জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে জনমনে উদ্বেগের মধ্যেই স্পষ্ট বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, সরকার আপাতত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
বুধবার (২৫ মার্চ) সচিবালয়ে সরকারের এক মাস পূর্তি উপলক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
জাহেদ উর রহমান বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ একটি অপ্রত্যাশিত সংকটের মুখে পড়েছে। বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও বড় অর্থনীতিগুলোর চাপ, সব মিলিয়ে একটি বৈশ্বিক সংকট তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে।
তিনি জানান, এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহ। উপদেষ্টা বলেন, “মানুষের মধ্যে অযথা আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। অনেকে ধারণা করছেন, যেকোনো সময় দাম বাড়বে, তাই মজুত করার প্রবণতা বাড়ছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে না।”
পাম্প মালিকদের উদ্দেশে তিনি সতর্ক করে বলেন, অযথা মজুত করে রাখলে কোনো লাভ হবে না, বরং পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। সরকার এ ধরনের প্রবণতার ওপর নজর রাখছে বলেও জানান তিনি।
রেশনিং ব্যবস্থা প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, এটি মূলত চাহিদা নিয়ন্ত্রণের একটি সাময়িক পদক্ষেপ। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “যদি সবাই একসঙ্গে ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে যায়, তাহলে ব্যাংক ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। জ্বালানির ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য, সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য রাখা জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, ঈদকে সামনে রেখে স্বাভাবিক হিসাবের তুলনায় কয়েক দিনের জ্বালানি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে, যা আতঙ্কজনিত অতিরিক্ত ক্রয়ের ফল। এটিকে সরকারের ব্যর্থতা নয়, বরং মানুষের অসচেতনতার প্রতিফলন হিসেবে দেখেন তিনি।
তবে সরকার চাইলে অভ্যন্তরীণভাবে জ্বালানির দাম বাড়াতে পারত বলেও উল্লেখ করেন উপদেষ্টা। কিন্তু জনগণের ক্রয়ক্ষমতা ও সম্ভাব্য মূল্যস্ফীতির কথা বিবেচনায় সেই পথে হাঁটেনি সরকার। “তেলের দাম বাড়ালে সরাসরি মূল্যস্ফীতি বাড়ে, তাই আমরা এখনো সেই সিদ্ধান্ত নেইনি,” বলেন তিনি।
জ্বালানি সরবরাহ প্রসঙ্গে তিনি জানান, সরকার বর্তমানে স্পট মার্কেট থেকে গ্যাস কিনছে। কাতারের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকলেও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সরবরাহে অনিশ্চয়তা থাকতে পারে।
সবশেষে তিনি বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং কোথাও সমন্বয়ের ঘাটতি থাকলে তা দ্রুত সমাধান করা হবে। একই সঙ্গে জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং সচিব মাহবুবা ফারজানা।
নতুন কথা/এসআর
নিজস্ব সংবাদ : 



















