শিক্ষা খাতকে জাতীয় উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে না আনলে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন নতুন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, দেশের বাজেটে শিক্ষার বরাদ্দ এখনো জিডিপির তুলনায় খুব কম; তাই প্রথমে রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে এরপর বরাদ্দ বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, অতীতে শিক্ষা খাতকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ফলে জাতীয় বাজেটে শিক্ষার বরাদ্দ জিডিপির আনুপাতিক হিসাবে প্রায় ২ শতাংশের কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় অনেক কম। তার মতে, এই হার অন্তত ৫ থেকে ৬ শতাংশে উন্নীত করা প্রয়োজন, যাতে শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং গবেষণাভিত্তিক শিক্ষার বিস্তার সম্ভব হয়।
তিনি আরও বলেন, একটি রাষ্ট্রের সূচনালগ্নে খাদ্য নিরাপত্তা ও নিরাপত্তা খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া স্বাভাবিক হলেও স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পরও যদি শিক্ষা খাত সর্বোচ্চ গুরুত্ব না পায়, তাহলে তা হতাশাজনক। আগে আমাদের ঠিক করতে হবে আমরা কী চাই। অগ্রাধিকার ঠিক না করলে বাজেট বণ্টনেও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না, যোগ করেন তিনি।
পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার তুলনায়ও বাংলাদেশের শিক্ষাবাজেট কম। তার ভাষায়, বড় বিশেষজ্ঞ না হলেও বোঝা যায়, শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানো ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
পাঠ্যক্রম বা কারিকুলাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে বিভিন্ন সময়ে পাঠ্যক্রম পরিবর্তন হয়েছে এবং তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনাও হয়েছে। ভবিষ্যতে যেকোনো পরিবর্তন বাস্তবতা, প্রয়োজন এবং শিক্ষাবিদ-বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে করা হবে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সমন্বিত পরিকল্পনা ও বাস্তবমুখী নীতির মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব হবে।
নতুন কথা/এসআর
নিজস্ব সংবাদ : 



















