ঢাকা ১০:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজের আহ্বান রাষ্ট্রপতির ঈদুল আজহায় তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানালেন নরেন্দ্র মোদি গোপালগঞ্জে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে ৫ নিহত, আহত অন্তত ১০ ঈদুল আজহা: ত্যাগের চেতনায় মানবতার পুনর্জাগরণ ঈদুল আজহায় দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন ‘নতুন কথা’র সম্পাদক মাজেদা রহমান শারমিন জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত আত্মত্যাগের বার্তা নিয়ে এলো পবিত্র ঈদুল আজহা নজরুল জন্মজয়ন্তীতে যোগ দিতে আজ ময়মনসিংহে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নিষ্পাপ মুখগুলোর নীরব আর্তনাদ ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবির পরিচালক হচ্ছেন ৪ জন

৯ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ছয়টি বন্ধ, তিনটিকে সময় বেঁধে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

নয়টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ছয়টি প্রতিষ্ঠান আইনগতভাবে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আর বাকি তিনটিকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দিতে তিন থেকে ছয় মাস সময় বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

অবসায়নের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ফাস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, অ্যাভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং।

অন্যদিকে আর্থিক সূচকে উন্নতির জন্য সময় পাওয়া তিনটি প্রতিষ্ঠান হলো- বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), জিএসপি ফাইন্যান্স ও প্রাইম ফাইন্যান্স। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠান সন্তোষজনক অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধেও অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও ভয়াবহ খেলাপি ঋণের চাপে আর্থিকভাবে নড়বড়ে হয়ে পড়া এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় গত বছরের মে মাসে ২০টি এনবিএফআইকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানগুলোর দাখিল করা পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা সন্তোষজনক না হওয়ায় নয়টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্বল তদারকির কারণে এসব প্রতিষ্ঠানে খেলাপি ঋণের হার ৭৫ থেকে ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা তাদের অস্তিত্বকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

অবসায়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়, যা গত রোববার শেষ হয়। শুনানিতে উপস্থাপিত আর্থিক অবস্থা ও কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা করে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে সাময়িক সময় দেওয়ার সুপারিশ করা হয়, যা পরবর্তীতে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন পায়।

খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আগের সরকারের সময়ে আর্থিক খাতে চলমান অনিয়ম ও বড় ধরনের কেলেঙ্কারির প্রভাব এসব এনবিএফআইকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিশেষ করে আলোচিত পি কে হালদারের বিরুদ্ধে পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ফাস ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি থেকে অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে, যা এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ভিত্তিকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে দেয়।

এদিকে অবসায়নের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানান, আগামী ফেব্রুয়ারিতে রমজানের আগেই ব্যক্তি আমানতকারীরা তাদের জমাকৃত মূল অর্থ ফেরত পাবেন। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদের মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরু করা হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র আরও জানায়, আমানতকারীদের মূল অর্থ ফেরত দিতে সরকার মৌখিকভাবে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে আমানতকারীরা শুধু মূল টাকা ফেরত পাবেন, কোনো সুদ প্রদান করা হবে না।

 

নতুন কথা/এসআর

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

৯ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ছয়টি বন্ধ, তিনটিকে সময় বেঁধে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

আপডেট সময় ০৫:৫৪:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

নয়টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ছয়টি প্রতিষ্ঠান আইনগতভাবে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আর বাকি তিনটিকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দিতে তিন থেকে ছয় মাস সময় বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

অবসায়নের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ফাস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, অ্যাভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং।

অন্যদিকে আর্থিক সূচকে উন্নতির জন্য সময় পাওয়া তিনটি প্রতিষ্ঠান হলো- বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), জিএসপি ফাইন্যান্স ও প্রাইম ফাইন্যান্স। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠান সন্তোষজনক অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধেও অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও ভয়াবহ খেলাপি ঋণের চাপে আর্থিকভাবে নড়বড়ে হয়ে পড়া এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় গত বছরের মে মাসে ২০টি এনবিএফআইকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানগুলোর দাখিল করা পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা সন্তোষজনক না হওয়ায় নয়টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্বল তদারকির কারণে এসব প্রতিষ্ঠানে খেলাপি ঋণের হার ৭৫ থেকে ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা তাদের অস্তিত্বকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

অবসায়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়, যা গত রোববার শেষ হয়। শুনানিতে উপস্থাপিত আর্থিক অবস্থা ও কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা করে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে সাময়িক সময় দেওয়ার সুপারিশ করা হয়, যা পরবর্তীতে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন পায়।

খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আগের সরকারের সময়ে আর্থিক খাতে চলমান অনিয়ম ও বড় ধরনের কেলেঙ্কারির প্রভাব এসব এনবিএফআইকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিশেষ করে আলোচিত পি কে হালদারের বিরুদ্ধে পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ফাস ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি থেকে অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে, যা এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ভিত্তিকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে দেয়।

এদিকে অবসায়নের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানান, আগামী ফেব্রুয়ারিতে রমজানের আগেই ব্যক্তি আমানতকারীরা তাদের জমাকৃত মূল অর্থ ফেরত পাবেন। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদের মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরু করা হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র আরও জানায়, আমানতকারীদের মূল অর্থ ফেরত দিতে সরকার মৌখিকভাবে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে আমানতকারীরা শুধু মূল টাকা ফেরত পাবেন, কোনো সুদ প্রদান করা হবে না।

 

নতুন কথা/এসআর