বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে দেশপ্রেম, সাহসিকতা ও আপসহীনতার প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি রাজনৈতিক জীবনে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার প্রশ্নে তিনি কখনো আপস করেননি।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জাতীয় সংসদে উত্থাপিত শোক প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। বক্তব্যে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, নেতৃত্ব এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব।
বক্তব্যের শুরুতে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, দেশের তরুণরা একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাদের আত্মত্যাগ কখনোই বৃথা যেতে দেওয়া হবে না।
খালেদা জিয়ার শাসনামলের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, দেশের নারীদের শিক্ষা ও ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি এবং নারী উন্নয়নের ভিত্তি স্থাপনে তার অবদান উল্লেখযোগ্য। একই সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম বিস্তৃত করা এবং বেসরকারি খাতে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ স্থাপনের অনুমতি দেওয়ার মতো দূরদর্শী সিদ্ধান্তও তার নেতৃত্বেই বাস্তবায়িত হয়।
কৃষি ও অর্থনীতিতে তার অবদান তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, কৃষকদের ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ এবং ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মাফ করার মতো সিদ্ধান্ত গ্রামবাংলার মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। তার সময়েই দেশে মুক্তবাজার অর্থনীতি ও স্বনির্ভর অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হয়।
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, কারামুক্ত হওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়া প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, বরং জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আসুন আমরা ভালোবাসার বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’ মির্জা ফখরুলের মতে, খালেদা জিয়ার এই দর্শনই আগামী দিনে দেশের রাজনীতিকে ইতিবাচক পথে এগিয়ে নেওয়ার প্রেরণা হয়ে থাকবে।
নতুন কথা/এসআর
নিজস্ব সংবাদ : 



















