প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর অভিবাসন নীতিতে নজিরবিহীন কঠোরতা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত এক বছরে দেশটি এক লাখেরও বেশি ভিসা বাতিল করেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। স্থানীয় সময় সোমবার (১২ জানুয়ারি) প্রকাশিত তথ্যে এ চিত্র তুলে ধরা হয়।
গত বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসন। সেই অভিযানের অংশ হিসেবেই ভিসা বাতিলের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই এক বছরে এক লাখের বেশি ভিসা বাতিল করে নতুন এক রেকর্ড তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এ সময় বহু অভিবাসীকে হাত-পা বেঁধে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ঘটনাও ঘটেছে। তাদের মধ্যে এমন লোকও ছিলেন, যাদের বৈধ ভিসা ছিল। ভিসা বাতিলের পাশাপাশি নতুন ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রেও কঠোরতা বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী অভিবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিসা বাতিল প্রসঙ্গে দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এখন পর্যন্ত এক লাখেরও বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় আট হাজার স্টুডেন্ট ভিসা রয়েছে। পাশাপাশি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরে আসা ব্যক্তিদের প্রায় দুই হাজার পাঁচশ’ বিশেষায়িত ভিসাও বাতিল করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপদ রাখতে অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের দেশ থেকে বিতাড়নের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-মুখপাত্র টমি পিগোট বলেন, ভিসা বাতিলের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে রয়েছে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, সহিংস অপরাধ এবং চুরির মতো কর্মকাণ্ড। তিনি জানান, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ভিসা বাতিলের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১৫০ শতাংশ।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর অভিবাসন নীতি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা আরও গভীর হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নতুন কথা/এসআর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 




















