আসন্ন গণভোট সম্পর্কে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি এবং বিভ্রান্তি দূর করতে দেশজুড়ে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার। এ লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, ধর্মীয় নেতা এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনের প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে গণভোটের ধারণা স্পষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সচেতনতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গতকাল রোববার (১১ জানুয়ারি) বরিশালে পৃথকভাবে বিভাগীয় কর্মকর্তা সম্মেলন ও ইমাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এসব অনুষ্ঠানে গণভোটের উদ্দেশ্য, প্রক্রিয়া ও গুরুত্ব তুলে ধরে প্রশিক্ষণমূলক বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ এবং আরেক বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।
সরকারি সূত্র জানায়, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দেশের সব বিভাগে একই ধরনের কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়। এতে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।
অন্যদিকে, ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে **ইসলামিক ফাউন্ডেশন**, যাতে মসজিদকেন্দ্রিক প্রচারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে গণভোট সম্পর্কে সঠিক ধারণা পৌঁছে দেওয়া যায়।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী,
* ১২ জানুয়ারি রাজশাহী,
* ১৪ জানুয়ারি রংপুর,
* ১৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম,
* ১৭ জানুয়ারি ঢাকা,
* ১৯ জানুয়ারি ময়মনসিংহ,
* ২২ জানুয়ারি সিলেট এবং
* ২৪ জানুয়ারি খুলনা বিভাগে
বিভাগীয় পর্যায়ে ইমাম সম্মেলন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে।
এসব মতবিনিময় সভায় বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ জ্যেষ্ঠ শিক্ষক, বিশিষ্ট সাংবাদিক, প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সম্পাদক, দোকান মালিক সমিতিসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা অংশ নেবেন। পাশাপাশি এনজিও প্রধান, এনজিও অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত থাকবেন।
মতবিনিময় সভার মূল লক্ষ্য হলো- গণভোট সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডারকে সম্পৃক্ত করে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে যে কোনো বিভ্রান্তি দূর করা।
সরকারের আশা, এই সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে গণভোটের উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব জনগণের কাছে স্পষ্ট হবে এবং অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য গণভোট আয়োজনের জন্য একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হবে।
নতুন কথা/এসআর
নিজস্ব প্রতিবেদক: 




















