ঢাকা ০৭:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকায় নিজ বাসা থেকে জামায়াত নেতার মরদেহ উদ্ধার ত্বকের বলিরেখা কমাতে যেসব প্রাকৃতিক তেল হতে পারে ভরসা ভারতের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ আইসিসির, অবস্থানে অটল বিসিবি ইরানে নজিরবিহীন বিক্ষোভে নিহত প্রায় ২ হাজার মানুষ: সরকারি কর্মকর্তা বিএনপি নেতা ডাবলুর মৃত্যু: অভিযানে অংশ নেওয়া সব সেনাসদস্য প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি গঠন জ্বালানি সরবরাহ বড় চ্যালেঞ্জ, তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় সরকার: সালেহউদ্দিন আহমেদ আগামী নির্বাচনই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা : সালাহউদ্দিন আহমদ সবোজলাইয়ের নায়ক-খলনায়ক রাতেও বার্নসলিকে উড়িয়ে চতুর্থ রাউন্ডে লিভারপুল জীবনদর্শনের দূরত্বেই ফাটল: যে কারণে টেকেনি তাহসান-রোজার সংসার শিক্ষা শুধু চাকরির কারখানা নয়, সৃজনশীল মানুষ গড়ার পথ: প্রধান উপদেষ্টা

নির্বাচন সামনে রেখে সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৯:৩২:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সম্ভাব্য গণভোটকে সামনে রেখে দেশের সার্বিক সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। নির্বাচনকেন্দ্রিক গুজব, ভুয়া তথ্য ও সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের সভায় এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সভায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “নির্বাচনকে ঘিরে তথ্যপ্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে সব ধরনের সাইবার অপরাধ কঠোরভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।” তিনি জানান, সরকার নাগরিক সেবাগুলোকে ধাপে ধাপে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসছে। এসব ডিজিটাল সেবা নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সাইবার সুরক্ষা জোরদার করা এখন সময়ের দাবি।

নাগরিক সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে নিয়মিত সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার হালনাগাদ করতে হবে। পাশাপাশি এসব ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত জনবলকে আরও দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট জনবলকে একটি রেটিং পদ্ধতির আওতায় আনতে হবে, যাতে সাইবার সুরক্ষার প্রকৃত সক্ষমতা ও দুর্বলতা সহজে মূল্যায়ন করা যায়। বিশেষ করে আর্থিক খাতে সাইবার অপরাধ করে কেউ যেন পার পেয়ে না যায়, সে বিষয়ে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিকে বিচার বিভাগের পাশাপাশি কার্যকর ভূমিকা রাখার নির্দেশ দেন তিনি।

সভায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, ইতোমধ্যে ৩৫টি প্রতিষ্ঠানকে ‘ক্রিটিক্যাল ইনফরমেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও কিছু প্রতিষ্ঠানকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

এছাড়া আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গুজব, মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশনসহ অন্যান্য সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি ও বিটিআরসি’র মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর সভায় বলেন, ব্যাংকিং খাতে সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং আরও কিছু কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি সেক্টরাল সার্ট (CERT) গঠনের উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন।

জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের সদস্য সচিব ও জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ড. মো. তৈয়বুর রহমান পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে এজেন্সির চলমান কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং ‘সাইবার ইনসিডেন্ট রিপোর্টিং অ্যান্ড রেসপন্স সিস্টেম’-এর বিস্তারিত তুলে ধরেন।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

উল্লেখ্য, ২১ মে ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫’ প্রণয়নের পর সংশোধিত এই অধ্যাদেশের আওতায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত ২৬ আগস্ট জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠন করা হয়। ২৫ সদস্যের এই কাউন্সিলের নেতৃত্বে রয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

নতুন কথা/এসআর

 

ঢাকায় নিজ বাসা থেকে জামায়াত নেতার মরদেহ উদ্ধার

নির্বাচন সামনে রেখে সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

আপডেট সময় ০৯:৩২:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সম্ভাব্য গণভোটকে সামনে রেখে দেশের সার্বিক সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। নির্বাচনকেন্দ্রিক গুজব, ভুয়া তথ্য ও সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের সভায় এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সভায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “নির্বাচনকে ঘিরে তথ্যপ্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে সব ধরনের সাইবার অপরাধ কঠোরভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।” তিনি জানান, সরকার নাগরিক সেবাগুলোকে ধাপে ধাপে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসছে। এসব ডিজিটাল সেবা নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সাইবার সুরক্ষা জোরদার করা এখন সময়ের দাবি।

নাগরিক সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে নিয়মিত সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার হালনাগাদ করতে হবে। পাশাপাশি এসব ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত জনবলকে আরও দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট জনবলকে একটি রেটিং পদ্ধতির আওতায় আনতে হবে, যাতে সাইবার সুরক্ষার প্রকৃত সক্ষমতা ও দুর্বলতা সহজে মূল্যায়ন করা যায়। বিশেষ করে আর্থিক খাতে সাইবার অপরাধ করে কেউ যেন পার পেয়ে না যায়, সে বিষয়ে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিকে বিচার বিভাগের পাশাপাশি কার্যকর ভূমিকা রাখার নির্দেশ দেন তিনি।

সভায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, ইতোমধ্যে ৩৫টি প্রতিষ্ঠানকে ‘ক্রিটিক্যাল ইনফরমেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও কিছু প্রতিষ্ঠানকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

এছাড়া আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গুজব, মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশনসহ অন্যান্য সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি ও বিটিআরসি’র মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর সভায় বলেন, ব্যাংকিং খাতে সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং আরও কিছু কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি সেক্টরাল সার্ট (CERT) গঠনের উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন।

জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের সদস্য সচিব ও জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ড. মো. তৈয়বুর রহমান পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে এজেন্সির চলমান কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং ‘সাইবার ইনসিডেন্ট রিপোর্টিং অ্যান্ড রেসপন্স সিস্টেম’-এর বিস্তারিত তুলে ধরেন।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

উল্লেখ্য, ২১ মে ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫’ প্রণয়নের পর সংশোধিত এই অধ্যাদেশের আওতায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত ২৬ আগস্ট জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠন করা হয়। ২৫ সদস্যের এই কাউন্সিলের নেতৃত্বে রয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

নতুন কথা/এসআর