এক রাতে নায়কও তিনি, আবার এক মুহূর্তের ভুলে খলনায়ক- ডোমিনিক সবোজলাইয়ের এমন রোলার-কোস্টার পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়েই এফএ কাপের চতুর্থ রাউন্ডে জায়গা করে নিল লিভারপুল। তৃতীয় স্তরের দল বার্নসলিকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ঘরের মাঠ অ্যানফিল্ডে প্রত্যাশিত বড় জয় পেয়েছে অলরেডরা।
সোমবার রাতে ম্যাচের নবম মিনিটেই দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে লিভারপুলকে এগিয়ে দেন হাঙ্গেরিয়ান মিডফিল্ডার সবোজলাই। গোলটি ছিল চোখ ধাঁধানো- অ্যানফিল্ড গ্যালারিকে মুহূর্তেই উচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে দেয়। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় স্বাগতিকরা। ৩৬ মিনিটে এফএ কাপে অভিষেক ম্যাচেই গোলের খাতা খুলে বসেন ডানপ্রান্তের ডিফেন্ডার জেরেমি ফ্রিমপং, লিভারপুলের লিড আরও বাড়ান তিনি।
তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকে অপ্রত্যাশিত নাটক। ৪০ মিনিটে গোলরক্ষক জর্জি মামারদাশভিলিকে ব্যাকহিল পাস দিতে গিয়ে মারাত্মক ভুল করে বসেন সবোজলাই। সেই বল সরাসরি চলে যায় প্রতিপক্ষ মিডফিল্ডার অ্যাডাম ফিলিপসের পায়ে। লিভারপুল একাডেমির সাবেক এই খেলোয়াড় সুযোগটি কাজে লাগিয়ে ব্যবধান কমান, ম্যাচে সাময়িক উত্তেজনা ফেরান বার্নসলির জন্য।
দ্বিতীয়ার্ধে লিভারপুল একের পর এক আক্রমণ শানালেও বেশ কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়া করে। ম্যাচের ভাগ্য তখনও পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। শেষ পর্যন্ত ৮৪ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় ফ্লোরিয়ান ভির্টজ এসে স্বস্তি ফেরান অ্যানফিল্ডে। ডান দিক থেকে বাঁকানো নিখুঁত শটে তিনি ব্যবধান বাড়িয়ে ৩-১ করেন। আর যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে ভির্টজের বাড়ানো বল থেকে হুগো একিতিকে জালের দেখা পেলে বার্নসলির প্রতিরোধ পুরোপুরি ভেঙে পড়ে।
ম্যাচ শেষে নিজের ভুল নিয়ে হতাশা গোপন করেননি সবোজলাই। তিনি বলেন, ‘একটি ভুলেই আমরা ম্যাচটা নিজেরাই কঠিন করে ফেলেছিলাম। ফুটবলে এমন হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমরা জিতেছি এবং পরের রাউন্ডে উঠেছি। এই পথে এগোতে পুরো স্কোয়াডের সবাইকে আমাদের প্রয়োজন।’
নাটক, ভুল আর দুর্দান্ত ফুটবলের মিশেলে এমন এক রাতেই আবারও প্রমাণ হলো- লিভারপুল জানে কীভাবে শেষ হাসি হাসতে হয়।
নতুন কথা/এসআর
স্পোর্টস্ ডেস্ক 























