ঢাকা ০৩:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কমেছে ডিমের দাম, মাছ-মুরগির বাজারে স্বস্তি নেই

শীত মৌসুমে নিত্যপণ্যের বাজারে দামের ওঠানামার মধ্যেই ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সরবরাহ বাড়া এবং বিকল্প পণ্যের প্রাচুর্যের কারণে খুচরা বাজারে ডিমের দাম কমেছে। তবে এ স্বস্তির ছোঁয়া লাগেনি মাছ ও মুরগির বাজারে। আগের কয়েক সপ্তাহের মতোই মাছের দাম চড়া রয়েছে, আর মুরগির বাজার স্থিতিশীল অবস্থায় থাকলেও তা এখনো সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্তমানে ফার্মের ডিম ডজনপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়, যা এক মাস আগেও ছিল ১২০ টাকা। সাদা ডিমের দাম ১২০ থেকে ১২৫ টাকা এবং দেশি হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়।

ডিম ব্যবসায়ীরা জানান, শীতকালে শাকসবজি ও দেশি মাছের সরবরাহ বাড়ায় ডিমের ওপর চাপ কমে যায়। ফলে দাম কিছুটা নামলেও বিক্রি তেমন বাড়েনি। পাইকারি বাজারে প্রতিটি ডিমের দাম বর্তমানে ৮ টাকার নিচে নেমে এসেছে।

রামপুরা বাজারের ডিম বিক্রেতা হৃদয় মিয়া বলেন, ডিমের দাম কমেছে ঠিকই, কিন্তু মাছ আর সবজি থাকায় মানুষ ডিম কম কিনছে। চাহিদা অনুযায়ী বিক্রি হচ্ছে না।

মাংসের বাজারে গরু ও খাসির দামে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন নেই। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৭৫০ থেকে ৯৫০ টাকায়, আর খাসির মাংস ১,২০০ টাকা কেজি দরে। দাম স্থির থাকলেও ক্রেতাদের ভাষ্য, এই ‘স্থিতিশীল’ দামই এখন তাদের সাধ্যের বাইরে।

অন্যদিকে মুরগির বাজারেও বড় কোনো পরিবর্তন নেই। ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৭০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ ও চাহিদা প্রায় সমান থাকায় দাম একই জায়গায় আটকে আছে।

বনশ্রী এ ব্লক কাঁচাবাজারের মুরগি বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, শীতের কারণে খামারিরা মুরগি বেশি দিন রাখতে চান না। নিয়মিত বাজারে আসছে, আবার বাড়তি চাহিদাও নেই। তাই দাম কমছেও না, বাড়ছেও না।

তবে ক্রেতাদের একটি অংশ মনে করছেন, দাম আরও কমার সুযোগ রয়েছে। মুরগি কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, বছরের শুরুতে ব্রয়লার ১৫০-১৬০ টাকায় ছিল। তখন লোকসান হয়নি। এখন সরবরাহ ঠিক থাকলে দাম কমছে না কেন, বুঝি না।

মাছের বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, আগের মতোই দাম চড়া। কোরাল মাছ ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা, আইড় ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। টেংরা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, সরপুঁটি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং শিং ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। রুই ও কাতলার দাম কেজিপ্রতি ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা।

চাষের মাছের মধ্যে পাঙাশ ও সিলভার কার্প বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৮০ টাকা এবং বড় তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজিতে। সামুদ্রিক মাছের মধ্যে বড় চিংড়ি ৭৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ছোট চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ইলিশের দামও রয়েছে চড়া অবস্থায়। এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং দুই কেজির বেশি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার টাকায়।

মাছ কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আল মামুন বলেন, মাছের বাজারে দরদাম করার সুযোগ নেই। ডিমের দাম কমেছে, ভালো কথা। কিন্তু মাছের দামে স্বস্তি না থাকায় সংসারের বাজেট মেলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ডিমের ক্ষেত্রে সরবরাহ বৃদ্ধি ও বিকল্প পণ্যের প্রভাব সরাসরি দামে পড়েছে। তবে মুরগি ও মাছের বাজারে সে ধরনের চাপ তৈরি হয়নি। ফলে ডিমে সাময়িক স্বস্তি মিললেও, মাছ ও মুরগির বাজারে ক্রেতাদের অপেক্ষা এখনো কাটেনি- কবে নাগালে আসবে দাম, সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে।

 

নতুন কথা/এসআর

ট্যাগস :

আজ পবিত্র শবে মেরাজ: মহান ইসরা ও মিরাজের রাত

কমেছে ডিমের দাম, মাছ-মুরগির বাজারে স্বস্তি নেই

আপডেট সময় ১২:৪৮:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

শীত মৌসুমে নিত্যপণ্যের বাজারে দামের ওঠানামার মধ্যেই ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সরবরাহ বাড়া এবং বিকল্প পণ্যের প্রাচুর্যের কারণে খুচরা বাজারে ডিমের দাম কমেছে। তবে এ স্বস্তির ছোঁয়া লাগেনি মাছ ও মুরগির বাজারে। আগের কয়েক সপ্তাহের মতোই মাছের দাম চড়া রয়েছে, আর মুরগির বাজার স্থিতিশীল অবস্থায় থাকলেও তা এখনো সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্তমানে ফার্মের ডিম ডজনপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়, যা এক মাস আগেও ছিল ১২০ টাকা। সাদা ডিমের দাম ১২০ থেকে ১২৫ টাকা এবং দেশি হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়।

ডিম ব্যবসায়ীরা জানান, শীতকালে শাকসবজি ও দেশি মাছের সরবরাহ বাড়ায় ডিমের ওপর চাপ কমে যায়। ফলে দাম কিছুটা নামলেও বিক্রি তেমন বাড়েনি। পাইকারি বাজারে প্রতিটি ডিমের দাম বর্তমানে ৮ টাকার নিচে নেমে এসেছে।

রামপুরা বাজারের ডিম বিক্রেতা হৃদয় মিয়া বলেন, ডিমের দাম কমেছে ঠিকই, কিন্তু মাছ আর সবজি থাকায় মানুষ ডিম কম কিনছে। চাহিদা অনুযায়ী বিক্রি হচ্ছে না।

মাংসের বাজারে গরু ও খাসির দামে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন নেই। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৭৫০ থেকে ৯৫০ টাকায়, আর খাসির মাংস ১,২০০ টাকা কেজি দরে। দাম স্থির থাকলেও ক্রেতাদের ভাষ্য, এই ‘স্থিতিশীল’ দামই এখন তাদের সাধ্যের বাইরে।

অন্যদিকে মুরগির বাজারেও বড় কোনো পরিবর্তন নেই। ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৭০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ ও চাহিদা প্রায় সমান থাকায় দাম একই জায়গায় আটকে আছে।

বনশ্রী এ ব্লক কাঁচাবাজারের মুরগি বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, শীতের কারণে খামারিরা মুরগি বেশি দিন রাখতে চান না। নিয়মিত বাজারে আসছে, আবার বাড়তি চাহিদাও নেই। তাই দাম কমছেও না, বাড়ছেও না।

তবে ক্রেতাদের একটি অংশ মনে করছেন, দাম আরও কমার সুযোগ রয়েছে। মুরগি কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, বছরের শুরুতে ব্রয়লার ১৫০-১৬০ টাকায় ছিল। তখন লোকসান হয়নি। এখন সরবরাহ ঠিক থাকলে দাম কমছে না কেন, বুঝি না।

মাছের বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, আগের মতোই দাম চড়া। কোরাল মাছ ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা, আইড় ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। টেংরা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, সরপুঁটি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং শিং ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। রুই ও কাতলার দাম কেজিপ্রতি ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা।

চাষের মাছের মধ্যে পাঙাশ ও সিলভার কার্প বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৮০ টাকা এবং বড় তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজিতে। সামুদ্রিক মাছের মধ্যে বড় চিংড়ি ৭৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ছোট চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ইলিশের দামও রয়েছে চড়া অবস্থায়। এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং দুই কেজির বেশি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার টাকায়।

মাছ কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আল মামুন বলেন, মাছের বাজারে দরদাম করার সুযোগ নেই। ডিমের দাম কমেছে, ভালো কথা। কিন্তু মাছের দামে স্বস্তি না থাকায় সংসারের বাজেট মেলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ডিমের ক্ষেত্রে সরবরাহ বৃদ্ধি ও বিকল্প পণ্যের প্রভাব সরাসরি দামে পড়েছে। তবে মুরগি ও মাছের বাজারে সে ধরনের চাপ তৈরি হয়নি। ফলে ডিমে সাময়িক স্বস্তি মিললেও, মাছ ও মুরগির বাজারে ক্রেতাদের অপেক্ষা এখনো কাটেনি- কবে নাগালে আসবে দাম, সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে।

 

নতুন কথা/এসআর