ইরানজুড়ে চলমান বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন দেশটির এক সরকারি কর্মকর্তা। মঙ্গলবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান। তবে নিহতদের মধ্যে কতজন সাধারণ বিক্ষোভকারী এবং কতজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান দেননি তিনি।
ওই কর্মকর্তা বলেন, এই সহিংস পরিস্থিতির জন্য মূলত ‘সন্ত্রাসীরা’ দায়ী। তার দাবি অনুযায়ী, বিক্ষোভকারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, উভয় পক্ষের প্রাণহানির পেছনেই এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাত রয়েছে। যদিও এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ বা বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের কয়েকটি বাজারে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে ছোট পরিসরে যে বিক্ষোভ শুরু হয়, সেটিই ধীরে ধীরে দেশব্যাপী আন্দোলনে রূপ নেয়। লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, তীব্র মুদ্রাস্ফীতি এবং ইরানি রিয়ালের ব্যাপক দরপতনে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষ। ক্রমেই তারা রাস্তায় নেমে লাগাতার প্রতিবাদ শুরু করে।
গত বৃহস্পতিবার থেকে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ইরানের নির্বাসিত শেষ শাহের ছেলে রেজা পাহলভি সরকারের বিরুদ্ধে জোরালো আন্দোলনের ডাক দিলে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরের সড়ক জনসমুদ্রে পরিণত হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে তখন থেকে শত শত মানুষের মৃত্যুর খবর প্রকাশ পেতে থাকে।
এই অস্থিরতার জন্য ইরান সরকার সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। তেহরানের অভিযোগ, বিদেশি শক্তির মদদে তথাকথিত ‘সন্ত্রাসীরা’ এই আন্দোলনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সহিংসতায় রূপ দিয়েছে।
এর আগে একাধিক মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছিল, চলমান বিক্ষোভে ইতোমধ্যে শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে কয়েক দিন ধরে ইন্টারনেট বন্ধ রাখা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিতভাবে জানা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ইরানে চলমান এই বিক্ষোভ পরিস্থিতি দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নতুন কথা/এসআর
নিজস্ব সংবাদ : 



















