ঢাকা ০৭:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকায় নিজ বাসা থেকে জামায়াত নেতার মরদেহ উদ্ধার ত্বকের বলিরেখা কমাতে যেসব প্রাকৃতিক তেল হতে পারে ভরসা ভারতের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ আইসিসির, অবস্থানে অটল বিসিবি ইরানে নজিরবিহীন বিক্ষোভে নিহত প্রায় ২ হাজার মানুষ: সরকারি কর্মকর্তা বিএনপি নেতা ডাবলুর মৃত্যু: অভিযানে অংশ নেওয়া সব সেনাসদস্য প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি গঠন জ্বালানি সরবরাহ বড় চ্যালেঞ্জ, তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় সরকার: সালেহউদ্দিন আহমেদ আগামী নির্বাচনই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা : সালাহউদ্দিন আহমদ সবোজলাইয়ের নায়ক-খলনায়ক রাতেও বার্নসলিকে উড়িয়ে চতুর্থ রাউন্ডে লিভারপুল জীবনদর্শনের দূরত্বেই ফাটল: যে কারণে টেকেনি তাহসান-রোজার সংসার শিক্ষা শুধু চাকরির কারখানা নয়, সৃজনশীল মানুষ গড়ার পথ: প্রধান উপদেষ্টা

ঢাকায় নিজ বাসা থেকে জামায়াত নেতার মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন পশ্চিম রাজাবাজার এলাকা থেকে মোহাম্মদ আনোয়ার উল্লাহ (৬৫) নামে এক জামায়াত নেতার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও স্থানীয়ভাবে পরিচিত একজন হোমিও চিকিৎসক ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি শেরেবাংলা নগর দক্ষিণ থানার জামায়াতে ইসলামীর রোকন এবং পশ্চিম রাজাবাজার ওয়ার্ড জামায়াতের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।

পুলিশ ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার (১২ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে দুর্বৃত্তরা জানালার গ্রিল কেটে তার বাসায় প্রবেশ করে। এ সময় ঘুমিয়ে ছিলেন আনোয়ার উল্লাহ ও তার স্ত্রী। দুর্বৃত্তরা তাদের হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে এবং আনোয়ার উল্লাহর মুখে কাপড় গুঁজে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে বাসা থেকে নগদ প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ও আট ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায় তারা। মঙ্গলবার সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহতের স্বজনদের দাবি, ঘটনাটি কোনো সাধারণ চুরির ঘটনা নয়; বরং এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, লুটপাটের পাশাপাশি আনোয়ার উল্লাহকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমাউল হক বলেন, রাতে একদল দুর্বৃত্ত ঘরের গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় আনোয়ার উল্লাহ ও তার স্ত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন। দুজনের হাত-পা ও মুখ বেঁধে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করা হয়। পরে আনোয়ার উল্লাহ মারা যান। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতে ইসলামীর প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার জানান, মোহাম্মদ আনোয়ার উল্লাহ ছিলেন শেরে বাংলা নগর দক্ষিণ থানার পশ্চিম রাজাবাজার ওয়ার্ড জামায়াতের সহ-সভাপতি ও রোকন। তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, হোমিও চিকিৎসক ও সমাজসেবক হিসেবে এলাকায় সুপরিচিত ছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টায় পশ্চিম রাজাবাজার মসজিদ প্রাঙ্গণে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে মরদেহ কুমিল্লার লাকসামে তার গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর শোক ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম। এক যৌথ শোকবার্তায় তারা বলেন, মোহাম্মদ আনোয়ার উল্লাহ ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ও সমাজসেবক। তার নির্মম হত্যাকাণ্ডে সংগঠন একজন আদর্শবান সহযোদ্ধাকে হারাল।

নেতৃদ্বয় এই হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক নেতাদের হত্যাকাণ্ডে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা বলেন, দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত না হলে মানুষের মধ্যে সরকারের ওপর আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে।

 

নতুন কথা/এসআর

ঢাকায় নিজ বাসা থেকে জামায়াত নেতার মরদেহ উদ্ধার

ঢাকায় নিজ বাসা থেকে জামায়াত নেতার মরদেহ উদ্ধার

আপডেট সময় ০৭:৪৪:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন পশ্চিম রাজাবাজার এলাকা থেকে মোহাম্মদ আনোয়ার উল্লাহ (৬৫) নামে এক জামায়াত নেতার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও স্থানীয়ভাবে পরিচিত একজন হোমিও চিকিৎসক ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি শেরেবাংলা নগর দক্ষিণ থানার জামায়াতে ইসলামীর রোকন এবং পশ্চিম রাজাবাজার ওয়ার্ড জামায়াতের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।

পুলিশ ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার (১২ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে দুর্বৃত্তরা জানালার গ্রিল কেটে তার বাসায় প্রবেশ করে। এ সময় ঘুমিয়ে ছিলেন আনোয়ার উল্লাহ ও তার স্ত্রী। দুর্বৃত্তরা তাদের হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে এবং আনোয়ার উল্লাহর মুখে কাপড় গুঁজে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে বাসা থেকে নগদ প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ও আট ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায় তারা। মঙ্গলবার সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহতের স্বজনদের দাবি, ঘটনাটি কোনো সাধারণ চুরির ঘটনা নয়; বরং এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, লুটপাটের পাশাপাশি আনোয়ার উল্লাহকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমাউল হক বলেন, রাতে একদল দুর্বৃত্ত ঘরের গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় আনোয়ার উল্লাহ ও তার স্ত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন। দুজনের হাত-পা ও মুখ বেঁধে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করা হয়। পরে আনোয়ার উল্লাহ মারা যান। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতে ইসলামীর প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার জানান, মোহাম্মদ আনোয়ার উল্লাহ ছিলেন শেরে বাংলা নগর দক্ষিণ থানার পশ্চিম রাজাবাজার ওয়ার্ড জামায়াতের সহ-সভাপতি ও রোকন। তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, হোমিও চিকিৎসক ও সমাজসেবক হিসেবে এলাকায় সুপরিচিত ছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টায় পশ্চিম রাজাবাজার মসজিদ প্রাঙ্গণে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে মরদেহ কুমিল্লার লাকসামে তার গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর শোক ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম। এক যৌথ শোকবার্তায় তারা বলেন, মোহাম্মদ আনোয়ার উল্লাহ ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ও সমাজসেবক। তার নির্মম হত্যাকাণ্ডে সংগঠন একজন আদর্শবান সহযোদ্ধাকে হারাল।

নেতৃদ্বয় এই হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক নেতাদের হত্যাকাণ্ডে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা বলেন, দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত না হলে মানুষের মধ্যে সরকারের ওপর আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে।

 

নতুন কথা/এসআর