সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়ে অংশ নিতে সকাল থেকেই রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে নেমেছে মানুষের ঢল। কনকনে শীত উপেক্ষা করে দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা শোকার্ত মানুষের চোখেমুখে ছিল আপসহীন এই নেত্রীকে হারানোর গভীর বেদনা। কালো পোশাক, কালো ব্যাজ আর নীরব উপস্থিতিতে শোক প্রকাশ করতে দেখা যায় হাজার হাজার মানুষকে, যাদের অনেকেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এসেছেন কেবল শেষবারের মতো প্রিয় নেত্রীকে বিদায় জানাতে।
আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার পর থেকেই সংসদ ভবন এলাকা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ জুড়ে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। দলে দলে মানুষ জড়ো হন, কেউ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন, কেউ আবার চোখ মুছতে মুছতে স্মৃতিচারণ করেন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রাম আর দৃঢ়তার কথা। শীতল বাতাস আর কুয়াশার মধ্যেও শোকের আবহ যেন আরও গাঢ় হয়ে ওঠে।
খামারবাড়ি এলাকায় কথা হয় আতিকুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, এমন একজন আপসহীন নেত্রীর শেষ বিদায়ে শরিক না হলে নিজের কাছেই অপরাধবোধ হতো। এই সময় ঘরে বসে থাকা যায় না। তার কণ্ঠে ছিল শ্রদ্ধা আর কৃতজ্ঞতার মিশেল।
ভোলার চরফ্যাশন থেকে আসা মো. সোলেমান জানান, শীতের কারণে লঞ্চযাত্রায় দেরি হয়েছে, শরীরও ভালো নেই। তবু এসেছেন। তিনি বলেন, “ম্যাডামের জন্য আলাদা একটা টান ছিল। জানাজায় দাঁড়িয়ে চুপচাপ দোয়া করব- এইটুকুই চাওয়া।”
নোয়াখালীর সুবর্ণচর থেকে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় এসেছেন আবু বকর। তিনি জানান, কোনো স্লোগান কিংবা মিছিলের উদ্দেশ্যে তাদের আসা নয়। “শেষবারের মতো সম্মান জানাতে এসেছি। জানাজায় দাঁড়াতে পারলেই আমাদের আসা সার্থক হবে,” বলেন তিনি।
রাজশাহী থেকে আসা ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রবীণ কর্মী ইসমাইল হোসেন বলেন, “ম্যাডামের মৃত্যুতে মনে হচ্ছে মাথার ওপর থেকে একটা ছায়া সরে গেছে। তিনি কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। এই কাঁপানো শীতেও শুধু তার জন্য দোয়া করতেই এসেছি।”
সিলেট থেকে আসা মাঠপর্যায়ের কর্মী জামার উদ্দিন বলেন, “আজ কোনো শোডাউনের দরকার নেই। নেত্রীকে শেষবারের মতো দেখা আর জানাজায় দাঁড়ানোই সবচেয়ে জরুরি। তার বিদায়ে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা আর কখনো পূরণ হবে না।”
এর আগে মঙ্গলবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর জানায়, আজ বুধবার দুপুর ২টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা আয়োজন ঘিরে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সুষ্ঠুভাবে জানাজা ও দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে ইন্তেকাল করেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ৭৯ বছরের দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল জীবনের অবসানে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে বাংলাদেশ। শুধু দলীয় কর্মী-সমর্থকই নন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন।
এদিকে, খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছেছেন। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বাশার ঘাঁটিতে তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব এম ফরহাদ হোসেন।
এ ছাড়া জানাজায় অংশ নিতে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সারদার আয়াজ সাদিকও ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন। আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে তাকে বহনকারী বিমান। পাকিস্তান হাইকমিশন বাংলাদেশ তাদের ফেসবুক পেজে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নতুন কথা/এএস
নিজস্ব প্রতিবেদক: 




















