ঢাকা ০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকায় নিজ বাসা থেকে জামায়াত নেতার মরদেহ উদ্ধার ত্বকের বলিরেখা কমাতে যেসব প্রাকৃতিক তেল হতে পারে ভরসা ভারতের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ আইসিসির, অবস্থানে অটল বিসিবি ইরানে নজিরবিহীন বিক্ষোভে নিহত প্রায় ২ হাজার মানুষ: সরকারি কর্মকর্তা বিএনপি নেতা ডাবলুর মৃত্যু: অভিযানে অংশ নেওয়া সব সেনাসদস্য প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি গঠন জ্বালানি সরবরাহ বড় চ্যালেঞ্জ, তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় সরকার: সালেহউদ্দিন আহমেদ আগামী নির্বাচনই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা : সালাহউদ্দিন আহমদ সবোজলাইয়ের নায়ক-খলনায়ক রাতেও বার্নসলিকে উড়িয়ে চতুর্থ রাউন্ডে লিভারপুল জীবনদর্শনের দূরত্বেই ফাটল: যে কারণে টেকেনি তাহসান-রোজার সংসার শিক্ষা শুধু চাকরির কারখানা নয়, সৃজনশীল মানুষ গড়ার পথ: প্রধান উপদেষ্টা

লন্ডনের বৈঠক অপছন্দ, তাই সংলাপে আসেনি একটি দল: ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, লন্ডনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠক একটি রাজনৈতিক দলের পছন্দ হয়নি। এই অসন্তোষ থেকেই দলটি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে অংশ নেয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

বুধবার (১৮ জুন) রাজধানীর উত্তরায় বিএনপির সদস্যপদ নবায়ন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ফখরুল।

তিনি বলেন, “লন্ডনের ওই ঐতিহাসিক বৈঠকে দুই নেতা দেশের চলমান সংকট নিরসনে শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথ খুলে দিয়েছেন। তারা সংঘর্ষের পথে না গিয়ে রাষ্ট্রনায়কোচিত বিচক্ষণতায় পথ দেখিয়েছেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে একটি গোষ্ঠী এতে অখুশি। কারণ তারা জানে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জনগণের ভালোবাসার দল ক্ষমতায় আসবে এবং তখন তাদের গুরুত্ব কমে যাবে। তাই তারা সংলাপ বর্জন করেছে।”

আওয়ামী লীগের প্রতি কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “আচরণে যারা আওয়ামী লীগের মতো হবে, তাদের সঙ্গে আমাদের পার্থক্য কোথায় থাকবে? চাঁদাবাজি, ক্ষমতা দখলের রাজনীতি – এসব দিয়ে জাতির মুক্তি আসবে না। আমরা পরিবর্তন চাই, একটি নতুন বাংলাদেশ চাই যেখানে মানুষের অধিকার নিশ্চিত থাকবে।”

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, “সদস্যপদ নবায়ন কার্যক্রমে আমরা সতর্ক থাকতে চাই। আওয়ামী লীগের কোনো লোক এতে অনুপ্রবেশ করতে পারবে না। অভিজ্ঞতা বলছে, আওয়ামী লীগ কেবল নিজেদের স্বার্থ দেখে। তারা গণতন্ত্রের শত্রু। তবে যেসব মানুষ নিরপেক্ষ, ন্যায়বোধসম্পন্ন- তাদের আমরা সাদরে দলে আহ্বান জানাই।”

ভোটাধিকার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ফখরুল বলেন, “আওয়ামী লীগের শাসনামলে মানুষ ভোটকেন্দ্রেও যেতে পারেনি। তারা ভোট দেওয়ার আগেই ব্যালটে সিল মেরে দিয়েছে প্রশাসন ও সরকারদলীয় বাহিনী। এমন প্রতারণার নির্বাচন আমরা চাই না। তাই বিএনপি সব সময় একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও পরিষ্কারভাবে বলেছেন- মানুষকে শাসিয়ে, ভয় দেখিয়ে, অধিকার হরণ করে কেউ জনপ্রিয় হতে পারে না। ভোট চাওয়ার জন্য জনগণের কাছে যেতে হবে বিনয়ের সঙ্গে।”

প্রতিদিনের রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্য নতুন করে সংলাপ ও ঐকমত্যের পথে জনগণকে আশাবাদী করেছে। তবে লন্ডনের বৈঠক ঘিরে যে দলগত বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে, তা ভবিষ্যতের পথচলায় কী প্রভাব ফেলবে- সে প্রশ্ন এখন রাজনীতির মাঠে জোরালোভাবে ঘুরপাক খাচ্ছে।

 

নতুন কথা/এএস

 

 

ঢাকায় নিজ বাসা থেকে জামায়াত নেতার মরদেহ উদ্ধার

লন্ডনের বৈঠক অপছন্দ, তাই সংলাপে আসেনি একটি দল: ফখরুল

আপডেট সময় ০৩:৩৬:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, লন্ডনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠক একটি রাজনৈতিক দলের পছন্দ হয়নি। এই অসন্তোষ থেকেই দলটি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে অংশ নেয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

বুধবার (১৮ জুন) রাজধানীর উত্তরায় বিএনপির সদস্যপদ নবায়ন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ফখরুল।

তিনি বলেন, “লন্ডনের ওই ঐতিহাসিক বৈঠকে দুই নেতা দেশের চলমান সংকট নিরসনে শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথ খুলে দিয়েছেন। তারা সংঘর্ষের পথে না গিয়ে রাষ্ট্রনায়কোচিত বিচক্ষণতায় পথ দেখিয়েছেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে একটি গোষ্ঠী এতে অখুশি। কারণ তারা জানে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জনগণের ভালোবাসার দল ক্ষমতায় আসবে এবং তখন তাদের গুরুত্ব কমে যাবে। তাই তারা সংলাপ বর্জন করেছে।”

আওয়ামী লীগের প্রতি কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “আচরণে যারা আওয়ামী লীগের মতো হবে, তাদের সঙ্গে আমাদের পার্থক্য কোথায় থাকবে? চাঁদাবাজি, ক্ষমতা দখলের রাজনীতি – এসব দিয়ে জাতির মুক্তি আসবে না। আমরা পরিবর্তন চাই, একটি নতুন বাংলাদেশ চাই যেখানে মানুষের অধিকার নিশ্চিত থাকবে।”

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, “সদস্যপদ নবায়ন কার্যক্রমে আমরা সতর্ক থাকতে চাই। আওয়ামী লীগের কোনো লোক এতে অনুপ্রবেশ করতে পারবে না। অভিজ্ঞতা বলছে, আওয়ামী লীগ কেবল নিজেদের স্বার্থ দেখে। তারা গণতন্ত্রের শত্রু। তবে যেসব মানুষ নিরপেক্ষ, ন্যায়বোধসম্পন্ন- তাদের আমরা সাদরে দলে আহ্বান জানাই।”

ভোটাধিকার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ফখরুল বলেন, “আওয়ামী লীগের শাসনামলে মানুষ ভোটকেন্দ্রেও যেতে পারেনি। তারা ভোট দেওয়ার আগেই ব্যালটে সিল মেরে দিয়েছে প্রশাসন ও সরকারদলীয় বাহিনী। এমন প্রতারণার নির্বাচন আমরা চাই না। তাই বিএনপি সব সময় একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও পরিষ্কারভাবে বলেছেন- মানুষকে শাসিয়ে, ভয় দেখিয়ে, অধিকার হরণ করে কেউ জনপ্রিয় হতে পারে না। ভোট চাওয়ার জন্য জনগণের কাছে যেতে হবে বিনয়ের সঙ্গে।”

প্রতিদিনের রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্য নতুন করে সংলাপ ও ঐকমত্যের পথে জনগণকে আশাবাদী করেছে। তবে লন্ডনের বৈঠক ঘিরে যে দলগত বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে, তা ভবিষ্যতের পথচলায় কী প্রভাব ফেলবে- সে প্রশ্ন এখন রাজনীতির মাঠে জোরালোভাবে ঘুরপাক খাচ্ছে।

 

নতুন কথা/এএস