ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ৩০তম আসরের পর্দা উঠছে আজ। সকাল সাড়ে ১০টায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পূর্বাচলের ৪ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত স্থায়ী ভেন্যু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার (বিবিসিএফইসি) ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করা হবে। দেশের সবচেয়ে বড় পণ্য প্রদর্শনীর এই আয়োজনকে ঘিরে ইতোমধ্যেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ।
এর আগে গত ১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারিত ছিল। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকার তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করলে মেলার উদ্বোধন স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ৩ জানুয়ারি মেলার নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এবারের মেলায় বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশ অংশ নিচ্ছে। দেশীয় পণ্যের পাশাপাশি প্রতিবছরের মতো এবারও ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, হংকং, সিঙ্গাপুর, নেপালসহ বিভিন্ন দেশের পণ্য প্রদর্শিত হবে। ফলে দেশীয় শিল্পের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পণ্যের সমাহারও থাকছে এই মেলায়।
মেলার লে-আউট প্ল্যান অনুযায়ী বিভিন্ন ক্যাটাগরির মোট ৩২৪টি প্যাভিলিয়ন, স্টল ও রেস্টুরেন্ট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে দেশীয় উৎপাদক ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি সাধারণ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো অংশ নিচ্ছে। আয়োজকরা বলছেন, আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এবার প্যাভিলিয়ন ও স্টল বিন্যাস আরও গোছানো ও দর্শনার্থীবান্ধব করা হয়েছে।
পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে এবারের মেলায় পলিথিন ব্যাগ এবং সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে দর্শনার্থীদের জন্য বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ হ্রাসকৃত মূল্যে সরবরাহ করা হবে।
সাধারণ দর্শনার্থীদের যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে কুড়িল বিশ্বরোড, ফার্মগেট (খেজুরবাগান ও খামারবাড়ি), নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে বাণিজ্য মেলার উদ্দেশে বিআরটিসির ২০০টির বেশি ডেডিকেটেড শাটল বাস চলাচল করবে।
১৯৯৫ সাল থেকে নিয়মিতভাবে বছরের প্রথম দিনেই ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হয়ে আসছে। ২০২২ সাল থেকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকা ছেড়ে পূর্বাচলের ৪ নম্বর সেক্টরের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারকে মেলার স্থায়ী ভেন্যু হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। সে হিসাবে পূর্বাচলে এবার পঞ্চমবারের মতো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আয়োজন হচ্ছে। আয়োজক কর্তৃপক্ষ জানায়, মেলা শুরুর সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং দর্শনার্থীদের স্বাগত জানাতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
নতুন কথা/এসআর
নিজস্ব সংবাদ : 




















