ঢাকা ১২:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চীনের কাছেও হার, বিদায়ের শঙ্কায় বাংলাদেশ নারী দল গণভোট বাতিলের সঙ্গে জুলাই সনদের কোনো সম্পর্ক নেই: আইনমন্ত্রী ইরান ইস্যুতে হোয়াইট হাউস-পেন্টাগন দ্বন্দ্ব, যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন সংকটের আভাস কুষ্টিয়ায় ১৮ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু, হামের উপসর্গে উদ্বেগ বাড়ছে একদিনে দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, হরমুজ অঞ্চলে উত্তেজনা জনবল সংকটে অচল আইসিইউ, রাজশাহী বিভাগে বাড়ছে সংকট, চাপের মুখে রামেক শ্রীলঙ্কার কাছে অপ্রত্যাশিত হার, কঠিন সমীকরণে বাংলাদেশ হকি দল কুষ্টিয়ায় হামে আক্রান্ত হয়ে আট মাস বয়সী শিশুর মৃত্যু ২০০ টাকার নিচে নেই মাছ, ঈদের পরও চাপে নিত্যপণ্যের বাজার হাজারীবাগে ভাড়া বাসা থেকে ঢাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

এলপিজির বাজারে আগুন, নিয়ন্ত্রণে অসহায় বিইআরসি

হঠাৎ সরবরাহ সংকটে দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)- এর দামে যেন আগুন লেগেছে। নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করে খুচরা বাজারে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে কয়েকশ থেকে হাজার টাকা বেশি দামে। অথচ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাজার তদারকি সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কার্যত নিষ্ক্রিয়- এমন অভিযোগ উঠেছে। এমনকি কমিশনের চেয়ারম্যানও স্বীকার করেছেন, এককভাবে বিইআরসির পক্ষে এই সংকট সামাল দেওয়া সম্ভব নয়।

প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের দরের সঙ্গে সমন্বয় করে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে বিইআরসি। কিন্তু বাস্তবে সেই দামের কোনো প্রতিফলন নেই। সাধারণ সময়ে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হওয়াই নিয়মে পরিণত হয়েছে। চলমান সংকটে সেই ব্যবধান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত। আবার অনেক এলাকায় এলপিজি একেবারেই পাওয়া যাচ্ছে না।

গত সপ্তাহের শেষ দিকে হঠাৎ করেই বাজারে এলপিজির ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গত বুধবার ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার, যার সরকারি মূল্য প্রায় ১২০০ টাকা, সেটি বিক্রি হয়েছে ১৬০০ টাকায়। ডিসেম্বর মাসজুড়েই নির্ধারিত দামে এলপিজি না পাওয়ায় গ্রাহকরা এই বাড়তি দামকে প্রায় ‘স্বাভাবিক’ হিসেবেই মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন। তবে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। এই দুই দিনে রাজধানীর খুচরা বাজারে ১৮০০ টাকার নিচে এলপিজি পাওয়া যায়নি। কোনো কোনো দোকানে দাম হাঁকা হয়েছে ২২০০ টাকা পর্যন্ত।

দেশে পেট্রোলিয়ামজাত জ্বালানি তেলের দাম ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলপিজির বাজার কার্যত নিয়ন্ত্রণহীন। জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করে জ্বালানি বিভাগ এবং বাজারজাত করে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা। বিপরীতে এলপিজির পুরো বাজারটাই প্রায় বেসরকারি উদ্যোক্তাদের হাতে। সরকার ইস্টার্ন রিফাইনারির মাধ্যমে সীমিত পরিসরে যে এলপিজি সরবরাহ করে, তা মূলত জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি পর্যায়ে এলপিজির সরবরাহ বাড়ানো গেলে বাজারে সরকারের প্রভাব তৈরি হতো এবং উদ্যোক্তারা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াতে পারতেন না।

এলপিজি সংকটের পেছনে আন্তর্জাতিক কারণও রয়েছে। বাংলাদেশ সাধারণত ওমান, কাতার, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এলপিজি আমদানি করে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র এলপিজি পরিবহনকারী কয়েকটি জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় পরিবহন সংকট দেখা দিয়েছে। এতে কিছু কোম্পানি নিয়মিত এলপিজি আমদানি করতে পারছে না, যা বাজারে ঘাটতির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংকট স্বল্পমেয়াদি নাকি দীর্ঘমেয়াদি- তা এখনো স্পষ্ট নয়।

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, ‘নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ আগেও ছিল, তবে ব্যবধান এতটা ছিল না। এবারের মূল্যবৃদ্ধি অস্বাভাবিক।’ তিনি জানান, এলপিজি অ্যাসোসিয়েশনের দাবি অনুযায়ী চাহিদার তুলনায় সরবরাহ প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ কম। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জাহাজ সংকট।

তিনি আরও বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চলছে। শুক্রবারও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা করেছে।’ তবে বিষয়টি এককভাবে বিইআরসির পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা প্রয়োজন। সংকট সমাধানে জ্বালানি উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের কথাও জানান তিনি।

অন্যদিকে এলপিজি বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকদের সংগঠন লোয়াবের সহসভাপতি হুমায়ুন রশিদ বলেন, ‘আমাদের প্রধান সমস্যা দুটি- একদিকে সোর্স থেকে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না, অন্যদিকে জাহাজ সংকট।’ তিনি জানান, বিকল্প উৎস ও পরিবহন ব্যবস্থা খোঁজার চেষ্টা চলছে এবং চলতি মাসের মধ্যেই পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে আশা করছেন তারা।

 

নতুন কথা/এএস

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের কাছেও হার, বিদায়ের শঙ্কায় বাংলাদেশ নারী দল

এলপিজির বাজারে আগুন, নিয়ন্ত্রণে অসহায় বিইআরসি

আপডেট সময় ০৬:৩৮:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

হঠাৎ সরবরাহ সংকটে দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)- এর দামে যেন আগুন লেগেছে। নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করে খুচরা বাজারে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে কয়েকশ থেকে হাজার টাকা বেশি দামে। অথচ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাজার তদারকি সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কার্যত নিষ্ক্রিয়- এমন অভিযোগ উঠেছে। এমনকি কমিশনের চেয়ারম্যানও স্বীকার করেছেন, এককভাবে বিইআরসির পক্ষে এই সংকট সামাল দেওয়া সম্ভব নয়।

প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের দরের সঙ্গে সমন্বয় করে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে বিইআরসি। কিন্তু বাস্তবে সেই দামের কোনো প্রতিফলন নেই। সাধারণ সময়ে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হওয়াই নিয়মে পরিণত হয়েছে। চলমান সংকটে সেই ব্যবধান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত। আবার অনেক এলাকায় এলপিজি একেবারেই পাওয়া যাচ্ছে না।

গত সপ্তাহের শেষ দিকে হঠাৎ করেই বাজারে এলপিজির ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গত বুধবার ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার, যার সরকারি মূল্য প্রায় ১২০০ টাকা, সেটি বিক্রি হয়েছে ১৬০০ টাকায়। ডিসেম্বর মাসজুড়েই নির্ধারিত দামে এলপিজি না পাওয়ায় গ্রাহকরা এই বাড়তি দামকে প্রায় ‘স্বাভাবিক’ হিসেবেই মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন। তবে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। এই দুই দিনে রাজধানীর খুচরা বাজারে ১৮০০ টাকার নিচে এলপিজি পাওয়া যায়নি। কোনো কোনো দোকানে দাম হাঁকা হয়েছে ২২০০ টাকা পর্যন্ত।

দেশে পেট্রোলিয়ামজাত জ্বালানি তেলের দাম ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলপিজির বাজার কার্যত নিয়ন্ত্রণহীন। জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করে জ্বালানি বিভাগ এবং বাজারজাত করে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা। বিপরীতে এলপিজির পুরো বাজারটাই প্রায় বেসরকারি উদ্যোক্তাদের হাতে। সরকার ইস্টার্ন রিফাইনারির মাধ্যমে সীমিত পরিসরে যে এলপিজি সরবরাহ করে, তা মূলত জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি পর্যায়ে এলপিজির সরবরাহ বাড়ানো গেলে বাজারে সরকারের প্রভাব তৈরি হতো এবং উদ্যোক্তারা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াতে পারতেন না।

এলপিজি সংকটের পেছনে আন্তর্জাতিক কারণও রয়েছে। বাংলাদেশ সাধারণত ওমান, কাতার, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এলপিজি আমদানি করে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র এলপিজি পরিবহনকারী কয়েকটি জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় পরিবহন সংকট দেখা দিয়েছে। এতে কিছু কোম্পানি নিয়মিত এলপিজি আমদানি করতে পারছে না, যা বাজারে ঘাটতির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংকট স্বল্পমেয়াদি নাকি দীর্ঘমেয়াদি- তা এখনো স্পষ্ট নয়।

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, ‘নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ আগেও ছিল, তবে ব্যবধান এতটা ছিল না। এবারের মূল্যবৃদ্ধি অস্বাভাবিক।’ তিনি জানান, এলপিজি অ্যাসোসিয়েশনের দাবি অনুযায়ী চাহিদার তুলনায় সরবরাহ প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ কম। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জাহাজ সংকট।

তিনি আরও বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চলছে। শুক্রবারও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা করেছে।’ তবে বিষয়টি এককভাবে বিইআরসির পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা প্রয়োজন। সংকট সমাধানে জ্বালানি উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের কথাও জানান তিনি।

অন্যদিকে এলপিজি বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকদের সংগঠন লোয়াবের সহসভাপতি হুমায়ুন রশিদ বলেন, ‘আমাদের প্রধান সমস্যা দুটি- একদিকে সোর্স থেকে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না, অন্যদিকে জাহাজ সংকট।’ তিনি জানান, বিকল্প উৎস ও পরিবহন ব্যবস্থা খোঁজার চেষ্টা চলছে এবং চলতি মাসের মধ্যেই পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে আশা করছেন তারা।

 

নতুন কথা/এএস