ঢাকা ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নাস্তায় দৈনন্দিন অভ্যাসে যেসব খাবার বদলালেই মিলবে বেশি পুষ্টি যৌন হয়রানির অভিযোগে বেরোবির দুই শিক্ষক সাময়িক বহিষ্কার নির্বাচনকে ‘পারফেক্ট’ করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: প্রধান উপদেষ্টা বিএনপি প্রার্থী কাইয়ুমের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আপিল বিভাগে নাহিদ ঐক্য সরকার নয়, একক সরকার গঠনে আশাবাদী বিএনপি: তারেক রহমান ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ শুটিং জীবনের স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে: সাবিলা নূর ঠাকুরগাঁওয়ের জনসভায় তারেক রহমান: সুযোগ পেলে গড়ব সুখী-সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ উত্তরাঞ্চলের তিন জেলায় আজ নির্বাচনী সমাবেশে তারেক রহমান কমার একদিন পরই ফের বাড়ল সোনার দাম বিএনপি ও জামায়াতের ইশতেহারে ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশনের প্রতিশ্রুতি

ঐক্য সরকার নয়, একক সরকার গঠনে আশাবাদী বিএনপি: তারেক রহমান

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৭:২২:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ঐক্য সরকার গঠনের সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিএনপি এককভাবেই সরকার গঠনে সক্ষম হবে বলে দলটি দৃঢ়ভাবে আত্মবিশ্বাসী।

শুক্রবার ঢাকায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, আমি কীভাবে আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সঙ্গে সরকার গঠন করব? তাহলে বিরোধী দলে থাকবে কারা? তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী যদি বিরোধী দলে থাকে, তাহলে তাদের কাছ থেকে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা তিনি প্রত্যাশা করেন।

প্রায় দুই দশক লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর গত ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। তরুণদের নেতৃত্বে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তার দেশে ফেরা ঘটে। উল্লেখ্য, শেখ হাসিনা ছিলেন তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এর আগে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার দেশ পরিচালনা করেছিল। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় দেশকে স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে জামায়াত ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাব দিলেও বিএনপি তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

বিএনপির শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, দলটি সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পাবে বলে তারা আশাবাদী। বিএনপি সরাসরি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে এবং বাকি আসনগুলোতে রয়েছে তাদের মিত্র দলগুলো। যদিও নির্দিষ্ট আসনসংখ্যা উল্লেখ করতে রাজি হননি তারেক রহমান, তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আমরা সরকার গঠনের মতো পর্যাপ্ত আসন পাব, এ বিষয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী।

এদিকে বিভিন্ন জনমত জরিপে বিএনপির জয়ের সম্ভাবনা উঠে এলেও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের কাছ থেকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ওই জোটে তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি নতুন রাজনৈতিক দলও রয়েছে, যারা শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলন থেকে উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক প্রসঙ্গে, ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে টানাপোড়েন বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ কোনো একটি দেশের ওপর নির্ভরশীল হতে চায় না। তিনি বলেন, আমাদের প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের জন্য অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। যে দেশ বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব সম্মান করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা দিতে আগ্রহী হবে, আমরা তাদের সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলব।

রোহিঙ্গা শরণার্থী ইস্যুতে তারেক রহমান বলেন, নিরাপদ পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অবস্থান করতে পারবে। তিনি বলেন, আমরা চাই তারা নিজ দেশে ফিরে যাক। কিন্তু পরিস্থিতি নিরাপদ না হলে তারা এখানে স্বাগত।

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছে।

নতুন কথা/এসআর

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

নাস্তায় দৈনন্দিন অভ্যাসে যেসব খাবার বদলালেই মিলবে বেশি পুষ্টি

ঐক্য সরকার নয়, একক সরকার গঠনে আশাবাদী বিএনপি: তারেক রহমান

আপডেট সময় ০৭:২২:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ঐক্য সরকার গঠনের সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিএনপি এককভাবেই সরকার গঠনে সক্ষম হবে বলে দলটি দৃঢ়ভাবে আত্মবিশ্বাসী।

শুক্রবার ঢাকায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, আমি কীভাবে আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সঙ্গে সরকার গঠন করব? তাহলে বিরোধী দলে থাকবে কারা? তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী যদি বিরোধী দলে থাকে, তাহলে তাদের কাছ থেকে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা তিনি প্রত্যাশা করেন।

প্রায় দুই দশক লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর গত ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। তরুণদের নেতৃত্বে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তার দেশে ফেরা ঘটে। উল্লেখ্য, শেখ হাসিনা ছিলেন তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এর আগে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার দেশ পরিচালনা করেছিল। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় দেশকে স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে জামায়াত ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাব দিলেও বিএনপি তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

বিএনপির শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, দলটি সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পাবে বলে তারা আশাবাদী। বিএনপি সরাসরি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে এবং বাকি আসনগুলোতে রয়েছে তাদের মিত্র দলগুলো। যদিও নির্দিষ্ট আসনসংখ্যা উল্লেখ করতে রাজি হননি তারেক রহমান, তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আমরা সরকার গঠনের মতো পর্যাপ্ত আসন পাব, এ বিষয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী।

এদিকে বিভিন্ন জনমত জরিপে বিএনপির জয়ের সম্ভাবনা উঠে এলেও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের কাছ থেকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ওই জোটে তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি নতুন রাজনৈতিক দলও রয়েছে, যারা শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলন থেকে উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক প্রসঙ্গে, ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে টানাপোড়েন বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ কোনো একটি দেশের ওপর নির্ভরশীল হতে চায় না। তিনি বলেন, আমাদের প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের জন্য অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। যে দেশ বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব সম্মান করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা দিতে আগ্রহী হবে, আমরা তাদের সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলব।

রোহিঙ্গা শরণার্থী ইস্যুতে তারেক রহমান বলেন, নিরাপদ পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অবস্থান করতে পারবে। তিনি বলেন, আমরা চাই তারা নিজ দেশে ফিরে যাক। কিন্তু পরিস্থিতি নিরাপদ না হলে তারা এখানে স্বাগত।

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছে।

নতুন কথা/এসআর