ঢাকা ০৬:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকায় নিজ বাসা থেকে জামায়াত নেতার মরদেহ উদ্ধার ত্বকের বলিরেখা কমাতে যেসব প্রাকৃতিক তেল হতে পারে ভরসা ভারতের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ আইসিসির, অবস্থানে অটল বিসিবি ইরানে নজিরবিহীন বিক্ষোভে নিহত প্রায় ২ হাজার মানুষ: সরকারি কর্মকর্তা বিএনপি নেতা ডাবলুর মৃত্যু: অভিযানে অংশ নেওয়া সব সেনাসদস্য প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি গঠন জ্বালানি সরবরাহ বড় চ্যালেঞ্জ, তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় সরকার: সালেহউদ্দিন আহমেদ আগামী নির্বাচনই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা : সালাহউদ্দিন আহমদ সবোজলাইয়ের নায়ক-খলনায়ক রাতেও বার্নসলিকে উড়িয়ে চতুর্থ রাউন্ডে লিভারপুল জীবনদর্শনের দূরত্বেই ফাটল: যে কারণে টেকেনি তাহসান-রোজার সংসার শিক্ষা শুধু চাকরির কারখানা নয়, সৃজনশীল মানুষ গড়ার পথ: প্রধান উপদেষ্টা

যুক্তরাষ্ট্রে ইউটিউবের ৫৫ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক অবদান

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১০:৩৮:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ জুন ২০২৫
  • ৬১ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে ইউটিউবের ক্রিয়েটিভ ইকোসিস্টেম। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে শুধু ইউটিউবই দেশটির জিডিপিতে অবদান রেখেছে ৫৫ বিলিয়ন ডলার এবং সৃষ্ট করেছে প্রায় ৪ লাখ ৯০ হাজার পূর্ণকালীন চাকরি।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের পরিচালিত এই গবেষণাটি প্রকাশ করেছে ইউটিউব নিজেই। এতে বলা হয়েছে, ইউটিউবের ‘ক্রিয়েটিভ ইকোসিস্টেম’ বলতে কেবল কনটেন্ট নির্মাতাদের বোঝানো হয় না; এর আওতায় আসে ভিডিও এডিটর, সহকারী, মার্কেটিং ম্যানেজার, প্রোডাকশন টিমসহ সংশ্লিষ্ট আরও অনেক পেশাজীবী। এমনকি প্যাট্রিয়ন, স্পটার, লিংকট্রির মতো সৃজনশীল সাপোর্ট কোম্পানির কর্মীরাও এর অন্তর্ভুক্ত।

গবেষণা অনুযায়ী, ২০২২ সালে ইউটিউব ইকোসিস্টেম যুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখ ৯০ হাজার কর্মসংস্থান এবং ৩৫ বিলিয়ন ডলার অর্থনৈতিক অবদান রেখেছিল। মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে আরও ১ লাখ নতুন চাকরি এবং অতিরিক্ত ২০ বিলিয়ন ডলারের প্রবৃদ্ধিতে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তুলনায় ইউটিউব এখনো সবচেয়ে লাভজনক এবং স্থিতিশীল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে অবস্থান করছে। ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামে অংশ নিলে নির্মাতারা বিজ্ঞাপন আয়ের ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত ভাগ পেতে পারেন। এই ব্যবস্থার ফলে মধ্যম মানের অনেক নির্মাতাও মাসে কয়েক হাজার ডলার পর্যন্ত আয় করছেন।

তবে ইউটিউব শর্টস কিংবা টিকটকের মতো স্বল্প দৈর্ঘ্যের ভিডিও প্ল্যাটফর্মগুলো এখনো নির্মাতাদের জন্য নির্ভরযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি আয়ের মডেল গড়ে তুলতে পারেনি।

অন্যদিকে, এই সৃজনশীল খাত থেকে আয় করলেও অনেক কনটেন্ট নির্মাতা ব্যবসায়িক ঋণ বা ক্রেডিট কার্ড পেতে এখনও সমস্যায় পড়েন। অনেক ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইউটিউব থেকে আয়কে এখনো পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা হিসেবে গণ্য করে না।

এই পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে মার্কিন আইনপ্রণেতারাও। সম্প্রতি কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের দুই সদস্য- ইভেট ক্লার্ক (ডেমোক্র্যাট, নিউইয়র্ক) এবং বেথ ভ্যান ডাইন (রিপাবলিকান, টেক্সাস)- ঘোষণা দিয়েছেন ‘কংগ্রেসনাল ক্রিয়েটরস ককাস’ গঠনের। এই নতুন উদ্যোগের লক্ষ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিয়েটর ইকোসিস্টেমকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং এই শিল্পের বিকাশে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী দিনে সৃজনশীল ডিজিটাল শিল্পই হবে কর্মসংস্থানের অন্যতম বড় খাত। তাই ইউটিউবের এই প্রবৃদ্ধি কেবল একক কোম্পানির সাফল্য নয়, বরং এটি একটি নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতার ইঙ্গিতও বটে।

 

নতুনকথা/এএস

ট্যাগস :

ঢাকায় নিজ বাসা থেকে জামায়াত নেতার মরদেহ উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রে ইউটিউবের ৫৫ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক অবদান

আপডেট সময় ১০:৩৮:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ জুন ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে ইউটিউবের ক্রিয়েটিভ ইকোসিস্টেম। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে শুধু ইউটিউবই দেশটির জিডিপিতে অবদান রেখেছে ৫৫ বিলিয়ন ডলার এবং সৃষ্ট করেছে প্রায় ৪ লাখ ৯০ হাজার পূর্ণকালীন চাকরি।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের পরিচালিত এই গবেষণাটি প্রকাশ করেছে ইউটিউব নিজেই। এতে বলা হয়েছে, ইউটিউবের ‘ক্রিয়েটিভ ইকোসিস্টেম’ বলতে কেবল কনটেন্ট নির্মাতাদের বোঝানো হয় না; এর আওতায় আসে ভিডিও এডিটর, সহকারী, মার্কেটিং ম্যানেজার, প্রোডাকশন টিমসহ সংশ্লিষ্ট আরও অনেক পেশাজীবী। এমনকি প্যাট্রিয়ন, স্পটার, লিংকট্রির মতো সৃজনশীল সাপোর্ট কোম্পানির কর্মীরাও এর অন্তর্ভুক্ত।

গবেষণা অনুযায়ী, ২০২২ সালে ইউটিউব ইকোসিস্টেম যুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখ ৯০ হাজার কর্মসংস্থান এবং ৩৫ বিলিয়ন ডলার অর্থনৈতিক অবদান রেখেছিল। মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে আরও ১ লাখ নতুন চাকরি এবং অতিরিক্ত ২০ বিলিয়ন ডলারের প্রবৃদ্ধিতে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তুলনায় ইউটিউব এখনো সবচেয়ে লাভজনক এবং স্থিতিশীল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে অবস্থান করছে। ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামে অংশ নিলে নির্মাতারা বিজ্ঞাপন আয়ের ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত ভাগ পেতে পারেন। এই ব্যবস্থার ফলে মধ্যম মানের অনেক নির্মাতাও মাসে কয়েক হাজার ডলার পর্যন্ত আয় করছেন।

তবে ইউটিউব শর্টস কিংবা টিকটকের মতো স্বল্প দৈর্ঘ্যের ভিডিও প্ল্যাটফর্মগুলো এখনো নির্মাতাদের জন্য নির্ভরযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি আয়ের মডেল গড়ে তুলতে পারেনি।

অন্যদিকে, এই সৃজনশীল খাত থেকে আয় করলেও অনেক কনটেন্ট নির্মাতা ব্যবসায়িক ঋণ বা ক্রেডিট কার্ড পেতে এখনও সমস্যায় পড়েন। অনেক ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইউটিউব থেকে আয়কে এখনো পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা হিসেবে গণ্য করে না।

এই পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে মার্কিন আইনপ্রণেতারাও। সম্প্রতি কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের দুই সদস্য- ইভেট ক্লার্ক (ডেমোক্র্যাট, নিউইয়র্ক) এবং বেথ ভ্যান ডাইন (রিপাবলিকান, টেক্সাস)- ঘোষণা দিয়েছেন ‘কংগ্রেসনাল ক্রিয়েটরস ককাস’ গঠনের। এই নতুন উদ্যোগের লক্ষ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিয়েটর ইকোসিস্টেমকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং এই শিল্পের বিকাশে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী দিনে সৃজনশীল ডিজিটাল শিল্পই হবে কর্মসংস্থানের অন্যতম বড় খাত। তাই ইউটিউবের এই প্রবৃদ্ধি কেবল একক কোম্পানির সাফল্য নয়, বরং এটি একটি নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতার ইঙ্গিতও বটে।

 

নতুনকথা/এএস