ঢাকা ০৫:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকায় নিজ বাসা থেকে জামায়াত নেতার মরদেহ উদ্ধার ত্বকের বলিরেখা কমাতে যেসব প্রাকৃতিক তেল হতে পারে ভরসা ভারতের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ আইসিসির, অবস্থানে অটল বিসিবি ইরানে নজিরবিহীন বিক্ষোভে নিহত প্রায় ২ হাজার মানুষ: সরকারি কর্মকর্তা বিএনপি নেতা ডাবলুর মৃত্যু: অভিযানে অংশ নেওয়া সব সেনাসদস্য প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি গঠন জ্বালানি সরবরাহ বড় চ্যালেঞ্জ, তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় সরকার: সালেহউদ্দিন আহমেদ আগামী নির্বাচনই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা : সালাহউদ্দিন আহমদ সবোজলাইয়ের নায়ক-খলনায়ক রাতেও বার্নসলিকে উড়িয়ে চতুর্থ রাউন্ডে লিভারপুল জীবনদর্শনের দূরত্বেই ফাটল: যে কারণে টেকেনি তাহসান-রোজার সংসার শিক্ষা শুধু চাকরির কারখানা নয়, সৃজনশীল মানুষ গড়ার পথ: প্রধান উপদেষ্টা

ঘন কুয়াশায় নাকাল শাহজালাল, লন্ডভন্ড ফ্লাইট শিডিউল

শীত মৌসুম এলেই রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দেয়। ঘন কুয়াশা তখন উড়োজাহাজের নিরাপদ অবতরণ ও উড্ডয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। চলতি শীতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কুয়াশার কারণে রানওয়ের দৃশ্যমানতা নেমে যাওয়ায় একের পর এক ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ে ঢাকায় নামতে পারছে না। বাধ্য হয়ে অনেক ফ্লাইট ডাইভার্ট করা হচ্ছে আশপাশের বিমানবন্দরগুলোতে। এতে যেমন এয়ারলাইন্সগুলোর শিডিউল লন্ডভন্ড হয়ে যাচ্ছে, তেমনি বাড়ছে যাত্রীদের ভোগান্তি।

বিমান চলাচল সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত কয়েক দিনে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের দৃশ্যমানতা ন্যূনতম নিরাপদ সীমার নিচে নেমে গেছে। এর ফলে অন্তত অর্ধশত ফ্লাইট ঢাকায় অবতরণ করতে না পেরে চট্টগ্রাম, সিলেট ও ভারতের কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। শুধু শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দিনেই ডাইভার্ট করা হয়েছে ৯টি ফ্লাইট। ঘন কুয়াশার কারণে ফ্লাইট পরিচালনায় এমন চাপের মুখে পড়ায় এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষকে বাড়তি অপারেশনাল জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে এবং এর আর্থিক প্রভাবও পড়ছে সরাসরি।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে শাহজালাল বিমানবন্দরের আইএলএস বা ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম সুবিধা অবনমনের কারণে। রানওয়ের পূর্ণাঙ্গ লাইটিং সিস্টেম কার্যকর রাখতে না পারায় বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক মানের আইএলএস ক্যাটাগরি-২ সুবিধা হারিয়ে বর্তমানে ক্যাটাগরি-১ পর্যায়ে পরিচালিত হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিমান চলাচলে। বিশেষ করে ভোর রাত ও গভীর রাতে কুয়াশা ঘন হলেই ফ্লাইটগুলো একের পর এক ঢাকায় নামতে ব্যর্থ হচ্ছে এবং বিকল্প বিমানবন্দরের দিকে ঘুরে যাচ্ছে।

আইএলএস এমন একটি প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে কম দৃশ্যমানতার মধ্যেও পাইলটরা রানওয়ের সঠিক অবস্থান নির্ণয় করে নিরাপদে বিমান অবতরণ করতে পারেন। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা আইকাও এই ব্যবস্থাকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছে। ক্যাটাগরি-১ ব্যবস্থায় সাধারণত অবতরণের জন্য কমপক্ষে ১ হাজার ২০০ মিটার দৃশ্যমানতা প্রয়োজন হয়। ক্যাটাগরি-২ সুবিধা থাকলে ৫০০ থেকে ৭৫০ মিটার দৃশ্যমানতার মধ্যেও বিমান অবতরণ সম্ভব। আর ক্যাটাগরি-৩ সুবিধা থাকলে প্রায় শূন্য দৃশ্যমানতার মধ্যেও নিরাপদ অবতরণ সম্ভব হলেও সেটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও প্রযুক্তিগতভাবে জটিল হওয়ায় বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য এখনো বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আইএলএস ক্যাটাগরি-২ সুবিধা বজায় রাখতে হলে একসঙ্গে কয়েকটি বাধ্যতামূলক টেকনিক্যাল শর্ত পূরণ করতে হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো রানওয়ের অ্যাপ্রোচ লাইট, সেন্টার লাইন লাইট ও এজ লাইটসহ পুরো লাইটিং সিস্টেমের অন্তত ৯৫ শতাংশ কার্যকর থাকা। বর্তমানে এই শর্তটি পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। রানওয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লাইটিং সিস্টেম পর্যাপ্ত কার্যকর না থাকায় কর্তৃপক্ষ ক্যাটাগরি-২ সুবিধা ধরে রাখতে পারছে না।

অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক বিমান পরিচালনা পর্ষদের সদস্য কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, বিমানবন্দর ক্যাটাগরি-২ শুধু যন্ত্র বসালেই হয় না, এটি প্রতিদিন ধরে রাখতে হয়। নিয়মিত মনিটরিং, নিরবচ্ছিন্ন রক্ষণাবেক্ষণ এবং দ্রুত ত্রুটি সমাধান না হলে সামান্য অবহেলাতেই বড় প্রভাব পড়ে। তার মতে, শীত মৌসুম শুরুর আগেই যদি লাইটিং সিস্টেমের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা ও সংস্কার করা হতো, তাহলে এমন পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব ছিল।

ক্যাটাগরি-২ সুবিধা না থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে রাত ও ভোরের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রীদের অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আকাশে চক্কর কাটতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে ফ্লাইট ঢাকায় নামতে না পেরে বিকল্প বিমানবন্দরে অবতরণ করছে। সেখান থেকে আবার বাস কিংবা অন্য ফ্লাইটে ঢাকায় ফিরতে গিয়ে সময় ও অর্থ- দুটোতেই বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। যাত্রীদের অভিযোগ, ডাইভার্টের তথ্য অনেক সময় দেরিতে জানানো হয়, ফলে অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগ আরও বাড়ে।

একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা জানান, ঘন কুয়াশার সময় আইএলএস সিস্টেম কার্যকরভাবে কাজ না করায় পাইলটরা রানওয়ে স্পষ্টভাবে দেখতে পান না। নিরাপত্তার স্বার্থে ঝুঁকি না নিয়ে অন্য বিমানবন্দরে অবতরণ করতে বাধ্য হন। এতে শিডিউল এলোমেলো হয়ে যায়, ক্রুদের সময়সূচি পুনর্বিন্যাস করতে হয় এবং অতিরিক্ত জ্বালানি ও অপারেশনাল খরচ গুনতে হয়। তার ভাষায়, একটি ফ্লাইট ডাইভার্ট হলে এর প্রভাব পরবর্তী কয়েকটি ফ্লাইটের শিডিউলেও পড়ে, যা পুরো নেটওয়ার্ক পরিকল্পনাকে চাপে ফেলে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ কাউছার মাহমুদ জানান, গত ২৯ অক্টোবর থাই এয়ারওয়েজের একটি বিমান ল্যান্ডিংয়ের সময় রানওয়ের লাইটিং সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণেই সাময়িকভাবে ক্যাটাগরি-২ থেকে ক্যাটাগরি-১-এ অবনমন করা হয়েছে। তিনি বলেন, লাইটিং সিস্টেমের যন্ত্রপাতি ব্যয়বহুল এবং বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এ জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে এবং দ্রুত লাইট স্থাপন করে ক্যাটাগরি-২ সুবিধা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান নামতে না পারায় ডাইভার্ট করা হচ্ছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।

 

নতুন কথা/এএস

ঢাকায় নিজ বাসা থেকে জামায়াত নেতার মরদেহ উদ্ধার

ঘন কুয়াশায় নাকাল শাহজালাল, লন্ডভন্ড ফ্লাইট শিডিউল

আপডেট সময় ১০:২৩:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

শীত মৌসুম এলেই রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দেয়। ঘন কুয়াশা তখন উড়োজাহাজের নিরাপদ অবতরণ ও উড্ডয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। চলতি শীতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কুয়াশার কারণে রানওয়ের দৃশ্যমানতা নেমে যাওয়ায় একের পর এক ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ে ঢাকায় নামতে পারছে না। বাধ্য হয়ে অনেক ফ্লাইট ডাইভার্ট করা হচ্ছে আশপাশের বিমানবন্দরগুলোতে। এতে যেমন এয়ারলাইন্সগুলোর শিডিউল লন্ডভন্ড হয়ে যাচ্ছে, তেমনি বাড়ছে যাত্রীদের ভোগান্তি।

বিমান চলাচল সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত কয়েক দিনে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের দৃশ্যমানতা ন্যূনতম নিরাপদ সীমার নিচে নেমে গেছে। এর ফলে অন্তত অর্ধশত ফ্লাইট ঢাকায় অবতরণ করতে না পেরে চট্টগ্রাম, সিলেট ও ভারতের কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। শুধু শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দিনেই ডাইভার্ট করা হয়েছে ৯টি ফ্লাইট। ঘন কুয়াশার কারণে ফ্লাইট পরিচালনায় এমন চাপের মুখে পড়ায় এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষকে বাড়তি অপারেশনাল জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে এবং এর আর্থিক প্রভাবও পড়ছে সরাসরি।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে শাহজালাল বিমানবন্দরের আইএলএস বা ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম সুবিধা অবনমনের কারণে। রানওয়ের পূর্ণাঙ্গ লাইটিং সিস্টেম কার্যকর রাখতে না পারায় বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক মানের আইএলএস ক্যাটাগরি-২ সুবিধা হারিয়ে বর্তমানে ক্যাটাগরি-১ পর্যায়ে পরিচালিত হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিমান চলাচলে। বিশেষ করে ভোর রাত ও গভীর রাতে কুয়াশা ঘন হলেই ফ্লাইটগুলো একের পর এক ঢাকায় নামতে ব্যর্থ হচ্ছে এবং বিকল্প বিমানবন্দরের দিকে ঘুরে যাচ্ছে।

আইএলএস এমন একটি প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে কম দৃশ্যমানতার মধ্যেও পাইলটরা রানওয়ের সঠিক অবস্থান নির্ণয় করে নিরাপদে বিমান অবতরণ করতে পারেন। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা আইকাও এই ব্যবস্থাকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছে। ক্যাটাগরি-১ ব্যবস্থায় সাধারণত অবতরণের জন্য কমপক্ষে ১ হাজার ২০০ মিটার দৃশ্যমানতা প্রয়োজন হয়। ক্যাটাগরি-২ সুবিধা থাকলে ৫০০ থেকে ৭৫০ মিটার দৃশ্যমানতার মধ্যেও বিমান অবতরণ সম্ভব। আর ক্যাটাগরি-৩ সুবিধা থাকলে প্রায় শূন্য দৃশ্যমানতার মধ্যেও নিরাপদ অবতরণ সম্ভব হলেও সেটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও প্রযুক্তিগতভাবে জটিল হওয়ায় বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য এখনো বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আইএলএস ক্যাটাগরি-২ সুবিধা বজায় রাখতে হলে একসঙ্গে কয়েকটি বাধ্যতামূলক টেকনিক্যাল শর্ত পূরণ করতে হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো রানওয়ের অ্যাপ্রোচ লাইট, সেন্টার লাইন লাইট ও এজ লাইটসহ পুরো লাইটিং সিস্টেমের অন্তত ৯৫ শতাংশ কার্যকর থাকা। বর্তমানে এই শর্তটি পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। রানওয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লাইটিং সিস্টেম পর্যাপ্ত কার্যকর না থাকায় কর্তৃপক্ষ ক্যাটাগরি-২ সুবিধা ধরে রাখতে পারছে না।

অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক বিমান পরিচালনা পর্ষদের সদস্য কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, বিমানবন্দর ক্যাটাগরি-২ শুধু যন্ত্র বসালেই হয় না, এটি প্রতিদিন ধরে রাখতে হয়। নিয়মিত মনিটরিং, নিরবচ্ছিন্ন রক্ষণাবেক্ষণ এবং দ্রুত ত্রুটি সমাধান না হলে সামান্য অবহেলাতেই বড় প্রভাব পড়ে। তার মতে, শীত মৌসুম শুরুর আগেই যদি লাইটিং সিস্টেমের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা ও সংস্কার করা হতো, তাহলে এমন পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব ছিল।

ক্যাটাগরি-২ সুবিধা না থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে রাত ও ভোরের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রীদের অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আকাশে চক্কর কাটতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে ফ্লাইট ঢাকায় নামতে না পেরে বিকল্প বিমানবন্দরে অবতরণ করছে। সেখান থেকে আবার বাস কিংবা অন্য ফ্লাইটে ঢাকায় ফিরতে গিয়ে সময় ও অর্থ- দুটোতেই বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। যাত্রীদের অভিযোগ, ডাইভার্টের তথ্য অনেক সময় দেরিতে জানানো হয়, ফলে অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগ আরও বাড়ে।

একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা জানান, ঘন কুয়াশার সময় আইএলএস সিস্টেম কার্যকরভাবে কাজ না করায় পাইলটরা রানওয়ে স্পষ্টভাবে দেখতে পান না। নিরাপত্তার স্বার্থে ঝুঁকি না নিয়ে অন্য বিমানবন্দরে অবতরণ করতে বাধ্য হন। এতে শিডিউল এলোমেলো হয়ে যায়, ক্রুদের সময়সূচি পুনর্বিন্যাস করতে হয় এবং অতিরিক্ত জ্বালানি ও অপারেশনাল খরচ গুনতে হয়। তার ভাষায়, একটি ফ্লাইট ডাইভার্ট হলে এর প্রভাব পরবর্তী কয়েকটি ফ্লাইটের শিডিউলেও পড়ে, যা পুরো নেটওয়ার্ক পরিকল্পনাকে চাপে ফেলে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ কাউছার মাহমুদ জানান, গত ২৯ অক্টোবর থাই এয়ারওয়েজের একটি বিমান ল্যান্ডিংয়ের সময় রানওয়ের লাইটিং সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণেই সাময়িকভাবে ক্যাটাগরি-২ থেকে ক্যাটাগরি-১-এ অবনমন করা হয়েছে। তিনি বলেন, লাইটিং সিস্টেমের যন্ত্রপাতি ব্যয়বহুল এবং বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এ জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে এবং দ্রুত লাইট স্থাপন করে ক্যাটাগরি-২ সুবিধা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান নামতে না পারায় ডাইভার্ট করা হচ্ছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।

 

নতুন কথা/এএস