ঢাকা ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকায় নিজ বাসা থেকে জামায়াত নেতার মরদেহ উদ্ধার ত্বকের বলিরেখা কমাতে যেসব প্রাকৃতিক তেল হতে পারে ভরসা ভারতের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ আইসিসির, অবস্থানে অটল বিসিবি ইরানে নজিরবিহীন বিক্ষোভে নিহত প্রায় ২ হাজার মানুষ: সরকারি কর্মকর্তা বিএনপি নেতা ডাবলুর মৃত্যু: অভিযানে অংশ নেওয়া সব সেনাসদস্য প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি গঠন জ্বালানি সরবরাহ বড় চ্যালেঞ্জ, তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় সরকার: সালেহউদ্দিন আহমেদ আগামী নির্বাচনই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা : সালাহউদ্দিন আহমদ সবোজলাইয়ের নায়ক-খলনায়ক রাতেও বার্নসলিকে উড়িয়ে চতুর্থ রাউন্ডে লিভারপুল জীবনদর্শনের দূরত্বেই ফাটল: যে কারণে টেকেনি তাহসান-রোজার সংসার শিক্ষা শুধু চাকরির কারখানা নয়, সৃজনশীল মানুষ গড়ার পথ: প্রধান উপদেষ্টা

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নিয়ে কড়া বিবৃতি বার্নি স্যান্ডার্সের

ফাইল ফুটেজ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স গতকাল ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে কড়া বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমেরিকান জনগণকে ভিয়েতনাম ও ইরাক যুদ্ধের সময় যেমন মিথ্যা বলা হয়েছিল, আজ আবার তেমনই মিথ্যার মাধ্যমে আরেকটি যুদ্ধের ভিত্তি তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর এই বক্তব্য শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্যই গভীর তাৎপর্যপূর্ণ।

 

সিনেটর স্যান্ডার্সের মতে, ১৯৬০-এর দশকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় মার্কিন সরকার ভুল তথ্য দিয়ে জনগণকে যুদ্ধ সমর্থনে প্ররোচিত করেছিল। সেই যুদ্ধে ৫৮ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা প্রাণ হারান। আহত হন বহু মানুষ। লক্ষ লক্ষ ভিয়েতনামী নাগরিক নিহত হন, ধ্বংস হয় দেশের অবকাঠামো, এবং অপচয় হয় শত শত বিলিয়ন ডলার করদাতার অর্থ। যুদ্ধের পর দেখা যায়, সেই “কমিউনিস্ট হুমকি” বা “ডমিনো থিওরি”-র কোনো বাস্তব ভিত্তি ছিল না।

 

তেমনি, ২০০২ সালে ইরাক যুদ্ধের আগে বলা হয়েছিল ইরাকের হাতে গণবিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে, যা দ্রুত ধ্বংস না করলে মার্কিন ভূখণ্ড ঝুঁকিতে পড়বে। ইসরায়েলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কংগ্রেসে দাঁড়িয়ে এই দাবিকে সমর্থন করে বলেন, সাদ্দাম হোসেনকে সরাতে পারলে পুরো অঞ্চলে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। কিন্তু যুদ্ধের পর প্রমাণ মেলে ইরাকের কাছে তেমন কোনো অস্ত্র ছিল না। এই মিথ্যার ভিত্তিতে শুরু হওয়া যুদ্ধে নিহত হন ৪ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা, আহত হন হাজার হাজার, এবং নিহত হন পাঁচ লক্ষাধিক ইরাকি নাগরিক।

 

বার্নি স্যান্ডার্স আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, আজ আবার এমন একটি যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে, এবার ইরানকে কেন্দ্র করে। তিনি বলেন, আমেরিকান জনগণকে আবারও বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। আমরা ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে দিতে পারি না।

 

সিনেটর স্যান্ডার্সের বক্তব্যে আজকের সময়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে। যখন বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জলবায়ু সংকটের মতো বড় বড় সমস্যায় জর্জরিত, তখন একটি নতুন যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল ধ্বংস ডেকে আনবে। যুদ্ধ মানে মৃত্যু, শরণার্থী, ধ্বংস, ঘৃণা এবং দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক অস্থিরতা।

 

এই প্রসঙ্গে বার্নি স্যান্ডার্সের সরল অথচ স্পষ্ট সতর্কবাণী গভীরভাবে ভাববার দাবি রাখে আমরা যেন আরেকটি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ফাঁদে পা না দিই। যুদ্ধ নয়, আমেরিকা ও বিশ্বকে এখন দরকার শান্তি, সততা ও মানুষের জীবন রক্ষার অঙ্গীকার।

ঢাকায় নিজ বাসা থেকে জামায়াত নেতার মরদেহ উদ্ধার

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নিয়ে কড়া বিবৃতি বার্নি স্যান্ডার্সের

আপডেট সময় ০৭:৪৬:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ জুন ২০২৫

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স গতকাল ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে কড়া বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমেরিকান জনগণকে ভিয়েতনাম ও ইরাক যুদ্ধের সময় যেমন মিথ্যা বলা হয়েছিল, আজ আবার তেমনই মিথ্যার মাধ্যমে আরেকটি যুদ্ধের ভিত্তি তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর এই বক্তব্য শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্যই গভীর তাৎপর্যপূর্ণ।

 

সিনেটর স্যান্ডার্সের মতে, ১৯৬০-এর দশকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় মার্কিন সরকার ভুল তথ্য দিয়ে জনগণকে যুদ্ধ সমর্থনে প্ররোচিত করেছিল। সেই যুদ্ধে ৫৮ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা প্রাণ হারান। আহত হন বহু মানুষ। লক্ষ লক্ষ ভিয়েতনামী নাগরিক নিহত হন, ধ্বংস হয় দেশের অবকাঠামো, এবং অপচয় হয় শত শত বিলিয়ন ডলার করদাতার অর্থ। যুদ্ধের পর দেখা যায়, সেই “কমিউনিস্ট হুমকি” বা “ডমিনো থিওরি”-র কোনো বাস্তব ভিত্তি ছিল না।

 

তেমনি, ২০০২ সালে ইরাক যুদ্ধের আগে বলা হয়েছিল ইরাকের হাতে গণবিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে, যা দ্রুত ধ্বংস না করলে মার্কিন ভূখণ্ড ঝুঁকিতে পড়বে। ইসরায়েলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কংগ্রেসে দাঁড়িয়ে এই দাবিকে সমর্থন করে বলেন, সাদ্দাম হোসেনকে সরাতে পারলে পুরো অঞ্চলে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। কিন্তু যুদ্ধের পর প্রমাণ মেলে ইরাকের কাছে তেমন কোনো অস্ত্র ছিল না। এই মিথ্যার ভিত্তিতে শুরু হওয়া যুদ্ধে নিহত হন ৪ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা, আহত হন হাজার হাজার, এবং নিহত হন পাঁচ লক্ষাধিক ইরাকি নাগরিক।

 

বার্নি স্যান্ডার্স আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, আজ আবার এমন একটি যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে, এবার ইরানকে কেন্দ্র করে। তিনি বলেন, আমেরিকান জনগণকে আবারও বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। আমরা ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে দিতে পারি না।

 

সিনেটর স্যান্ডার্সের বক্তব্যে আজকের সময়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে। যখন বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জলবায়ু সংকটের মতো বড় বড় সমস্যায় জর্জরিত, তখন একটি নতুন যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল ধ্বংস ডেকে আনবে। যুদ্ধ মানে মৃত্যু, শরণার্থী, ধ্বংস, ঘৃণা এবং দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক অস্থিরতা।

 

এই প্রসঙ্গে বার্নি স্যান্ডার্সের সরল অথচ স্পষ্ট সতর্কবাণী গভীরভাবে ভাববার দাবি রাখে আমরা যেন আরেকটি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ফাঁদে পা না দিই। যুদ্ধ নয়, আমেরিকা ও বিশ্বকে এখন দরকার শান্তি, সততা ও মানুষের জীবন রক্ষার অঙ্গীকার।