জনগণকে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। এবারের নির্বাচন জনগণের রাজনৈতিক অধিকার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার নির্বাচন, বলেন তিনি।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আপনাদের কাছে আমার বিনীত আবেদন- ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদিন ধানের শীষে ভোট দিন। তারুণ্যের প্রথম ভোট ধানের শীষের জন্য হোক।

তিনি আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি আপনারা ধানের শীষের প্রার্থীদের দায়িত্ব দেবেন। আর ১৩ তারিখ থেকে নির্বাচিত এমপিরা আপনাদের দায়িত্ব নেবেন। তারা দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করছেন কি না, সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমি নেব ইনশাআল্লাহ।

রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপির নীতির কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ক্ষমতায় গেলে দলের মূল মন্ত্র হবে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)- এর ন্যায়বিচারের আদর্শ অনুসরণ করা। জনগণের অধিকার রক্ষা, সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই হবে সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে দীর্ঘদিন ধরে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলেও আমি সরকারে ছিলাম না। একজন কর্মী হিসেবে দেশজুড়ে ঘুরে জনগণের সমস্যা ও সম্ভাবনা বোঝার চেষ্টা করেছি। বিদেশে অবস্থানকালীন সময়েও দেশের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, আপনাদের ভালোবাসা, বিএনপির প্রতি আপনাদের আবেগ আমি গভীরভাবে উপলব্ধি করেছি। ১২ ফেব্রুয়ারি সেই ভালোবাসা প্রকাশের দিন।

অতীতের ভুল স্বীকার করে তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার সময় অনিচ্ছাকৃত কিছু ভুলত্রুটি হয়ে থাকতে পারে। সেজন্য আমি দেশবাসীর কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। তিনি বলেন, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে অর্জনগুলোকে ভিত্তি করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে চান তারা।

শেষে তিনি বলেন, দেশ, জনগণ ও পরিবারের কল্যাণে বিএনপির যে পরিকল্পনা রয়েছে, তা বাস্তবায়নের জন্য ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট ও সমর্থন চান তিনি।

 

নতুন কথা/এসআর