ঢাকা ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঈদযাত্রায় কমলাপুরে ঘরমুখো মানুষের ঢল, টিকিট কেটেও সিট না পাওয়ার অভিযোগ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ঝড় তুলেছে গেজেট ব্র্যান্ড ‘চার্জ’-এর বিজ্ঞাপন ট্রাম্প-শির আলোচিত বৈঠক ইরান যুদ্ধের জেরে পেছাচ্ছে ঈদযাত্রায় আব্দুল্লাহপুরে ঘরমুখো মানুষের ঢল, বাস সংকট ও বাড়তি ভাড়ায় চরম দুর্ভোগ ইসলামনগর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের ঈদের শুভেচ্ছা হংকংয়ে ছুটিতে রণবীর-আলিয়া, সবার নজর কেড়েছে ছোট্ট রাহা মির্জা আব্বাসকে রোববার সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ড ফয়সালকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে ফিলিপ ভারতে গ্রেফতার ধ্বংসের মুখে স্বাস্থ্যসেবা খাত: লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ১২ চিকিৎসাকর্মী নিহত জীবন সব সময় সহজ পথে চলে না : প্রিয়াঙ্কা

ঈদযাত্রায় আব্দুল্লাহপুরে ঘরমুখো মানুষের ঢল, বাস সংকট ও বাড়তি ভাড়ায় চরম দুর্ভোগ

পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন লাখো ঘরমুখো মানুষ। আর সেই যাত্রার অন্যতম বড় কেন্দ্র হয়ে উঠেছে আব্দুল্লাহপুর বাস টার্মিনাল এলাকা। কিন্তু যাত্রার শুরুতেই বাস সংকট, তীব্র যানজট এবং বাড়তি ভাড়ার চাপে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

সোমবার (১৬ মার্চ) সন্ধ্যায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের এয়ারপোর্ট, আজমপুর, হাউজ বিল্ডিং ও আব্দুল্লাহপুর এলাকায় ঘুরে দেখা যায়- রাস্তার দুই পাশে শত শত যাত্রী বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত বাস পাচ্ছেন না। ফলে বাধ্য হয়ে কেউ কেউ ট্রাকসহ বিকল্প যানবাহনে বাড়ির পথে রওনা দিচ্ছেন।

এদিকে আব্দুল্লাহপুর থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে ধীরগতির যান চলাচলের কারণে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে। এতে দূরপাল্লার বাসগুলো সময়মতো টার্মিনালে পৌঁছাতে পারছে না। ফলে যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

যাত্রীদের অভিযোগ, আন্তঃজেলা ও অন্তঃজেলার অনেক বাস নির্ধারিত রুটে না গিয়ে বাড়তি আয়ের আশায় অন্য রুটে একাধিক ট্রিপ দিচ্ছে। এতে নির্দিষ্ট গন্তব্যের যাত্রীদের জন্য বাসের সংকট তৈরি হয়েছে। সেই সুযোগে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।

রংপুরগামী যাত্রী রিয়াজুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ঢাকা থেকে রংপুর যেতে সাধারণত ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা ভাড়া লাগে। কিন্তু এখন বাসে উঠতে গেলে ১৫০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। এত বেশি ভাড়া দিয়েই যেতে হচ্ছে, কারণ দেখার মতো কেউ নেই।”

একই ভোগান্তির কথা জানান গার্মেন্টসকর্মী রহিমা খাতুন। তিনি বলেন, “ময়মনসিংহ যাব, কিন্তু বিকেল থেকে দাঁড়িয়ে থেকেও বাস পাচ্ছি না। যাত্রী অনেক, বাস কম- এই সুযোগে সবাই ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন মনে হচ্ছে বাস না পেলে ট্রাকে করেই যেতে হবে।”

যাত্রীদের অভিযোগ, বাস না পেয়ে অনেকেই ট্রাকে করেও বাড়ি ফিরছেন। এসব ট্রাকেও জনপ্রতি ৫০০ থেকে সাড়ে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

তবে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কাউন্টার মাস্টাররা। তাদের দাবি, দূরপাল্লার বাসগুলো ফেরার পথে অনেক সময় খালি আসে, তাই কিছুটা বাড়তি ভাড়া নেওয়া হয়।

উত্তরা আজমপুরে পাবনা এক্সপ্রেস কাউন্টারের ম্যানেজার বাচ্চু মিয়া বলেন, “ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর এলাকায় বিভিন্ন স্থানে যান চলাচল ধীরগতির কারণে বাসগুলো সময়মতো আসতে পারছে না। এতে শিডিউল কিছুটা এলোমেলো হয়ে গেছে। তবে আমরা যাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।”

ঈদযাত্রা যত ঘনিয়ে আসছে, আব্দুল্লাহপুরসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বাস টার্মিনালগুলোতে যাত্রীচাপ আরও বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত তদারকি বাড়ানো না হলে যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।

 

নতুন কথা/এসআর

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদযাত্রায় কমলাপুরে ঘরমুখো মানুষের ঢল, টিকিট কেটেও সিট না পাওয়ার অভিযোগ

ঈদযাত্রায় আব্দুল্লাহপুরে ঘরমুখো মানুষের ঢল, বাস সংকট ও বাড়তি ভাড়ায় চরম দুর্ভোগ

আপডেট সময় ১০:২৯:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন লাখো ঘরমুখো মানুষ। আর সেই যাত্রার অন্যতম বড় কেন্দ্র হয়ে উঠেছে আব্দুল্লাহপুর বাস টার্মিনাল এলাকা। কিন্তু যাত্রার শুরুতেই বাস সংকট, তীব্র যানজট এবং বাড়তি ভাড়ার চাপে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

সোমবার (১৬ মার্চ) সন্ধ্যায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের এয়ারপোর্ট, আজমপুর, হাউজ বিল্ডিং ও আব্দুল্লাহপুর এলাকায় ঘুরে দেখা যায়- রাস্তার দুই পাশে শত শত যাত্রী বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত বাস পাচ্ছেন না। ফলে বাধ্য হয়ে কেউ কেউ ট্রাকসহ বিকল্প যানবাহনে বাড়ির পথে রওনা দিচ্ছেন।

এদিকে আব্দুল্লাহপুর থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে ধীরগতির যান চলাচলের কারণে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে। এতে দূরপাল্লার বাসগুলো সময়মতো টার্মিনালে পৌঁছাতে পারছে না। ফলে যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

যাত্রীদের অভিযোগ, আন্তঃজেলা ও অন্তঃজেলার অনেক বাস নির্ধারিত রুটে না গিয়ে বাড়তি আয়ের আশায় অন্য রুটে একাধিক ট্রিপ দিচ্ছে। এতে নির্দিষ্ট গন্তব্যের যাত্রীদের জন্য বাসের সংকট তৈরি হয়েছে। সেই সুযোগে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।

রংপুরগামী যাত্রী রিয়াজুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ঢাকা থেকে রংপুর যেতে সাধারণত ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা ভাড়া লাগে। কিন্তু এখন বাসে উঠতে গেলে ১৫০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। এত বেশি ভাড়া দিয়েই যেতে হচ্ছে, কারণ দেখার মতো কেউ নেই।”

একই ভোগান্তির কথা জানান গার্মেন্টসকর্মী রহিমা খাতুন। তিনি বলেন, “ময়মনসিংহ যাব, কিন্তু বিকেল থেকে দাঁড়িয়ে থেকেও বাস পাচ্ছি না। যাত্রী অনেক, বাস কম- এই সুযোগে সবাই ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন মনে হচ্ছে বাস না পেলে ট্রাকে করেই যেতে হবে।”

যাত্রীদের অভিযোগ, বাস না পেয়ে অনেকেই ট্রাকে করেও বাড়ি ফিরছেন। এসব ট্রাকেও জনপ্রতি ৫০০ থেকে সাড়ে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

তবে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কাউন্টার মাস্টাররা। তাদের দাবি, দূরপাল্লার বাসগুলো ফেরার পথে অনেক সময় খালি আসে, তাই কিছুটা বাড়তি ভাড়া নেওয়া হয়।

উত্তরা আজমপুরে পাবনা এক্সপ্রেস কাউন্টারের ম্যানেজার বাচ্চু মিয়া বলেন, “ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর এলাকায় বিভিন্ন স্থানে যান চলাচল ধীরগতির কারণে বাসগুলো সময়মতো আসতে পারছে না। এতে শিডিউল কিছুটা এলোমেলো হয়ে গেছে। তবে আমরা যাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।”

ঈদযাত্রা যত ঘনিয়ে আসছে, আব্দুল্লাহপুরসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বাস টার্মিনালগুলোতে যাত্রীচাপ আরও বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত তদারকি বাড়ানো না হলে যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।

 

নতুন কথা/এসআর