ঢাকা ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকায় নিজ বাসা থেকে জামায়াত নেতার মরদেহ উদ্ধার ত্বকের বলিরেখা কমাতে যেসব প্রাকৃতিক তেল হতে পারে ভরসা ভারতের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ আইসিসির, অবস্থানে অটল বিসিবি ইরানে নজিরবিহীন বিক্ষোভে নিহত প্রায় ২ হাজার মানুষ: সরকারি কর্মকর্তা বিএনপি নেতা ডাবলুর মৃত্যু: অভিযানে অংশ নেওয়া সব সেনাসদস্য প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি গঠন জ্বালানি সরবরাহ বড় চ্যালেঞ্জ, তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় সরকার: সালেহউদ্দিন আহমেদ আগামী নির্বাচনই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা : সালাহউদ্দিন আহমদ সবোজলাইয়ের নায়ক-খলনায়ক রাতেও বার্নসলিকে উড়িয়ে চতুর্থ রাউন্ডে লিভারপুল জীবনদর্শনের দূরত্বেই ফাটল: যে কারণে টেকেনি তাহসান-রোজার সংসার শিক্ষা শুধু চাকরির কারখানা নয়, সৃজনশীল মানুষ গড়ার পথ: প্রধান উপদেষ্টা

২০২৫-২৬ বাজেট অনুমোদনে শেষ মুহূর্তের আলোচনায় উপদেষ্টা পরিষদ

IQRAM PID

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট আজ রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হতে যাচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে সকাল ১০টায় শুরু হয়েছে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক। বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ আকারে এটি ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে বলে জানা গেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং সূত্রে।

গত বছরের জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের শাসনব্যবস্থায় বড় রকমের পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এবার জাতীয় সংসদের বাইরে বাজেট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ গত ২ জুন সোমবার সন্ধ্যায় বিটিভি ও বেসরকারি গণমাধ্যমগুলোতে একযোগে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন। এরপর অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ১৯ জুন পর্যন্ত জনগণের কাছ থেকে মতামত সংগ্রহ করা হয়। সেই মতামতের আলোকে বাজেটে কিছু সংযোজন-বিয়োজন করে চূড়ান্ত খসড়া তৈরি করা হয়েছে।

চূড়ান্ত এ বাজেট আজ উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে। অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ আকারে বাজেট কার্যকর হবে। আজই বাজেট বাস্তবায়নের জন্য দুইটি অধ্যাদেশ- একটি বরাদ্দ সংক্রান্ত এবং অন্যটি শুল্ক-কর সংক্রান্ত- জারি করার কথা রয়েছে।

নির্বাচিত সরকারের অধীনে সাধারণত বাজেট সংসদে উপস্থাপন হতো এবং মাসব্যাপী তার ওপর আলোচনা ও বিতর্ক শেষে পাস হতো। কিন্তু বর্তমানে সংসদ না থাকায় সেই প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা যাচ্ছে না। ফলে এবার রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমেই বাজেট অনুমোদনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তবে প্রক্রিয়াটি একেবারে একতরফা ছিল না। বাজেট ঘোষণার পর নাগরিকদের মতামত নেওয়ার উদ্যোগ এবং বাজেটোত্তর আলোচনা প্রমাণ করে, অন্তর্বর্তী সরকার অংশগ্রহণমূলক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখার চেষ্টা করেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মোট বাজেট বরাদ্দের কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। তবে শুল্ক-কর সংক্রান্ত অধ্যাদেশে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনার চিন্তাভাবনা চলছে।

একটি আলোচিত ইস্যু হলো কালোটাকা সাদা করার সুযোগ। বাজেট ঘোষণার সময় অ্যাপার্টমেন্ট বা ভবন নির্মাণে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে কালোটাকা সাদা করার সুযোগের প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু তীব্র সমালোচনার মুখে এই প্রস্তাব বাতিলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে পুনর্বিবেচনার জন্য উপস্থাপিত হয়েছে।

তবে আয়কর আইনের ১৯(বি) ধারা অনুযায়ী, করদাতারা যদি কোনো সম্পত্তি আয়কর রিটার্নে ভুলবশত উল্লেখ করতে না পারেন, তাহলে পরবর্তী করবর্ষে তা সংশোধন করে জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এর জন্য ১০-১৫ শতাংশ অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হয়।

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বাজেটোত্তর এক সংবাদ সম্মেলনে কালোটাকা সাদা করার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। গতকাল শনিবার বাজেট নিয়ে এক আলোচনা সভায় পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদও বলেন, “এই সুযোগ (কালোটাকা সাদা করার) খুব একটা কাজে আসে না। এত আলোচনা হয়েছে- তাহলে এটা তুলে দেওয়া হোক।”

স্বাস্থ্য এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির পণ্যে কর ছাড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। কর্নিয়া (চোখের লেন্স) আমদানিতে প্রস্তাবিত ৫% আগাম কর এবং হার্টের রিং আমদানিতে ৫% শুল্ক প্রত্যাহারের কথা ভাবছে সরকার। একই সঙ্গে সোলার প্যানেলের আমদানিতে শুল্ক ১ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে। এসব পরিবর্তনের লক্ষ্য হলো স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে জনগণকে উৎসাহিত করা।

অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে বাজেট প্রণয়ন ও অনুমোদনের এই নতুন পদ্ধতি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। সংসদ ছাড়া বাজেট বাস্তবায়নের এ পদ্ধতি অস্বাভাবিক হলেও স্বচ্ছতা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কিছু প্রয়াস দেখা গেছে। এখন দেখার বিষয়—প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নে সরকার কতটা দক্ষতা ও দায়বদ্ধতা দেখাতে পারে।

 

নতুনকথা/এএস

ঢাকায় নিজ বাসা থেকে জামায়াত নেতার মরদেহ উদ্ধার

২০২৫-২৬ বাজেট অনুমোদনে শেষ মুহূর্তের আলোচনায় উপদেষ্টা পরিষদ

আপডেট সময় ১১:৪৬:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ জুন ২০২৫

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট আজ রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হতে যাচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে সকাল ১০টায় শুরু হয়েছে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক। বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ আকারে এটি ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে বলে জানা গেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং সূত্রে।

গত বছরের জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের শাসনব্যবস্থায় বড় রকমের পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এবার জাতীয় সংসদের বাইরে বাজেট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ গত ২ জুন সোমবার সন্ধ্যায় বিটিভি ও বেসরকারি গণমাধ্যমগুলোতে একযোগে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন। এরপর অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ১৯ জুন পর্যন্ত জনগণের কাছ থেকে মতামত সংগ্রহ করা হয়। সেই মতামতের আলোকে বাজেটে কিছু সংযোজন-বিয়োজন করে চূড়ান্ত খসড়া তৈরি করা হয়েছে।

চূড়ান্ত এ বাজেট আজ উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে। অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ আকারে বাজেট কার্যকর হবে। আজই বাজেট বাস্তবায়নের জন্য দুইটি অধ্যাদেশ- একটি বরাদ্দ সংক্রান্ত এবং অন্যটি শুল্ক-কর সংক্রান্ত- জারি করার কথা রয়েছে।

নির্বাচিত সরকারের অধীনে সাধারণত বাজেট সংসদে উপস্থাপন হতো এবং মাসব্যাপী তার ওপর আলোচনা ও বিতর্ক শেষে পাস হতো। কিন্তু বর্তমানে সংসদ না থাকায় সেই প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা যাচ্ছে না। ফলে এবার রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমেই বাজেট অনুমোদনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তবে প্রক্রিয়াটি একেবারে একতরফা ছিল না। বাজেট ঘোষণার পর নাগরিকদের মতামত নেওয়ার উদ্যোগ এবং বাজেটোত্তর আলোচনা প্রমাণ করে, অন্তর্বর্তী সরকার অংশগ্রহণমূলক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখার চেষ্টা করেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মোট বাজেট বরাদ্দের কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। তবে শুল্ক-কর সংক্রান্ত অধ্যাদেশে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনার চিন্তাভাবনা চলছে।

একটি আলোচিত ইস্যু হলো কালোটাকা সাদা করার সুযোগ। বাজেট ঘোষণার সময় অ্যাপার্টমেন্ট বা ভবন নির্মাণে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে কালোটাকা সাদা করার সুযোগের প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু তীব্র সমালোচনার মুখে এই প্রস্তাব বাতিলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে পুনর্বিবেচনার জন্য উপস্থাপিত হয়েছে।

তবে আয়কর আইনের ১৯(বি) ধারা অনুযায়ী, করদাতারা যদি কোনো সম্পত্তি আয়কর রিটার্নে ভুলবশত উল্লেখ করতে না পারেন, তাহলে পরবর্তী করবর্ষে তা সংশোধন করে জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এর জন্য ১০-১৫ শতাংশ অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হয়।

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বাজেটোত্তর এক সংবাদ সম্মেলনে কালোটাকা সাদা করার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। গতকাল শনিবার বাজেট নিয়ে এক আলোচনা সভায় পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদও বলেন, “এই সুযোগ (কালোটাকা সাদা করার) খুব একটা কাজে আসে না। এত আলোচনা হয়েছে- তাহলে এটা তুলে দেওয়া হোক।”

স্বাস্থ্য এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির পণ্যে কর ছাড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। কর্নিয়া (চোখের লেন্স) আমদানিতে প্রস্তাবিত ৫% আগাম কর এবং হার্টের রিং আমদানিতে ৫% শুল্ক প্রত্যাহারের কথা ভাবছে সরকার। একই সঙ্গে সোলার প্যানেলের আমদানিতে শুল্ক ১ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে। এসব পরিবর্তনের লক্ষ্য হলো স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে জনগণকে উৎসাহিত করা।

অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে বাজেট প্রণয়ন ও অনুমোদনের এই নতুন পদ্ধতি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। সংসদ ছাড়া বাজেট বাস্তবায়নের এ পদ্ধতি অস্বাভাবিক হলেও স্বচ্ছতা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কিছু প্রয়াস দেখা গেছে। এখন দেখার বিষয়—প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নে সরকার কতটা দক্ষতা ও দায়বদ্ধতা দেখাতে পারে।

 

নতুনকথা/এএস