বার্ধক্য জীবনের স্বাভাবিক নিয়ম। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে বলিরেখা পড়বে, এটাই স্বাভাবিক। তবে সঠিক যত্ন আর প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহার ত্বকের এই পরিবর্তনকে অনেকটাই ধীর করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু প্রাকৃতিক তেলে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের কোষকে সুরক্ষা দেয়, আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং বলিরেখা কমাতে সহায়তা করে। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক হয়ে ওঠে আরও মসৃণ ও উজ্জ্বল।
জোজোবা তেল
ত্বকের যত্নে জোজোবা তেলকে সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর তেলগুলোর একটি বলা হয়। এই তেলের গঠন অনেকটাই ত্বকের প্রাকৃতিক সিবামের মতো হওয়ায় এটি প্রায় সব ধরনের ত্বকের জন্যই উপযোগী। জোজোবা তেল ত্বককে গভীরভাবে হাইড্রেট করে এবং অতিরিক্ত তেল উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এতে থাকা প্রাকৃতিক ভিটামিন ই ত্বকের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে, ফলে বলিরেখা পড়ার ঝুঁকি কমে।
এসেনশিয়াল অয়েল
কিছু এসেনশিয়াল অয়েলের বার্ধক্য প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। ল্যাভেন্ডার তেল ত্বকের ক্ষত সারাতে সহায়তা করে, রোজমেরি তেল রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে ত্বককে সতেজ রাখে, আর চন্দন তেল ত্বককে ভেতর থেকে আর্দ্র করে তোলে। তবে এসব তেল সরাসরি ত্বকে ব্যবহার করা উচিত নয়। নারকেল তেল, অলিভ অয়েল বা অন্য কোনো ক্যারিয়ার অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করাই নিরাপদ।
অলিভ অয়েল
রান্নাঘরের পরিচিত উপাদান অলিভ অয়েল ত্বকের যত্নেও দারুণ কার্যকর। এতে থাকা পলিফেনল, বিশেষ করে ওলিওক্যান্থাল ও ওলিএসিন ত্বকের বার্ধক্য প্রক্রিয়া ধীর করতে সাহায্য করে। অলিভ অয়েল ত্বককে গভীরভাবে ময়েশ্চারাইজ করে, শুষ্কতা কমায় এবং বলিরেখা হালকা করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
ভিটামিন ই তেল
ত্বকের জন্য ভিটামিন ই অন্যতম শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি ফ্রি র্যাডিকেলের ক্ষতিকর প্রভাব কমায়, ত্বকের কোষ মেরামত করে এবং অকাল বার্ধক্য রোধে সহায়তা করে। সাধারণত ভিটামিন ই তেল অন্য কোনো ক্যারিয়ার অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা হয়। রাতে ঘুমানোর আগে এটি ব্যবহার করলে ত্বক ধীরে ধীরে তেল শোষণ করতে পারে এবং ভালো ফল পাওয়া যায়।
ত্বকের যত্নে এসব প্রাকৃতিক তেল নিয়মিত ও সঠিকভাবে ব্যবহার করলে বলিরেখা কমানোর পাশাপাশি ত্বক থাকবে আরও স্বাস্থ্যবান ও প্রাণবন্ত। তবে নতুন কোনো তেল ব্যবহার করার আগে অল্প জায়গায় পরীক্ষা করে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
নতুন কথা/এসআর
নিজস্ব সংবাদ : 

























