ঢাকা ০৫:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকায় নিজ বাসা থেকে জামায়াত নেতার মরদেহ উদ্ধার ত্বকের বলিরেখা কমাতে যেসব প্রাকৃতিক তেল হতে পারে ভরসা ভারতের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ আইসিসির, অবস্থানে অটল বিসিবি ইরানে নজিরবিহীন বিক্ষোভে নিহত প্রায় ২ হাজার মানুষ: সরকারি কর্মকর্তা বিএনপি নেতা ডাবলুর মৃত্যু: অভিযানে অংশ নেওয়া সব সেনাসদস্য প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি গঠন জ্বালানি সরবরাহ বড় চ্যালেঞ্জ, তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় সরকার: সালেহউদ্দিন আহমেদ আগামী নির্বাচনই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা : সালাহউদ্দিন আহমদ সবোজলাইয়ের নায়ক-খলনায়ক রাতেও বার্নসলিকে উড়িয়ে চতুর্থ রাউন্ডে লিভারপুল জীবনদর্শনের দূরত্বেই ফাটল: যে কারণে টেকেনি তাহসান-রোজার সংসার শিক্ষা শুধু চাকরির কারখানা নয়, সৃজনশীল মানুষ গড়ার পথ: প্রধান উপদেষ্টা

সাবেক কাউন্সিলর বাপ্পির নির্দেশেই ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হাদি হত্যা: ডিবি

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:৩১:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

মিরপুরের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পির নির্দেশে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

মঙ্গলবার বিকেলে হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়ার পর ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে এবং তদন্তে এর সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ডিবির তথ্য অনুযায়ী, হাদি হত্যা মামলায় মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম, তার বোন জেসমিন, আলমগীর হোসেন ও ফিলিপসহ পাঁচজন এখনও পলাতক রয়েছে। তদন্তে নতুন করে কারও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিললে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করা হবে বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে শরিফ ওসমান হাদি ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক ধারার সূচনা করেছিলেন। বিভিন্ন সময় তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনামূলক বক্তব্য দেন। এসব বক্তব্যের কারণে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের একটি অংশ তার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ঘটনার দিন যিনি গুলি করেন, সেই ফয়সাল করিম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

ডিবি জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর ফয়সাল করিম ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে পালিয়ে যেতে সার্বিক সহায়তা দেন তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি। তিনি রাজনৈতিক প্রভাব ও যোগাযোগ ব্যবহার করে তাদের নিরাপদে আত্মগোপনে যেতে সহায়তা করেন। রাজনৈতিক পরিচয় এবং হাদির পূর্ববর্তী বক্তব্যের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র প্রসঙ্গে ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, উদ্ধারকৃত অস্ত্রের ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং ওই অস্ত্র দিয়েই হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিমের একটি ভিডিও প্রসঙ্গে শফিকুল ইসলাম বলেন, ভিডিওটির ফরেনসিক যাচাই করা হয়েছে এবং সেটি সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছে। তবে ফয়সালের বর্তমান অবস্থান এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।

ভারতে কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়ে ভারতীয় পুলিশের অস্বীকৃতির প্রসঙ্গে তিনি জানান, ডিবির কাছে এ ধরনের তথ্য রয়েছে, তবে বর্তমানে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলার মতো অবস্থায় নেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নতুন কথা/এসআর

 

ঢাকায় নিজ বাসা থেকে জামায়াত নেতার মরদেহ উদ্ধার

সাবেক কাউন্সিলর বাপ্পির নির্দেশেই ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হাদি হত্যা: ডিবি

আপডেট সময় ০৬:৩১:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

মিরপুরের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পির নির্দেশে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

মঙ্গলবার বিকেলে হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়ার পর ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে এবং তদন্তে এর সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ডিবির তথ্য অনুযায়ী, হাদি হত্যা মামলায় মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম, তার বোন জেসমিন, আলমগীর হোসেন ও ফিলিপসহ পাঁচজন এখনও পলাতক রয়েছে। তদন্তে নতুন করে কারও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিললে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করা হবে বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে শরিফ ওসমান হাদি ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক ধারার সূচনা করেছিলেন। বিভিন্ন সময় তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনামূলক বক্তব্য দেন। এসব বক্তব্যের কারণে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের একটি অংশ তার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ঘটনার দিন যিনি গুলি করেন, সেই ফয়সাল করিম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

ডিবি জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর ফয়সাল করিম ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে পালিয়ে যেতে সার্বিক সহায়তা দেন তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি। তিনি রাজনৈতিক প্রভাব ও যোগাযোগ ব্যবহার করে তাদের নিরাপদে আত্মগোপনে যেতে সহায়তা করেন। রাজনৈতিক পরিচয় এবং হাদির পূর্ববর্তী বক্তব্যের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র প্রসঙ্গে ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, উদ্ধারকৃত অস্ত্রের ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং ওই অস্ত্র দিয়েই হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিমের একটি ভিডিও প্রসঙ্গে শফিকুল ইসলাম বলেন, ভিডিওটির ফরেনসিক যাচাই করা হয়েছে এবং সেটি সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছে। তবে ফয়সালের বর্তমান অবস্থান এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।

ভারতে কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়ে ভারতীয় পুলিশের অস্বীকৃতির প্রসঙ্গে তিনি জানান, ডিবির কাছে এ ধরনের তথ্য রয়েছে, তবে বর্তমানে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলার মতো অবস্থায় নেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নতুন কথা/এসআর