ঢাকা ১১:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকায় নিজ বাসা থেকে জামায়াত নেতার মরদেহ উদ্ধার ত্বকের বলিরেখা কমাতে যেসব প্রাকৃতিক তেল হতে পারে ভরসা ভারতের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ আইসিসির, অবস্থানে অটল বিসিবি ইরানে নজিরবিহীন বিক্ষোভে নিহত প্রায় ২ হাজার মানুষ: সরকারি কর্মকর্তা বিএনপি নেতা ডাবলুর মৃত্যু: অভিযানে অংশ নেওয়া সব সেনাসদস্য প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি গঠন জ্বালানি সরবরাহ বড় চ্যালেঞ্জ, তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় সরকার: সালেহউদ্দিন আহমেদ আগামী নির্বাচনই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা : সালাহউদ্দিন আহমদ সবোজলাইয়ের নায়ক-খলনায়ক রাতেও বার্নসলিকে উড়িয়ে চতুর্থ রাউন্ডে লিভারপুল জীবনদর্শনের দূরত্বেই ফাটল: যে কারণে টেকেনি তাহসান-রোজার সংসার শিক্ষা শুধু চাকরির কারখানা নয়, সৃজনশীল মানুষ গড়ার পথ: প্রধান উপদেষ্টা

বিক্ষোভকারীদের জন্য ‘রেড লাইন’ টানল ইরানের সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি

ইরানে চলমান ব্যাপক বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে দেশটির বিক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করেছে নিয়মিত সেনাবাহিনী ও অভিজাত বাহিনী ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। শনিবার (স্থানীয় সময়) পৃথক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেয় দুই বাহিনী।

রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, গত দুই রাত ধরে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ সামরিক ও আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর ঘাঁটি দখলের চেষ্টা করছে। এ সময় বেশ কয়েকজন সাধারণ নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন এবং বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের ধারাবাহিক সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি রক্ষার স্বার্থে আইআরজিসি স্পষ্টভাবে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করছে। রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির ক্ষতি বা ক্ষতির চেষ্টা করা হলে কঠোর ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে পৃথক এক বিবৃতিতে ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী জানায়, দেশের জাতীয় স্বার্থ, কৌশলগত অবকাঠামো এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ রয়েছে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের দরপতন, লাগামছাড়া মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন। সেই ধর্মঘট থেকেই দেশজুড়ে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়।

মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে। দিন দিন আন্দোলনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় কার্যত অচল হয়ে পড়ে দেশটির স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

বিক্ষোভ দমনে তৎপরতা জোরদার করেছে ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকার। রাজধানী তেহরানসহ দেশের প্রায় সব বড় শহরে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার শুক্রবার দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

মার্কিন সাময়িকী টাইমস-এর তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ শুরুর পর গত ১৩ দিনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ইরানে অন্তত দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন।

এদিকে ইরানের পরিস্থিতি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। বিক্ষোভের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ক্ষমতাসীন সরকারকে সতর্ক করে আসছেন। তাঁর হুঁশিয়ারি- আন্দোলন দমনে কঠোর সামরিক পন্থা নেওয়া হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযানের পথে যেতে পারে। এ পর্যন্ত চারবার এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। সূত্র: এএফপি

 

নতুন কথা/এসআর

ট্যাগস :

ঢাকায় নিজ বাসা থেকে জামায়াত নেতার মরদেহ উদ্ধার

বিক্ষোভকারীদের জন্য ‘রেড লাইন’ টানল ইরানের সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি

আপডেট সময় ০৮:০৬:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানে চলমান ব্যাপক বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে দেশটির বিক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করেছে নিয়মিত সেনাবাহিনী ও অভিজাত বাহিনী ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। শনিবার (স্থানীয় সময়) পৃথক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেয় দুই বাহিনী।

রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, গত দুই রাত ধরে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ সামরিক ও আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর ঘাঁটি দখলের চেষ্টা করছে। এ সময় বেশ কয়েকজন সাধারণ নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন এবং বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের ধারাবাহিক সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি রক্ষার স্বার্থে আইআরজিসি স্পষ্টভাবে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করছে। রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির ক্ষতি বা ক্ষতির চেষ্টা করা হলে কঠোর ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে পৃথক এক বিবৃতিতে ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী জানায়, দেশের জাতীয় স্বার্থ, কৌশলগত অবকাঠামো এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ রয়েছে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের দরপতন, লাগামছাড়া মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন। সেই ধর্মঘট থেকেই দেশজুড়ে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়।

মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে। দিন দিন আন্দোলনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় কার্যত অচল হয়ে পড়ে দেশটির স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

বিক্ষোভ দমনে তৎপরতা জোরদার করেছে ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকার। রাজধানী তেহরানসহ দেশের প্রায় সব বড় শহরে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার শুক্রবার দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

মার্কিন সাময়িকী টাইমস-এর তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ শুরুর পর গত ১৩ দিনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ইরানে অন্তত দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন।

এদিকে ইরানের পরিস্থিতি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। বিক্ষোভের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ক্ষমতাসীন সরকারকে সতর্ক করে আসছেন। তাঁর হুঁশিয়ারি- আন্দোলন দমনে কঠোর সামরিক পন্থা নেওয়া হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযানের পথে যেতে পারে। এ পর্যন্ত চারবার এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। সূত্র: এএফপি

 

নতুন কথা/এসআর