ঢাকা ০১:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজের আহ্বান রাষ্ট্রপতির ঈদুল আজহায় তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানালেন নরেন্দ্র মোদি গোপালগঞ্জে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে ৫ নিহত, আহত অন্তত ১০ ঈদুল আজহা: ত্যাগের চেতনায় মানবতার পুনর্জাগরণ ঈদুল আজহায় দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন ‘নতুন কথা’র সম্পাদক মাজেদা রহমান শারমিন জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত আত্মত্যাগের বার্তা নিয়ে এলো পবিত্র ঈদুল আজহা নজরুল জন্মজয়ন্তীতে যোগ দিতে আজ ময়মনসিংহে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নিষ্পাপ মুখগুলোর নীরব আর্তনাদ ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবির পরিচালক হচ্ছেন ৪ জন

রাতে মোজা পরে ঘুমানো, আরাম নাকি ঝুঁকি?

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৯:১৯:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৪ বার পড়া হয়েছে

হাড়কাঁপানো শীতে রাতে ঘুমাতে গিয়ে অনেকেরই সবচেয়ে বড় সমস্যা হয় ঠান্ডা পা। লেপ-কম্বল গায়ে দিয়েও পা গরম না হওয়ায় অনেকেই মোজা পরে ঘুমানোর অভ্যাস করেন। কারও কাছে এটি স্বস্তির, আবার কারও মনে প্রশ্ন? এই অভ্যাস কি শরীরের জন্য আদৌ ভালো? চিকিৎসকদের মতে, সঠিকভাবে মোজা ব্যবহার করলে এর কিছু উপকারিতা রয়েছে, তবে অসতর্ক হলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকরও হতে পারে।

চিকিৎসা গবেষণায় দেখা গেছে, রাতে পা উষ্ণ থাকলে শরীরের রক্তনালীগুলো প্রসারিত হয়। এতে মস্তিষ্কে একটি স্বাভাবিক সংকেত যায় যে শরীর এখন বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত। ফলে দ্রুত ঘুম আসে এবং ঘুমের গভীরতাও বাড়তে পারে। বিশেষ করে যারা শীতকালে অনিদ্রার সমস্যায় ভোগেন, তাদের ক্ষেত্রে মোজা পরে ঘুমানো কিছুটা সহায়ক হতে পারে।

শীতকালে পায়ের ত্বক শুষ্ক হয়ে ফাটা ধরার সমস্যাও অনেকের পরিচিত। রাতে ঘুমানোর আগে পায়ে ময়েশ্চারাইজার বা ক্রিম লাগিয়ে পরিষ্কার মোজা পরলে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখা যায়। এতে পায়ের চামড়া নরম থাকে এবং গোড়ালি ফাটার ঝুঁকিও কমে। পাশাপাশি যাদের ঠান্ডায় আঙুল নীল হয়ে যাওয়া বা অবশ লাগার প্রবণতা রয়েছে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে রেনল্ডস ডিজিজ বলা হয়, তাদের জন্যও মোজা উপকারী হতে পারে, কারণ এটি পায়ে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

তবে মোজা পরে ঘুমানোর কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খুব টাইট বা শক্ত ইলাস্টিকযুক্ত মোজা পায়ে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে পায়ে ঝিঁঝিঁ ধরা, অস্বস্তি কিংবা ফোলা ভাব দেখা দিতে পারে। আবার সারাদিন ব্যবহৃত বা অপরিষ্কার মোজা পরে ঘুমালে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকজনিত সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে সিন্থেটিক কাপড়ের মোজায় পা অতিরিক্ত ঘেমে দুর্গন্ধ ও চর্মরোগের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গরম মোজা শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে অস্বস্তির কারণও হতে পারে।

চিকিৎসকেরা বলছেন, শীতে মোজা পরে ঘুমাতে চাইলে কিছু সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। ঢিলেঢালা সুতির বা নরম উলের মোজা সবচেয়ে নিরাপদ। ঘুমানোর জন্য আলাদা পরিষ্কার ও শুকনো মোজা ব্যবহার করা উচিত, দিনের বেলা বাইরে ব্যবহৃত মোজা কখনোই বিছানায় পরা ঠিক নয়। ঘুমানোর আগে পা ভালোভাবে ধুয়ে মুছে শুকিয়ে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। যাদের মোজা পরলে অস্বস্তি লাগে, তারা বিকল্প হিসেবে ঘুমানোর আগে কুসুম গরম পানিতে পা ধুয়ে নিতে পারেন অথবা বিছানায় গরম পানির ব্যাগ ব্যবহার করতে পারেন।

সব মিলিয়ে বলা যায়, রাতে মোজা পরে ঘুমানো নিজে থেকে ক্ষতিকর নয়। তবে মোজার ধরন, পরিচ্ছন্নতা এবং ব্যবহারবিধি ঠিক না হলে আরামের বদলে তা সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সচেতন থাকলেই শীতের রাতে উষ্ণতা আর স্বস্তি দুটোই পাওয়া সম্ভব।

নতুন কথা/এসআর

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

রাতে মোজা পরে ঘুমানো, আরাম নাকি ঝুঁকি?

আপডেট সময় ০৯:১৯:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

হাড়কাঁপানো শীতে রাতে ঘুমাতে গিয়ে অনেকেরই সবচেয়ে বড় সমস্যা হয় ঠান্ডা পা। লেপ-কম্বল গায়ে দিয়েও পা গরম না হওয়ায় অনেকেই মোজা পরে ঘুমানোর অভ্যাস করেন। কারও কাছে এটি স্বস্তির, আবার কারও মনে প্রশ্ন? এই অভ্যাস কি শরীরের জন্য আদৌ ভালো? চিকিৎসকদের মতে, সঠিকভাবে মোজা ব্যবহার করলে এর কিছু উপকারিতা রয়েছে, তবে অসতর্ক হলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকরও হতে পারে।

চিকিৎসা গবেষণায় দেখা গেছে, রাতে পা উষ্ণ থাকলে শরীরের রক্তনালীগুলো প্রসারিত হয়। এতে মস্তিষ্কে একটি স্বাভাবিক সংকেত যায় যে শরীর এখন বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত। ফলে দ্রুত ঘুম আসে এবং ঘুমের গভীরতাও বাড়তে পারে। বিশেষ করে যারা শীতকালে অনিদ্রার সমস্যায় ভোগেন, তাদের ক্ষেত্রে মোজা পরে ঘুমানো কিছুটা সহায়ক হতে পারে।

শীতকালে পায়ের ত্বক শুষ্ক হয়ে ফাটা ধরার সমস্যাও অনেকের পরিচিত। রাতে ঘুমানোর আগে পায়ে ময়েশ্চারাইজার বা ক্রিম লাগিয়ে পরিষ্কার মোজা পরলে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখা যায়। এতে পায়ের চামড়া নরম থাকে এবং গোড়ালি ফাটার ঝুঁকিও কমে। পাশাপাশি যাদের ঠান্ডায় আঙুল নীল হয়ে যাওয়া বা অবশ লাগার প্রবণতা রয়েছে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে রেনল্ডস ডিজিজ বলা হয়, তাদের জন্যও মোজা উপকারী হতে পারে, কারণ এটি পায়ে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

তবে মোজা পরে ঘুমানোর কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খুব টাইট বা শক্ত ইলাস্টিকযুক্ত মোজা পায়ে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে পায়ে ঝিঁঝিঁ ধরা, অস্বস্তি কিংবা ফোলা ভাব দেখা দিতে পারে। আবার সারাদিন ব্যবহৃত বা অপরিষ্কার মোজা পরে ঘুমালে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকজনিত সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে সিন্থেটিক কাপড়ের মোজায় পা অতিরিক্ত ঘেমে দুর্গন্ধ ও চর্মরোগের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গরম মোজা শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে অস্বস্তির কারণও হতে পারে।

চিকিৎসকেরা বলছেন, শীতে মোজা পরে ঘুমাতে চাইলে কিছু সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। ঢিলেঢালা সুতির বা নরম উলের মোজা সবচেয়ে নিরাপদ। ঘুমানোর জন্য আলাদা পরিষ্কার ও শুকনো মোজা ব্যবহার করা উচিত, দিনের বেলা বাইরে ব্যবহৃত মোজা কখনোই বিছানায় পরা ঠিক নয়। ঘুমানোর আগে পা ভালোভাবে ধুয়ে মুছে শুকিয়ে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। যাদের মোজা পরলে অস্বস্তি লাগে, তারা বিকল্প হিসেবে ঘুমানোর আগে কুসুম গরম পানিতে পা ধুয়ে নিতে পারেন অথবা বিছানায় গরম পানির ব্যাগ ব্যবহার করতে পারেন।

সব মিলিয়ে বলা যায়, রাতে মোজা পরে ঘুমানো নিজে থেকে ক্ষতিকর নয়। তবে মোজার ধরন, পরিচ্ছন্নতা এবং ব্যবহারবিধি ঠিক না হলে আরামের বদলে তা সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সচেতন থাকলেই শীতের রাতে উষ্ণতা আর স্বস্তি দুটোই পাওয়া সম্ভব।

নতুন কথা/এসআর