ঢাকা ০১:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চীনের কাছেও হার, বিদায়ের শঙ্কায় বাংলাদেশ নারী দল গণভোট বাতিলের সঙ্গে জুলাই সনদের কোনো সম্পর্ক নেই: আইনমন্ত্রী ইরান ইস্যুতে হোয়াইট হাউস-পেন্টাগন দ্বন্দ্ব, যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন সংকটের আভাস কুষ্টিয়ায় ১৮ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু, হামের উপসর্গে উদ্বেগ বাড়ছে একদিনে দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, হরমুজ অঞ্চলে উত্তেজনা জনবল সংকটে অচল আইসিইউ, রাজশাহী বিভাগে বাড়ছে সংকট, চাপের মুখে রামেক শ্রীলঙ্কার কাছে অপ্রত্যাশিত হার, কঠিন সমীকরণে বাংলাদেশ হকি দল কুষ্টিয়ায় হামে আক্রান্ত হয়ে আট মাস বয়সী শিশুর মৃত্যু ২০০ টাকার নিচে নেই মাছ, ঈদের পরও চাপে নিত্যপণ্যের বাজার হাজারীবাগে ভাড়া বাসা থেকে ঢাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবি, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১০:৫৮:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে বাসডুবির মর্মান্তিক ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ জনে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ১১ জন নারী, ৮ শিশু এবং ৪ জন পুরুষ। ইতোমধ্যে ২১ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) তাপস কুমার পাল এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মো. হাফিজুর রহমান।

জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, গোপালগঞ্জ, দিনাজপুর, ঢাকা ও ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুদের সংখ্যাই বেশি, যা এ দুর্ঘটনার ভয়াবহতাকে আরও গভীর করে তুলেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে অধিকাংশ মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, আর বাকি দুজনের মরদেহ তাদের পরিবারের সদস্যরা এলে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মো. হাফিজুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয় এবং এখন পর্যন্ত ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রাতেই ২১ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এর আগে বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পন্টুনে দুর্ঘটনাটি ঘটে। কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এতে মুহূর্তেই তৈরি হয় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পুলিশ উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। রাতভর চলে তল্লাশি অভিযান। তবে হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

এই দুর্ঘটনা ফেরিঘাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘাটে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে।

একটি উৎসবমুখর সময়ের মাঝেই এমন দুর্ঘটনা গোটা অঞ্চলে শোকের আবহ তৈরি করেছে। স্বজন হারানোর বেদনায় ভেঙে পড়েছেন নিহতদের পরিবার-পরিজন, আর পুরো দেশ শোকাহত এই মর্মান্তিক ঘটনায়।

নতুন কথা/এসআর

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের কাছেও হার, বিদায়ের শঙ্কায় বাংলাদেশ নারী দল

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবি, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩

আপডেট সময় ১০:৫৮:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে বাসডুবির মর্মান্তিক ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ জনে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ১১ জন নারী, ৮ শিশু এবং ৪ জন পুরুষ। ইতোমধ্যে ২১ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) তাপস কুমার পাল এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মো. হাফিজুর রহমান।

জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, গোপালগঞ্জ, দিনাজপুর, ঢাকা ও ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুদের সংখ্যাই বেশি, যা এ দুর্ঘটনার ভয়াবহতাকে আরও গভীর করে তুলেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে অধিকাংশ মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, আর বাকি দুজনের মরদেহ তাদের পরিবারের সদস্যরা এলে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মো. হাফিজুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয় এবং এখন পর্যন্ত ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রাতেই ২১ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এর আগে বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পন্টুনে দুর্ঘটনাটি ঘটে। কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এতে মুহূর্তেই তৈরি হয় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পুলিশ উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। রাতভর চলে তল্লাশি অভিযান। তবে হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

এই দুর্ঘটনা ফেরিঘাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘাটে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে।

একটি উৎসবমুখর সময়ের মাঝেই এমন দুর্ঘটনা গোটা অঞ্চলে শোকের আবহ তৈরি করেছে। স্বজন হারানোর বেদনায় ভেঙে পড়েছেন নিহতদের পরিবার-পরিজন, আর পুরো দেশ শোকাহত এই মর্মান্তিক ঘটনায়।

নতুন কথা/এসআর