ঢাকা ০৭:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজের আহ্বান রাষ্ট্রপতির ঈদুল আজহায় তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানালেন নরেন্দ্র মোদি গোপালগঞ্জে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে ৫ নিহত, আহত অন্তত ১০ ঈদুল আজহা: ত্যাগের চেতনায় মানবতার পুনর্জাগরণ ঈদুল আজহায় দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন ‘নতুন কথা’র সম্পাদক মাজেদা রহমান শারমিন জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত আত্মত্যাগের বার্তা নিয়ে এলো পবিত্র ঈদুল আজহা নজরুল জন্মজয়ন্তীতে যোগ দিতে আজ ময়মনসিংহে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নিষ্পাপ মুখগুলোর নীরব আর্তনাদ ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবির পরিচালক হচ্ছেন ৪ জন

যাকাতের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সুশৃঙ্খল ও পরিকল্পিত যাকাত ব্যবস্থাপনা চালু করা গেলে দেশের দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব। লক্ষ্যভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে যাকাত বিতরণ করা হলে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যেই এর সুফল স্পষ্টভাবে পাওয়া যেতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর যমুনায় দেশের আলেম-ওলামা ও এতিমদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় চার কোটি পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে প্রতিবছর পর্যায়ক্রমে পাঁচ লাখ পরিবারকে এক লাখ টাকা করে যাকাত দেওয়া গেলে অনেক পরিবার অল্প সময়ের মধ্যেই স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারে। তার বিশ্বাস, এভাবে সহায়তা পেলে এসব পরিবারের বড় একটি অংশ পরের বছর আর যাকাতের ওপর নির্ভরশীল থাকবে না।

তিনি আলেম-ওলামা ও মাশায়েখদের উদ্দেশে বলেন, যাকাতের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের এই ধারণা যদি যৌক্তিক মনে হয়, তবে সমাজের বিত্তবানদের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে আলেম সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, যাকাত ব্যবস্থাপনাকে কার্যকর ও সমন্বিত করতে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা, ইসলামিক স্কলার, সরকারি কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীন বিদ্যমান যাকাত বোর্ড পুনর্গঠনের সম্ভাবনাও রয়েছে। তার মতে, সঠিকভাবে যাকাত ব্যবস্থাপনা করা গেলে ইসলামী বিশ্বে বাংলাদেশকে একটি সফল মডেল হিসেবে তুলে ধরা সম্ভব।

তারেক রহমান বলেন, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, বাংলাদেশে প্রতিবছর যাকাতের সম্ভাব্য পরিমাণ ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি। কেউ কেউ এর পরিমাণ আরও বেশি বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু সুসংগঠিত পরিকল্পনার অভাবে এই বিপুল অর্থ দারিদ্র্য বিমোচনে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে—তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পবিত্র এই মাস ত্যাগ, সংযম ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে রমজান এলেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দেন। তাদের উদ্দেশে তিনি অনুরোধ জানান, পবিত্র এই মাসকে লোভ-লাভের মাসে পরিণত না করে মানুষের কষ্ট লাঘবে সহযোগিতা করার জন্য।

তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর রমজানের প্রথম দিনেই আলেম-ওলামা ও এতিমদের সম্মানে ইফতার মাহফিল আয়োজন করা হয়। তবে দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে এবার কিছুটা দেরিতে এই আয়োজন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব বিবেচনায় গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যয় সংকোচন নীতির অংশ হিসেবে এবার রমজানে সীমিত পরিসরে ইফতার মাহফিল আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল ও আজ মিলিয়ে মোট দুটি ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এটিই হয়তো এবারের রমজানে শেষ সরকারি ইফতার আয়োজন হতে পারে।

 

নতুন কথা/এসআর

জনপ্রিয় সংবাদ

ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

যাকাতের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেট সময় ১০:০৭:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সুশৃঙ্খল ও পরিকল্পিত যাকাত ব্যবস্থাপনা চালু করা গেলে দেশের দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব। লক্ষ্যভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে যাকাত বিতরণ করা হলে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যেই এর সুফল স্পষ্টভাবে পাওয়া যেতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর যমুনায় দেশের আলেম-ওলামা ও এতিমদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় চার কোটি পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে প্রতিবছর পর্যায়ক্রমে পাঁচ লাখ পরিবারকে এক লাখ টাকা করে যাকাত দেওয়া গেলে অনেক পরিবার অল্প সময়ের মধ্যেই স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারে। তার বিশ্বাস, এভাবে সহায়তা পেলে এসব পরিবারের বড় একটি অংশ পরের বছর আর যাকাতের ওপর নির্ভরশীল থাকবে না।

তিনি আলেম-ওলামা ও মাশায়েখদের উদ্দেশে বলেন, যাকাতের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের এই ধারণা যদি যৌক্তিক মনে হয়, তবে সমাজের বিত্তবানদের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে আলেম সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, যাকাত ব্যবস্থাপনাকে কার্যকর ও সমন্বিত করতে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা, ইসলামিক স্কলার, সরকারি কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীন বিদ্যমান যাকাত বোর্ড পুনর্গঠনের সম্ভাবনাও রয়েছে। তার মতে, সঠিকভাবে যাকাত ব্যবস্থাপনা করা গেলে ইসলামী বিশ্বে বাংলাদেশকে একটি সফল মডেল হিসেবে তুলে ধরা সম্ভব।

তারেক রহমান বলেন, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, বাংলাদেশে প্রতিবছর যাকাতের সম্ভাব্য পরিমাণ ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি। কেউ কেউ এর পরিমাণ আরও বেশি বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু সুসংগঠিত পরিকল্পনার অভাবে এই বিপুল অর্থ দারিদ্র্য বিমোচনে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে—তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পবিত্র এই মাস ত্যাগ, সংযম ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে রমজান এলেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দেন। তাদের উদ্দেশে তিনি অনুরোধ জানান, পবিত্র এই মাসকে লোভ-লাভের মাসে পরিণত না করে মানুষের কষ্ট লাঘবে সহযোগিতা করার জন্য।

তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর রমজানের প্রথম দিনেই আলেম-ওলামা ও এতিমদের সম্মানে ইফতার মাহফিল আয়োজন করা হয়। তবে দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে এবার কিছুটা দেরিতে এই আয়োজন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব বিবেচনায় গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যয় সংকোচন নীতির অংশ হিসেবে এবার রমজানে সীমিত পরিসরে ইফতার মাহফিল আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল ও আজ মিলিয়ে মোট দুটি ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এটিই হয়তো এবারের রমজানে শেষ সরকারি ইফতার আয়োজন হতে পারে।

 

নতুন কথা/এসআর