ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত দেন।
ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. আজমল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্ধারিত ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের শর্ত তাসনিম জারা পূরণ করেছিলেন। প্রয়োজনীয় ৪ হাজার ৩০০ ভোটারের স্বাক্ষরের চেয়েও বেশি স্বাক্ষর জমা দেওয়া হয়। তবে যাচাই-বাছাইয়ের সময় প্রস্তাবক ও সমর্থকদের মধ্য থেকে যাচাই করা ১০ জন ভোটারের মধ্যে দুজন ঢাকা-৯ আসনের ভোটার নন বলে প্রমাণিত হওয়ায় নির্বাচন বিধি অনুযায়ী তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
আজমল হোসেন বলেন, যাচাইয়ে দেখা গেছে ১০ জনের মধ্যে আটজন ওই আসনের ভোটার হলেও বাকি দুজন ঢাকা-৯ এর ভোটার না হওয়ায় মনোনয়ন বৈধ রাখা সম্ভব হয়নি। তবে এ বিষয়ে তাসনিম জারার আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
মনোনয়ন বাতিলের পর ফেসবুকে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তাসনিম জারা বলেন, ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি আইন অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। বাছাই পর্বে তার মনোনয়ন গ্রহণ করা হয়নি এবং তিনি ইতোমধ্যে আপিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
তিনি আরও জানান, যে পরিমাণ স্বাক্ষর জমা দেওয়ার কথা ছিল, তার চেয়ে বেশি স্বাক্ষর তিনি জমা দিয়েছেন এবং যাচাই করা ১০ জনের স্বাক্ষরই প্রকৃত ছিল। তবে এর মধ্যে দুজন নিজেদের ঢাকা-৯ আসনের ভোটার মনে করলেও নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী তারা ওই আসনের ভোটার নন।
তাসনিম জারার ভাষ্য অনুযায়ী, একজন খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা, যেখানে ঢাকা-৯ ও ঢাকা-১১- দুটি সংসদীয় আসনের সীমানা রয়েছে। ওই ব্যক্তি নিজেকে ঢাকা-৯ আসনের ভোটার মনে করেই স্বাক্ষর করেন। আরেকজনের জাতীয় পরিচয়পত্রে ঢাকা-৯ এর ঠিকানা থাকলেও কয়েক বছর আগে শরিয়তপুরে ঠিকানা সংশোধনের জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছিলেন। সংশোধনের কোনো আপডেট না পেলেও নির্বাচন কমিশনের অনলাইন ডাটাবেজে তাকে শরিয়তপুরের ভোটার হিসেবে দেখানো হচ্ছে।
তাসনিম জারার দাবি, এই দুজনের পক্ষে নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব ছিল না তারা কোন সংসদীয় আসনের ভোটার। এ ধরনের তথ্য জানার জন্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও কোনো সহজ ও স্পষ্ট ব্যবস্থা নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, তাসনিম জারা এর আগে জাতীয় নাগরিক পার্টির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ছিলেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনী জোটের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে তিনি দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
নতুন কথা/এসআর
নিজস্ব সংবাদ : 



















